বিষ নামের টেস্টিং সল্ট খাচ্ছেন

0
1732

অবি ডেস্কঃ খাবারকে মুখরোচক বা মজাদার করার কাজে আজ স্বাদ লবণ বা টেস্টিং সল্ট নামের একটি রাসায়নিক উপাদান বহুল ব্যবহৃত হয়। এটি এখন রন্ধনশিল্পের যত না উপকরণ, তারচেয়ে বেশি, রন্ধন-ফ্যাশন।
অথচ এটি ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার করলে স্বায়ুতন্ত্রের ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। বিজ্ঞানীরা একে স্বায়ু-বিষ বলেন। এটার আরেক নাম হচ্ছে ‘চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম’।

Advertisement

 

অধ্যাপক ড. এ বি এম ফারুক বলেন, “সোডিয়াম গ্লুকোমেট বা টেস্টিং সল্ট বা স্বাদ লবণ অধিক পরিমাণে ব্যবহারের কুফল অনেকে বেশি। বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা কয়েক বছর আগে নতুন একটি অসুখ আবিষ্কার করেছে। তার নাম হলো চাইনিজ রেস্টুরেন্ট সিনড্রোম। এই অসুখে আগে কখনো বিশ্ব ছিলো না। এই অসুখে আক্রান্ত ব্যক্তিদের খাবার দাবার অরুচিকর মনে হয়, তাদের মনোযোগ দেয়ার ক্ষমতা হ্রাস বা লোপ পায়। গভীর মনোযোগের কাজ করতে গেলে স্নায়ুগুলোকে প্রচণ্ড কাজ করতে হয়। টেস্টিং সল্ট খেয়ে খেয়ে এ সব স্নায়ুর ক্ষতি হচ্ছে তাই গভীর মনোযোগের কাজ করা আর স্নায়ুর পক্ষে সম্ভব হয় না। অন্যদিকে স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের মেজাজ খিটমিটে হয়ে যায়। তার ঘুম কম হয়। আর এরও কারণ হলো টেস্টিং সল্ট দেহে প্রবেশ করে কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে বিষিয়ে দেয়। ফলে স্নায়ুতন্ত্র সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।”

যারা ঘন ঘন চাইনিজ রেস্টুরেন্টে খেতে যান তাদের এই মধ্যে এই অসুখের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। এর জন্য দায়ী হলো, সোডিয়াম গ্লুকোমেট বা মনো সোডিয়াম গ্লুকোমেট নামের রাসায়নিক উপাদান যা চাইনিজ রান্নায় প্রচুর পরিমাণে ব্যবহৃত হয়। তবে এর ব্যবহার কেবল চাইনিজ খাবারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। বরং আজকাল ফাস্ট ফুডের দোকানগুলোতে প্রচুর পরিমাণ টেস্টিং সল্ট ব্যবহৃত হচ্ছে।

কোনো খাবারে টেস্টিং সল্ট আছে কিনা তা খাওয়ার মুখে দিয়েই বোঝা সম্ভব। কোনো খাবারে ঝাঁঝালো নোনা স্বাদ পাওয়া গেলে বুঝতে হবে তাতে টেস্টিং সল্ট আছে। এ জিনিস আজকাল বাংলাদেশের বাজারে যে সব কথিত পটেটো চিপস বিক্রি হয় তাতে মাত্রাতিরিক্ত টেস্টিং সল্ট ব্যবহার করা হয়। ব্যবহার হয় চিকেন ফ্রাই থেকে শুরু করে নানা খাদ্যে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here