আনোয়ার হোসেন আনু,কুয়াকাটাঃ প্রতিবন্ধী সোবাহান রাতে নিজ ঘরে লেপ মুড়ি দিয়ে একা ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে একই এলাকার কালাম মৃধা, শহিদ মৃধা, জাকির ডাকুয়া, মাসুদ ও জলিল তাদের ঘরে ঢুকে তার পিতা সুলতান মৃধাকে ভেবে এলোপাথারি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে।
এতে সোবাহানের ডান কান ও ঘাড়ে রক্তাক্ত জখম হয়। তার মা বানেছা বিবি সকালে তার চাচার ঘর থেকে এসে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে ডাকচিৎকার দিলে স্থানীয়রা উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে সোবাহানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রেরন করা বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এখনও সংকামুক্ত নয় সোবাহান ।
সোবাহানের উপর হামলাকারীদের বিচারের দাবীতে শনিবার দুপুরে কলাপাড়া রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করেন তার বড় ভাই বাবুল মৃধা। এসময় বাবুল মৃধা বলেন, দীর্ঘ দিন ধরে পটুয়াখালীর মহিপুর থানার ডাবলুগঞ্জ ইউনিয়নের মনসাতলী গ্রামের কালাম মৃধা, শহিদ মৃধা, জাকির ডাকুয়া, মাসুদ ও জলিল মৃধার সাথে দীর্ঘদিন জমি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল।
ঘটনার দিন মঙ্গলবার (২৫ ডিসেম্বর) প্রতিবন্ধী সোবাহানের বাবা সুলতান মৃধা জমি সংক্রান্ত মামলার হাজিরা দিতে কলাপাড়া উপজেলা সদরে ছিলেন। তার মা ঘুমিয়েছিলেন পাশের বাড়ির চাচার বাসায়। রাতে ঘরে একাই ঘরে ঘুমিয়ে ছিলেন তার ভাই সোবাহান (মামুন)। আর এই সুযোগে তার পিতাকে ভেবে ভাই সোবাহানকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়।
এ ঘটনায় সোবাহানের পিতা বাদী হয়ে মহিপুর থানায় আট জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের করেছেন যার নং-১৫/২৫। মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করলেও পুলিশ তাদের ধরছে না বলে অভিযোগ আনা হয়। আসামীরা তাদের মামলা তুলে নিতে হুমকি ধ দিচ্ছেন বলে দাবী করেন।
সোবাহান মৃধা ও তার পারিবার নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন এমন সংকার কথা জানিয়েছেন সংবাদ সম্মেলনে।মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ সোহেল আহম্মেদ বলেন, এঘটনায় মেনাজ সিকদার নামের এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বাকি আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

