কুকুর জীবন বাঁচাতে ট্রেনের সাথে পাল্লা দিলো, সবিস্তারে বললেন চালক

0
561

সম্প্রতি কালের কণ্ঠ অনলাইন সংস্করণে ‘বঙ্গবন্ধু সেতুতে জীবন বাঁচাতে ট্রেনকে ৫ কিলোমিটার পাল্লা দিল কুকুর‘ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। রেলওয়ে ফেসবুক গ্রুপ থেকে প্রাপ্ত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গবন্ধু সেতুর ওপর দিয়ে ট্রেন যাত্রা শুরু করা মাত্র একটি কুকুর সামনে এসে পড়ে। ট্রেন দেখে সেই কুকুর সামনে দৌঁড়ানো শুরু করে। ট্রেন

Advertisement

চলছে কুকুরটিও সমানতালে সামনে দৌঁড়াচ্ছে। গতি কমবেশি হচ্ছে না। কুকুরটি কোনোভাবে একটু দাঁড়ালেও বা গতি একটু কমালে ওর শরীর ছিন্নভিন্ন হয়ে যাবে। এতে গতি কমবেশি করে কুকুরটিকে প্রাণে বাঁচতে সহায়তা করেছেন লোকো মাস্টার। এমন একটি ভিডিও দেখে বিস্মিত হতে হয়। কেননা ট্রেনের সাথে পাল্লা দিয়ে প্রায় ৫ কিলোমিটার দৌঁড়েছে সেই কুকুর। প্রাপ্ত ভিডিওতে সূত্র হিসেবে এক তরুণের নাম বলা হলেও ভিডিও ধারণ করেছিলেন রাজশাহীর শিরোইলের ট্রেন চালক মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান ও তার সহকারী। মঙ্গলবার দুপুরে কথা হয় আসাদুজ্জামানের। আসাদুজ্জামান বলেন, ভিডিওটি ছিল গত এপ্রিলের। তবে সম্প্রতি সেটা সংবাদ হিসেবে আসায় অবাক হয়েছি। তারচেয়েও বড় কথা ভিডিওটি অনেকেই নিজের নামে চালিয়ে দিচ্ছে। এছাড়া কোথাও কোথাও আমার নাম উল্লেখ করে বলা হচ্ছে আমি নাকি সাসপেন্ড হয়েছি। আমি ফেসবুকে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত হয়ে পড়ছি। ভিডিও ধারণ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান বলেন, আসলে কেন যে এসব গুজব ছড়াচ্ছে বুঝতে পারছি না। তাদের ধারণা হয়তো আমি ট্রেন চালানো বাদ দিয়ে ভিডিও করেছি। ধারণা না থাকলে যা হয় আর কি। একটা ট্রেনের ইঞ্জিনে একজন এলএম (লোকো মাস্টার) -এর সাথে  একজন এএলএম (অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো মাস্টার) থাকে। সেদিনের ঘটনা বলতে গিয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি নিয়ে সকালে আমরা রওনা হই ঢাকার উদ্দেশে। যখনই ট্রেন বঙ্গবন্ধু সেতুতে উঠে তখন আমার সহকারী আমাকে ওই কুকুরটিকে দেখতে পায়। সেই আমাকে দেখায়। কুকুরটি প্রচণ্ড গতিতে ছুটতে থাকে। প্রথমে হয়তো কুকুরটি ৪০-৪৫ কিলোমিটার বেগে দৌঁড়াচ্ছিল। পরে গতি কমিয়ে দেয়। আমি ট্রেনের গতি নামিয়ে আনছিলাম। রেলের বিধি জানিয়ে লোকো মাস্টার আসাদুজ্জামান বলেন, আমি সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি যাতে কুকুরটি প্রাণে বেঁচে যায়। বিধি অনুযায়ী সেতুর ওপর ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটারের ওপর গতি ওঠানো যাবে না। তবে গতি কমানো যাবে। কুকুরটি যেভাবে দৌঁড়াচ্ছিল তাতে আমিও দুরত্ব রেখে চেষ্টা করছিলাম গতি মেইনেটেন করতে। ভিডিও ধারণ বিষয়ে আসাদুজ্জামান বলেন, আমি যখন দেখলাম একটি কুকুর প্রাণে বাঁচার তাগিদে দৌঁড়াচ্ছে তখন দৃশ্যটিকে ধারণ করার কৌতুহল হয়। যেহেতু আমাকে গতি মনিটর করতে হচ্ছে সেহেতু আমার সহকারী আব্দুস সালামকে আমার মোবাই দিয়ে বললাম ভিডিও ধারণ করতে। সে প্রথমে সাহস পাচ্ছিল না। পরে সে ভিডিও ধারণ করে। অনেকের মনে প্রশ্ন তৈরি হয় শেষ পর্যন্ত কুকুরটি বেঁচে গিয়েছিল কি না। আসাদুজ্জামান বলেন, কুকুরটি ট্যালেন্টেড ছিল। সে বুঝতে পারছিল তাকে কতটুকু গতিতে দৌঁড়াতে হবে। শেষ পর্যন্ত সেতু অতিক্রম করার সাথে সাথে কুকুরটি বাম দিকে লাফ দিয়ে চলে যায়। ডান দিকে লাফ দিলে বাস-ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে মারা যেত। সে হয়তো এটা বুঝতে পেরেছিল। নিজেকে একটু সামনে নিয়ে ট্রেন অতিক্রম করে সে জঙ্গলের দিকে লাফ দেয়। আমরা তাকে জঙ্গলের ভেতর চলে যেতে দেখি। ট্রেন চালক আসাদুজ্জামানের বাড়ি রাজশাহী সদরের শিরোইল কলোনিতে। আসাদুজ্জামানের বাবাও রেলে চাকরি করেন। তিনি ২০০৪ সালে রেলওয়েতে অ্যাসিস্ট্যান্ট লোকো মাস্টার যোগদান করে বর্তমানে লোকোমাস্টার হিসেবে ঈশ্বরদী শেডে সংযুক্ত আছেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here