কেননা তার ফরিয়াদ এবং আল্লাহর মধ্যে পর্দা থাকে না।’ [১] ইসলামের প্রথম যুগে সাবাহায়ে কেরামকে কত কষ্টই না সহ্য করতে হয়েছে। অপরাধ একটাই- কেন তারা ঈমান আনল রাসুল
সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের ওপর। সাহাবায়ে কেরামদের মরুভূমির উত্তপ্ত বালুরাশির ওপর খালি গায়ে তাঁদের শুইয়ে দিত। দুষ্ট বালকদের লেলিয়ে দেওয়া, তাদের হাতে তুলে দেওয়া থেকে শুরু করে গলায় রশি বেঁধে টেনে-হিঁচড়ে অলিগলিতে ঘুরানোসহ হেন কোনো নির্যাতন নেই, যা তাঁরা সাহাবায়ে কেরামের ওপর করেনি। আল্লাহ তাআলা তাঁদের বিষয়ে বলেন, ‘যারা নির্যাতিত হওয়ার পর আল্লাহর সন্তুষ্টির লক্ষ্যে হিজরত করেছে নিশ্চিত থেক আমি দুনিয়ায়ও তাদেরকে উত্তম নিবাস দান করব আর আখেরাতের প্রতিদান তো নিঃসন্দেহে সর্বশ্রেষ্ঠ।’ [২] মক্কা মুকাররমায় সুদীর্ঘ তের বছর পর্যন্ত মুমিনদেরকে সবর ও সংযম অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারাও তখন সর্বোচ্চ ত্যাগের সাথে সেই নির্দেশ পালন করে গেছেন। যত কঠিন নির্যাতনই করা হোক অস্ত্র দ্বারা তার মোকাবেলা করার অনুমতি ছিল না। ফলে মুসলিমগণ জুলুমের জবাব সবর দ্বারাই দিতেন। একসময় পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে। ইরশাদ হয়, ‘যাদের সঙ্গে যুদ্ধ করা হচ্ছে, তাদেরকে অনুমতি দেওয়া যাচ্ছে (তারা নিজেদের প্রতিরক্ষার্থে যুদ্ধ করতে পারে)। যেহেতু তাদের প্রতি জুলুম করা হয়েছে।’ [৩] হামান, কারূন, নমরূদ, ফেরাউন, আবু জেহেল, আবু লাহাব এবং ইয়াজিদ দুনিয়াতে বেঁচে নেই। তবে তাদের আদর্শবাহী প্রতিপত্তিশালীদের অনেককে আজও দেখা যায়। লক্ষ করলে দেখবেন যে পৃথিবীর সর্বত্রই শক্তিশালীদের হাতে দুর্বলদের নির্যাতিত হওয়ার ঘটনা অহরহ ঘটছে। সুস্থ স্বাভাবিক মানুষের পাশাপাশি বয়স্ক, গর্ভবতী নারী ও শিশুরাও কেউ জুলুম নির্যাতন থেকে রেহাই পাচ্ছে না। অসহায় এতিম দুর্বলের ওপর অত্যাচারের কারণে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআ’লা অতীতে বহু অত্যাচারী শাসক ও জাতি গোষ্ঠীকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। ‘আর অবশ্যই আমি তোমাদের পূর্বে বহু প্রজন্মকে ধ্বংস করেছি, যখন তারা জুলুম করেছে।’ [৪] দুনিয়া-আখেরাত কোথাও জালেমকে ছাড় দেওয়া হবে না। কেয়ামতের মাঠে জালেম বঞ্চিত হবেন সব ধরনের করুণা থেকে। একটি ছাগলও যদি অন্যায়ভাবে আরেকটি ছাগলকে শিং দিয়ে সামান্য আঘাত করে থাকে- আল্লাহ তাআলা সেদিন দুটি ছাগলকেই জীবিত করে জুলুমের শিকার প্রাণীকে সুযোগ করে দেবেন শিংধারী ছাগলকে আঘাত করে।

