সৈয়দ মাহাবুব/মঞ্জুরুল ইসলমঃ
বেশ কিছুদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, ফেসবুক, টুইটার, ইত্যাদির মাধ্যমে প্রচারিত হচ্ছে যে মায়ানমারের মুসলমানদের উপর সে দেশের বৌদ্ধসহ বিভিন্ন বি-ধমির্র হাতে নানা ভাবে জুলুম, নির্যাতন, অত্যাচার ও হত্যার মতন নির্মম তথ্য ও ভিডিও চিত্র দেখা যাচ্ছে। যা দেখলে যে কোন ধমের্র বিবেকবান মানুষের গা শিহরে উঠবে, আর ঈমানদার মুসলমান হিসেবে মুসলমানদের অন্তরে কষ্ট অনুভুত হবে। এটা স্বাভাবিক। মায়ানমারের মুসলমানদের উপর এতো অত্যাচার জুলুম ও নির্যাতনের ভিডিও চিত্র এবং বিভিন্ন তথ্যগুলো প্রাথমিক অবস্থায় বিশ্বাষ করা সম্ভোব নয়। বিশ্ব মানব সভ্যাতার বিষ্যায়নের যুগে মানুষ কোন মানুষের উপর বা কোন জাতির উপর এমন ভাবে অত্যাচার জুলুম করতে পারে তা সত্যিই বিশ্বাষযোগ্য নয়। ছবি গুলো এতোটাই লোমহর্ষ যে দেখলেই মাথা ঘুরে যায়। কিভাবে এমনটি সম্ভব। ছবি গুলো কি সত্যিই মায়ানমার মুসলিম নির্যাতন হত্যার বর্তমান চিত্র ? নাকি উসকানিমূলক প্রচারনা? হতে পারে কোন সংঘবদ্ধ গোষ্ঠীর স্বার্থসিদ্ধির জন্য এমন জঘন্য প্রচারণা! বর্তমানে উন্মুক্ত স্যাটেলাইট যুগে মূলধারার মিড়িয়ার কোন নিউজ নেই। নেই দায়িত্বশীল কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের জবাবও! তবে আমরা সাধারন মানুষ কোনটা ধরে নেব? দীর্ঘ দিন ধরে এসব ভীবৎস্য, লোমহর্ষ নির্মম ছবি গুলো প্রচার হতে থাকলেও এগুলোর সত্যতা বা মিথ্যা প্রমাণ করার জন্য কোন পক্ষই উদ্যোগ নেয়নি কেন? মিডিয়া গুলোও এ ব্যাপারে নিশ্চুপ কেন। বিশ্ব মানবতার শ্লোগানদারি নেতার এবং ইসলামের বড় বড় দেশের নেতারা কোথায়? তাদের বিবেক চুপ কেন? এই প্রশ্নগুলি থেকেই যায়। বাংলাদেশে কোন সংখ্যালগু নির্যাতন কিংবা যে কোন ব্যাপারে সামান্য বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটলেই শাহবাগ, জাতীয় প্রেস ক্লাব, বেসরকারী টিভি টক শো দৈনিক পত্রিকার সম্পাদকীয় কলামে চেটে পোটে মোঙ্গড় দেয়া হয় মুসলমানদের। অথচ কোন বিধর্মীদের গায়ে আঘাত করা দূরে থাক মুখ কালো করে কথা বলা ইসলাম বলে নাই, সকল ধমের্র মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও সহানূভতি কথাই বলে ইসলাম। এই পৃথিবীর বুকে রক্ত প্রবাহ বইয়ে দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্ঠিত হয়নি আমাদের নবী মোহাম্মদ (সাঃ) এবং উনার সাহাবীরা শ্রমের বিনিময়ে আর সত্যের ধারক ও বাহক হয়ে ইসলামকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। সুতরাং যারা সত্যিকার অর্থে ইসলামের সেবক তারা মানুষ হত্যার মধ্যেদিয়ে ইসলামের সর্বনাষ করছেন। সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ ইসলামে ঠাই নেই। কোন মুসলমান জঙ্গীদের সাথে থাকতে পারেনা। জঙ্গীদের কোন ধর্ম নাই। ইসলাম শান্তি, সম্প্রীতি আর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতার ধর্ম। মানুষ হত্যা ইসলামে নিষিদ্ধ, একজন মানুষকে হত্যা করা আর সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করা সমান কথা। ভিন্ন র্ধমের বা মতের লোকেরা ইসলাম নিয়ে নানা কথা বলবে তাই বলে তাদেরকে হত্যার কথা ইসলামের কোথাও নেই। বরং ইসলাম বলে যারা তোমার রবকে গালি দেয় তোমরা তাদের রবকে গালি দিওনা তাহলে তারা প্রকান্তরে আমাকেই গালি দিবে। ভিন্ন মতের বা র্দশনের মানুষদের সত্য ও সুন্দরে আহবান জানানোই হলো ইসলামের মূল মন্ত্র।

