ষ্টাফ রিপোটার : কাওরান বাজার কারপার্কিং নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন এর প্রধন সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম মহামান্য হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে ব্যাপক অনিয়ম ও দুনীতি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সূত্র মতে জানা যায়, ঝরর্ণা বেগম, জান্নাত ট্রেডার্স এর স্বত্তাধীকারী কাওরান বাজার কারপার্কিং ইজারার জন্য ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন দরপত্র আহবানে অংশ গ্রহণ করে। উক্ত দরপত্রে জান্নাত ট্রেডাসের স্বত্ত্বাধিকারী ঝর্না বেগম অংশগ্রহণ করে এবং সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে মনোনীত হয়। এমনকি সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়া স্বত্ত্বেও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার ইচ্ছা পূরণ করতে না পারায় উক্ত প্রতিষ্ঠানকে ইজারা প্রদান করেননি। এমনকি প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা নিজের স্বার্থের জন্য বিভিন্ন ভাবে ছলনা করে নিজেরাই কালেকশন করেন বিগত ২ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ইং তারিখ হতে অদ্যাবধি পর্যন্ত বিভিন্ন অজুহাতে জান্নাত ট্রেডাসের স্বত্ত্বাধিকারী ঝর্না বেগম এর সাথে বিভিন্ন রকম তাল বাহানা করছে। প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা অসৎ উদ্দেশ্যের কারণে ঝর্ণবেগমের দর দাতার পরিমাণ সমন্বয় করলে দেখা যায় সিটি কর্পোরেশন এর ৫৪ লক্ষ টাকা ক্ষতি সাধন হয়। বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায় প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম ধাম্ভিকতার সাথে বলে বেড়ায় তিনি সিটি কর্পোরেশনে থাকাবস্থায় জান্নাত ট্রেডাস সর্বোচ্চ দরদাতা হোক বা যাহা কিছু হোক কাওরান বাজার কারপার্কিং ইজারা উক্ত প্রতিষ্ঠানকে দেওয়া হবে না। ঝর্না বেগম আবারো বিগত ০৭/০৮/২০১৭ইং তারিখ দরপত্র দাখিল করে। ১৩/০৮/২০১৭ইং তারিখ মূল্যায়ণ কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক সর্বোচ্চ দরদাতা মনোনীত হয় জান্নাত ট্রেডাস। এরপরও জান্নাত ট্রেডার্সকে অবগত না করে গোপনে অন্য প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে ১৫ দিনের জন্য খাস কালেকশন নিযুক্ত করেন। যাহা জান্নাত ট্রেডার্স এর স্বত্ত্বাধীকারীর দরদাতা সমন্বয় করলে দেখা যায় ১৫ দিনের জন্য সিটি কর্পোরেশন এর ৩ লক্ষ টাকা ক্ষতি সাধন করেছে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। বিগত ১০/১০/২০১৭ইং তারিখ জান্নাত ট্রেডার্স এর স্বত্ত্বাধীকারী ঝর্না বেগমকে ইজারার অবশিষ্ট টাকা চেয়ে চিঠি দেওয়ার পর ঝর্না বেগম এর আর্থিক সমস্যার কথা জানিয়ে ১২ কিস্তি করে দেওয়ার জন্য অত্র বিভাগে আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট বিভাগ তাহা গ্রহণ করেননি। ফলে ঝর্না বেগম মহামান্য হাইকোর্টের স্বরণাপন্ন হয়ে একটি রিট পিটিশন দায়ের করে যার নং- ১৪২১০/২০১৭ তাহা মঞ্জুর করেন এবং হাইকোর্ট ৪ সপ্তাহের জন্য সিটি কর্পোরেশনের প্রতি রুল জারি করেন। উক্ত আদেশের প্রেক্ষিতে সিটি কর্পোরেশনের অনুকূলে প্রথম কিস্তির ৮,৭৫,১২৫ টাকা জমা দেওয়া হয়। এবং গত ২২/১০/২০১৭ইং তারিখে জান্নাত ট্রেডার্সের স্বত্ত্বাধিকারীর অনুকূলে কাওরান বাজার কারপার্কিং এলাকা সরেজমিনে হস্তান্তর করার জন্য আবেদন করে বিগত ২৬/১০/২০১৭ইং তারিখে। জান্নাত ট্রেডার্সকে অবগত না করে আবারও প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তার পছন্দের প্রতিষ্ঠানকে অবৈধ অর্থের বিনিময়ে এক মাসের জন্য নিযুক্ত করেন। যার কারণে জান্নাত ট্রেডার্স প্রতিষ্ঠানটি ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। সূত্র মতে আরো জানা যায় যে, কাওরান বাজার কারপার্কিং ইজারাদারকে হয়রানি করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছে প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম। তিনি একদিকে ইজাদার ঝর্না বেগমকে অর্থনৈতিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করার জন্য নানাহপন্থা করে আসছে। অন্যদিকে ইজারার বিষয়ে জান্নত ট্রেডার্সকে মূলা ঝুলিয়ে রেখেছে। অন্যদিকে সিটি কর্পোরেশনের চেইনম্যান মাহফুজকে দিয়ে খাসের মাধ্যমে কাওরান বাজার প্রগতি সংঘকে দিয়ে দাপটের সহিত নিয়ম বহির্ভূতভাবে মোটা অংকের টাকা কামিয়ে নিচ্ছে। যেমন প্রতি ট্রাক হতে ৩০০/৪০০/৫০০ টাকা প্রতিদিন টোলের টাকা আদায় করে। প্রতি ১ ঘন্টা মোটর সাইকেল ৫ টাকার স্থলে ১৫/২০ টাকা, সাইকেল ২ টাকার স্থলে ৪/৫ টাকা আদায় করেন। কাওরান বাজারের ভোক্তভূগিরা জানায় তাদের উপর বল প্রয়োগ করে বর্তমানে টোলের টাকা আদায় করে থাকে বর্তমানে খাসের মাধ্যমে। সিটি কর্পোরেশন সূত্রে জানা যায় কাওরান বাজার কারপার্কিং এর টোলের আদায়কৃত টাকার কিছু অংশ সিটি কর্পোরেশনে জমা দিয়ে বাকি টাকা তারাই আত্মসাৎ করেন। উক্ত কারপার্কিয়ের বিষয় হাইকোর্টে একাধিক মামলা বিচারাধীন থাকার পরও প্রধানা সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বার বার কারপার্কিয়ের জায়গাটি ইজারা দেওয়ার জন্য টেন্ডার আহ্বান করেছেন এবং ইজারা দিচ্ছেন, ইজার নাটক করে নিজস্ব লোক নিয়োগ দিয়ে ইজারার টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন। হাইকোর্টের মামলাগুলি হলো রিট পিটিশন নং ১৩৪৯ তাং ১/৮/২০১৭, পিটিশন মামলা নং ৪৩৩৮/২০১৭, পিটিশন মামলা নং ১৩৫১/২০১৭, পিটিশন মামলা নং ২৮৩/২০১৭, পিটিশন মামলা নং ৩৭৭১/২০১৭। বিগত ২/২/২০১৭ ইং তারিখে কাওরান বাজার কারপার্কিং ইজারা দেওয়ার সময় শেরপুর বাণিজ্যালয়ের মালিক মতিন মৃধার নিকট থেকে ২৮ লক্ষ টাকা উৎকোচ গ্রহন করে। কাওরান বাজার প্রগতি সঙ্গের চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেন কে কাজ পাইয়া দিবে বলে ১০ লক্ষ টাকা, যুব লীগের এক নেতা থেকে বিসি ফারুকের মাধ্যমে ৮ লক্ষ টাকা নেয় বলে একটি সুত্র থেকে জানা গেছে। প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্ত কাওরান বাজারের বিভিন্ন ফুটপাতে অস্থায়ী দোকান মৌখিক ভাবে বরাদ্দ দিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছে বলে জানা গেছে। কাওরান বাজার যুবলীগের অফিস ভেঙ্গে দিয়ে প্রগতি সঙ্গ নামে একটি সংগঠনের নিকট ইজারা দিয়েছে বলে একটি সুত্র থেকে জানা গেছে। প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বিগত ২০/৫-২০১৪ ইং সালে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে যোগদান করে। অদ্যাবদি সে স্ব^পদে বহাল আছে। ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনে গাবতলী গরুরহাট, মোহাম্মদ পুর গরুরহাট ও আফতাব নগরের গরুরহাট ও বিভিন্ন এলাকার কারপাকিংয়ের ইজারা দিয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। উক্ত টাকা সে বিদেশে পাচার করছে বলে একটি সুত্র থেকে জানা গেছে। প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম এর দুর্ণীতির বিষয় দুর্নীতি দমন কমিশন সহ সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার হস্তক্ষেপ একান্ত প্রয়োজন।

