মঠবাড়িয়ায় স্কুল ছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা ! অতঃপর গ্রামছাড়া

0
672

 শামসু‌দ্দোহা প্রিন্স:

Advertisement

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ৪র্থ শ্রেণীতে পড়ুয়া এক স্কুল ছাত্রীর ইজ্জতের মূল্য ৫০ হাজার টাকা নির্ধারণ করলেন এলাকার মাতুব্বরেরা। শেষ পর্যন্ত প্রভাবশালীদের শাররীক নির্যাতন ও ভয়ে শুধু স্কুল নয় এলাকা ছেড়ে ঢাকায় চলে গেল ওই ছাত্রী। সম্প্রতি উপজেলার বেতমোর ইউনিয়নের ঘোপখালী গ্রামে এ হৃদয়বিদারক ঘটনাটি ঘটেছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, গত ৮ মার্চ বিকালে স্থানীয় ঘোপখালী গ্রামের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চতুর্থ শ্রেনীতে পড়ুয়া ছাত্রী স্কুল ছুটি হলে বাড়িতে আসে। এসময় মাঝারি ধরনের বৃষ্টি পরছিলো। ওই ছাত্রীর মা তাকে তাঁদের পালিত হাঁসগুলো বাড়িতে ফিরিয়ে আনার জন্য বলে। মায়ের কথামতো বাড়ির কাছের মাঠ থেকে স্কুল ছাত্রী হাঁসগুলো তাড়িয়ে বাড়িতে আনার চেষ্টা করছিলো। এসময় ওই গ্রামের মৃতঃ আঃ গফুর হাওলাদারের ছেলে ফজলুল হক (৬০) ওই ছাত্রীকে টেনে একটি গোয়াল ঘরে নিয়ে মুখ চেপে ধরে ধর্ষণের চেষ্টা চালায়। এক পর্যায় ওই ছাত্রী ডাক-চিৎকার শুরু করলে লম্পট ফজলুল হক শিশুটিকে ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। পরে বাড়িতে গিয়ে স্কুলছাত্রী বিষয়টি তার মা কে জানায়। হতভাগা ছাত্রীটির পিতা দিন মজুরের কাজ (রাজ মিস্ত্রী‘র সহকারি) করেন। কাজ শেষে রাতে সে বাড়িতে আসলে তাকে ঘটনাটি জানানো হয়। ওই রাতেই স্কুল ছাত্রীর পিতা বিদ্যালয়ের ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি রুস্তুম আলী দফাদারকে বিষয়টি জানান। পরের দিন রুস্তুম আলী দফাদার এলাকার গন্যমান্যদের বিষয়টি জানালে লম্পট ফজলুল হকের ভাতিজা মোঃ ফারুক হোসেন ও ছেলেরা চরম ভাবে ওই পরিবারটির ওপর ক্ষিপ্ত হয়। একপর্যায় ফারুক হোসেন ওই ছাত্রীকে খারাপ মেয়ে বলে মন্তব্য করা সহ শাররীক ভাবে আঘাত করে। এতে দারুণভাবে ভয়পায় ওই নির্যাতিত পরিবারটি। যে কারনে থানায় কোন মামলা করতে সাহস পায়নি ওই ছাত্রীর পিতা। এব্যপারে ফারুক হোসেন সাংবাদিকদের কাছে ওই ছাত্রীকে খারাপ মেয়ে বলে মন্তব্য করা অকপটে স্বীকার করে বলেন, মেয়েটিকে আমাদের বাড়ির মধ্যে আসতে নিষেধ করেছি। তবে শাররীক ভাবে আঘাত করার কথা অস্বীকার করেন। ওই ঘটনায় সম্প্রতি দফায়-দফায় শালিস বৈঠক হয়। এতে নেতৃত্ব দেন,স্থানীয় ইউপি সদস্য হেমায়েত উদ্দিন, সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ ইসাহাক আলী, বিদ্যালয়ের ম্যনেজিং কমিটির সভাপতি রুস্তুম আলী দফাদার ও ফজলুল হকের ভাতিজা মোঃ ফারুক হোসেন। তারা লম্পট ফজলুল হককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন যা নির্যাতিত পরিবারকে দেওয়া হবে। স্থানীয় একাধিক সূত্র জানান, ৫০ হাজার জরিমানা করা টাকার মধ্যে মাত্র ১৫ হাজার টাকা ইউপি সদস্য হেমায়েত উদ্দিনের কাছে জমা রয়েছে। বাকি টাকার কোন হদিস নেই। এব্যপারে জানতে পর্যায়ক্রমে ওই ৩জন শালিসদারের সাথে মুঠোফেনে জানতে চাইলে তারা স্পষ্ট কিছু বলেন নি। তারা একে-অপরের দোহাই দিচ্ছেন। তবে প্রত্যেকেই ঘটনাটি দ্রুত নিস্পত্তি করবেন বলে জানান। ওই ছাত্রীর মা ক্রন্দনস্বরে অপরাধ বি‌চিত্রা কে জানান, মেয়েটির লেখা পড়া আর হলোনা। বাধ্য হয়ে তাকে ঢাকায় রেখে আসতে হয়েছে। মামলা করেননি কেন ? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, আমরা গরীব, আমার স্বামী সমান্য রাজ মিস্ত্রীর কাজ করে। তারা বড়োলোক, তাদের ছেলেরা বিদেশে থাকে। তারা টাকা দিয়ে সবার মুখ বন্ধ করে দিয়েছে। কতো টাকা জরিমানা পেয়েছেন ? এমন প্রশ্নে তিনি কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন আমি কিছুই জানিনা। শুনেছি কারা যেন শালিসি করেছে। ৭৫ নং ঘোপখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা নন্দরানী বলেন, আমি এ প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৫দিন হয়েছে জয়েন্ট করেছি। আমি কিছুই জানিনা। এব্যপারে মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ কে এম তারিকুল ইসলাম অপরাধ বি‌চিত্রা-কে জানান, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোন অভিযোগ পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস এম ফরিদ উদ্দিন জানান,বিষয়টি খুবই মর্মান্তিক। তিনি তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা প্রহনের আশ্বাস দেন। মঠবাড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ আশরাফুর রহমান অপরাধ বি‌চিত্রা-কে জানান, এ ধরনের ঘটনা অনাকাঙ্খিত। তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, নির্যাতিত ওই পরিবারটিকে আইনি বিচার পেতে আমি সর্বাত্বক সহযোগিতা করবো

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here