এস.ডি বাবুঃ
সৃষ্টির সেরা জীব মাুনষ। স্রষ্টার সৃষ্ট এই মানুষগুলোর মধ্যে কিছু মানুষেরা একদম ভুলে গিয়েছে যে, জন্মিলে মরিতে হইবে, মানুষ মরণশীল। লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু-এই চির সত্য কথাটুকু ভুলে গিয়ে কিছু অমানুষেরা তাদের পেশীশক্তি ও প্রভাব বিস্তার করে সমাজের সহজ-সরল ও সৎ
মানুষদের সাথে নরপশু ও দৈত্য-দানবের মত আচরণ করে একটি ইতিহাস রচনা করে। সমাজে সৎ কাজের জন্য পুরস্কার দেওয়ার পাশাপাশি যদি অসৎ কাজেরও পুরস্কার দেওয়ার নিয়ম থাকতো তাহলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের ভদ্র মুখোশের আড়ালে মানব নামের দানব মন্তাজ উদ্দিন ১ম পুরস্কারের জন্য যোগ্য প্রার্থী, যিনি আপন রক্তের ছোট ভাইকে শুধুমাত্র সম্পত্তি আত্মসাৎ এর জন্য দীর্ঘ ৪০ বৎসর যাবত ছোট ভাইয়ের পরিবারের উপর নির্যাতন চালিয়ে আসছে। এই প্রতিবেদকের সাথে ছোট ভাই নাজিম উদ্দিন তার জীবনের লোহমর্ষক নির্যাতনের কাহিনী বর্ণনা দিতে গিয়ে বার-বার কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। শুধুমাত্র সম্পত্তি আত্মসাৎ এর জন্য আমার ২ (দুই) বছরের শিশু সন্তানকে হত্যার উদ্দেশ্যে পুকুরে নিক্ষেপ করেছিল বড় ভাই মন্তাজউদ্দিন। উক্ত শিশু সন্তান যখন স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণীতে পড়–য়া তখন বড় ভাই তার নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে স্কুলে ক্লাশ চলাকালীন অবস্থায় পুলিশ দিয়ে স্কুল থেকে তাকে গ্রেফতার করে থানা-হাজতে প্রেরণ করে। আমার নামে একটি খারাপ মেয়েকে দিয়ে মিথ্যা নারী নির্যাতনের মামলা করে সমাজে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করে। যদিও উক্ত মামলা আদালতে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আমি নির্দোষ প্রমাণিত হই। ১৯৭৭ইং সনে আমার বাবা কাপ্তান মিয়া মারা গেলে বড় ভাই মন্তাজ উদ্দিন ও তার স্ত্রী বাবার রেখে যাওয়া অঢেল সম্পদ একাই আত্মসাতৎ করার জন্য নিজের নামে পাওয়ার অফ এটর্নি (আম-মোক্তার নামা) তৈরী করে আমি ছাড়া সব ভাই-বোনদের কাছ থেকে সই নিয়ে নেয়। আমি সই না দেওয়াতে আমি সহ আমার পরিবারের সদস্যদের সকলকে রাস্তায় নামিয়ে দেয়। তখন কোনরকমে জীবন-যাপনের জন্য নাইট গার্ডের চাকুরী ও পানের দোকানদারী করে বর্তমানে ৩০ বৎসর যাবত জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ড্রাইভারী চাকুরী করে অসহায় জীবন-যাপন করছি। প্রতিমাসে বড় ভাই পিতার রেখে যাওয়া সম্পত্তি থেকে লক্ষ-লক্ষ টাকা ভাড়া বাবদ উপার্জন করলেও সে আমাকে আমার প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত করছে। তার কাছে পৈত্রিক ওয়ারিশ সূত্রে প্রাপ্য সম্পদ চাইলেই অন্য ভাই-বোনদের দিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। মোহাম্মদপুরের স্থানীয় বাসিন্দারা নাজিম উদ্দিনের উপরে এই অত্যাচার প্রত্যক্ষ করলেও মন্তাজ উদ্দিনের ভয়ে কেউ টু-শব্দটিও করে না। এই প্রতিবেদকের সাথে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন-সেদিন মন্তাজ উদ্দিন তার ছোট ভাই নাজিম উদ্দিনের স্ত্রীকে শত-শত মানুষ ও পুলিশের সামনেই গায়ের উপর উঠে মারপিট করে অজ্ঞান করে প্রকাশ্যে রাস্তার উপর ফেলে রাখে। মন্তাজ উদ্দিনের লাঠিয়াল খ্যাত ভাই মাইন উদ্দিন-নাজিম উদ্দিনের ছেলের মাথায় কোঁদাল দিয়ে আঘাত করে মা ও ছেলেকে রাস্তায় ফেলে রেখে নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। মন্তাজ উদ্দিনের প্রভাবের কারণে সেদিন নাজিম উদ্দিন থানায় মামলা করতে পারেনি। অথচ মন্তাজ উদ্দিন মিথ্যা মামলা দিয়ে অদ্যবধি পর্যন্ত নাজিম উদ্দিনকে অযথা হয়রানী করছে। কুখ্যাত মন্তাজ উদ্দিন একটি অসহায় মেয়ের নগ্ন ছবি দিয়ে নাজিম উদ্দিন ও তার বড় ছেলেকে আবারও মিথ্যা মামলা ফাঁসানোর চেষ্টা করলে সে নিজেই ফেঁসে যায়। সবচেয়ে আশ্চর্য্যজনক বিষয় এই যে, যে চাচার হাতে শিশু বয়স থেকেই ভাতিজা সাইফুল ও তার পরিবার নির্যাতিত হয়েছে সেই ভাতিজাই তার চাচা মন্তাজ উদ্দিনকে এই মামলা থেকে রেহাই এবং কাপ্তান পরিবারের আত্মসম্মান রক্ষার জন্য ঐ মেয়েটির বাবা-মা ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে মন্তাজ উদ্দিনের নাম চার্জশীট থেকে নাম কাটার জন্য অনুরোধ করে। চার্জশীট থেকে তার নাম কাটলেও মন্তাজ উদ্দিনের কাছ থেকে অদ্যবধি পর্যন্ত উক্ত মেয়ের নগ্ন ছবি উদ্ধার করা যায়নি। মন্তাজ উদ্দিনের পুত্র ছানাউল্লাহ ও রফিকুল এবং ভাই মোহাম্মদপুর থানার চাঞ্চল্যকর আলমগীর হত্যা মামলার আসামী গিয়াসউদ্দিন ও সদ্য হাজত খেটে আসা ভাই মাইন উদ্দিন এই প্রতিবেদকের উপরে ইতিপূর্বে একাধিকবার হামলা করেছে। আদাবর-মোহাম্মদপুর থানায় মন্তাজ উদ্দিন গংদের বিরুদ্ধে একাধিক সাধারণ ডায়ের করা আছে। মন্তাজ উদ্দিনের পুত্র রফিকুল র্যাব-২ সদস্যদের সামনেই এই প্রতিবেদকের ছবি তুলে প্রতিবেদককে আতংকিত করার চেষ্টা করছে। সত্য প্রকাশে অপরাধ বিচিত্রার পত্রিকার কলম সৈনিকেরা সর্বদা অঙ্গীকারবদ্ধ। অপরাধ বিচিত্রার আগামী সংখ্যায় মন্তাজ উদ্দিন গংদের নানা অপকর্মের বিস্তারিত প্রকাশিত হইবে।..চলবে।

