মডেল হাসপাতালে পরিণত হচ্ছে সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল

0
775

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে মডেল হাসপাতালে পরিণত করার লক্ষ্যে পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ২৩৪ কোটি টাকা অনুমোদন দিয়েছে। ২০১৮ সালের

Advertisement

নভেম্বরের মধ্যে তিনতলা ভবনটি ৬ তলায় উন্নীত করা হবে। এছাড়া আরও একটি ১০ তলা বিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবন নির্মাণ করারও অনুমোদন দেয়া হয়েছে। গণপূর্ত অধিদফতরের (পিডাব্লিউডি) এর সার্বিক তত্বাবধানে এই মাল্টিপারপাস ভবনটি নির্মিত হতে দুই থেকে ৩ বছর সময় লাগবে।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম কুমার বড়ুয়া সাংবাদিকদের বলেন, গণপূর্ত অধিদফতরের (পিডাব্লিউডি) প্রধান প্রকৌশলীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটির অনুমোদন ইতোমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। আন্তঃমন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের নিয়ে উচ্চপর্যায়ে কমিটির অনুমোদনের অপেক্ষায়। অনুমতি পাওয়ার কার্যাদেশ প্রদান করা হলে এই হাসপাতালের ভবন সম্প্রসারনের কাজ শুরু হবে।

তিনি জানান, এরইমধ্যে রোগীর সেবার মান উন্নয়নে এ হাসপাতালকে সাড়ে আট’শ শয্যা থেকে ১ হাজার ৬’শ শয্যায় রূপান্তর করার ক্ষেত্রেও কাজ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এতে চিকিৎসকদের জন্য ডরমেটরী, আইসিইউতে ১০ টি শয্যা বাড়ানো হবে, ১০ শয্যার হাই ডিপেন্ডেন্সি ইউনিট (এইচডিইউ) তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে।

উত্তম কুমার বলেন, ইন্টার্ন ডাক্তারদের জন্য হোস্টেল এবং সিএ রেজিস্ট্রারদের জন্য আলাদা একটি ফ্লোর থাকবে।

আধুনিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও অডিটোরিয়াম থাকবে। এর মধ্যে ষষ্ঠতলায় নিউক্লিয়ার মেডিসিন সেন্টার করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্বমানের সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য এই হাসপাতালটিকে অটোমেশন করতে উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারী পর্যায়ে কথা হয়েছে। চূড়ান্ত হলেই হাসপাতালের জন্য একটি পাইলট প্রজেক্ট ঘোষণা করা হবে। বাংলাদেশে কোনো সরকারি বা বেসরকারী হাসপাতালে বিশ্বমানের ইমারজেন্সি বিভাগ নেই জানিয়ে উত্তম কুমার বলেন, এ লক্ষ্যে এই হাসপাতালে বিশ্বমানের একটি আধুনিক ইমার্জেন্সি কমপ্লেক্স করার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতাল নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে একধরনের উদাসীনতা রয়েছে। আমরা এই অচলায়তন ভাঙতে চাই। এখানে ৩৮ টি বিভাগে নিয়মিত রোগীর চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হচ্ছে। হাসপাতাল ৮৫০ বেডের হলেও এখানে প্রতিদিন গড়ে ১৪’শ রোগী ভর্তি থাকে। সকলকে বেড সেবা নিশ্চিত করতে না পারলেও বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার মাঝেই চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে সকলকে নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। ’

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালক আরো বলেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা বজায় ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নে কোয়ালিটি ইমপ্রুভমেন্ট কেয়ার (কেইসি) নামে প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ কার্যক্রমে চিকিৎসক, নার্স ও ক্লিনার নিয়ে ওয়ার্ড, ইউনিট বিভাগ ও কেবিন সমন্বয়ে ৪৩ টি কমিটি রয়েছে। হাসপাতালকে পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব এই কমিটির। প্রতিমাসে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কর্তপক্ষ কমিটির সভা করে থাকে। সেরা সেবাদাতাকে অণুপ্রাণিত করতে সনদ ও আর্থিক অনুদানের ব্যবস্থা করা হয়। দুইমাস পরপর ‘বেষ্ট ক্লিনার অ্যাওয়ার্ড ’দেয়াও চালু আছে। যাতে তারা উদ্যোগী হয়েই নিজেদের ওয়ার্ড পরিচ্ছন্ন রাখছে।

অন্যদিকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে সকল ধরনের প্যাথলজিক্যাল পরীক্ষা স্বল্প মূল্যে নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ‘ওয়ানস্টপ ক্যাশ কাউন্টার’। এতে রোগীর অর্থ ও সময় কম লাগে।

সার্ভিসের কার্যকারিতা নিয়ে তিনি বলেন, চলতি বছরের ১ এপ্রিল এ সেবা চালু হবার পর প্রায় ৩ কোটি টাকার রাজস্ব এসেছে। গত এক বছরের সমপরিমাণ এ রাজস্ব। প্রতিদিন ৮’শ রোগী এই সুবিধা পেয়ে থাকে। সেবার মানের জন্য ‘বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’ থেকেও স্বীকৃতি পেয়েছে এ হাসপাতাল।

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বিভিন্ন সেবার মধ্যে ‘টেলি মেডিসিন সেন্টার’ অন্যতম। দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের বিশেষ তত্বাবধানে চিকিৎসা সেবা দেয়া হয়। ডাটা প্রসেসিংয়ের মাধ্যমে ডেড সার্টিফিকেট (এমসিসিওডি) দেয়া হয়, যেখানে মৃত ব্যক্তির সম্পূর্ণ তথ্য থাকে। সাফল্যের অংশ হিসেবে ২০১৫ সালে ‘বেষ্ট অ্যাওয়ার্ড ইন গর্ভমেন্ট সেক্টর’ অর্জন করেছে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

রাজধানীর নারিন্দা থেকে আসা শাহানা বেগম বলেন,গত কয়েকবছর আগে ননদের বাচ্চা হয় এই হাসপাতালে । তখন আসছিলাম। এইবার আসছি ভাইয়ের বউকে নিয়ে। তিনি বলেন, এর আগে যখন এসেছি হাসপাতাল এমন পরিস্কার ছিল না। এখন হাসপাতালে নিয়ম করে পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here