বিশ্বে গড় মৃত্যুর হার যেখানে ১৬ শতাংশ সেখানে বাংলাদেশে এর পরিমাণ ২৮ শতাংশ। দেশে শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ায় ঢাকার বায়ু দূষণ মাত্রার ক্রমাগত অবনতি হচ্ছে। এবং চরম আকার ধারণ করতে পারে বলে আশংকা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।
‘শুষ্ক মৌসুমে শহরের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় রাস্তা খুড়াখুড়িসহ বিভিন্ন সংস্কার কাজ অন্যদিকে ঢাকার চারপাশ জুড়ে থাকা হাজার হাজার ইট ভাটায় শুরু হয় ইট পোড়ানোর কাজ। এছাড়া বছরজুড়ে লেগেই রয়েছে নতুন ভবন নির্মাণের কাজ যা দূষণের উৎস হিসেবে চিহ্নিত হয়।’ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে বায়ুদূষণের অবারিত বিস্তার রোধ করার পরামর্শ দিয়ে বেসরকারি সংগঠন পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)’র চেয়ারম্যান আবু নাসের খান ভয়েস অফ আমেরিকাকে একথা বলেন। তিনি আরও বলেন, প্রায় ২ কোটি মানুষ অধ্যুষিত এই শহরে পরিবেশের ক্রমাবনতির কারণে তা বৃহৎ জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবেও আবির্ভূত হতে যাচ্ছে। দিনদিন বাড়ছে ধূলাজনিত রোগের মাত্রা। রাস্তার পাশের দূষিত খাবারের মাধ্যমে বাড়ছে শ্বাসকষ্ট, হাঁপানি, ফুসফুসে ক্যান্সারসহ চর্ম রোগের প্রার্দূভাব। সেই সাথে কমে যাচ্ছে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা। এবং দেখা দিচ্ছে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। বায়ুদূষনের এই বেড়াজাল থেকে মুক্তির উপায় জানতে চাইলে তিনি বলেন, যে কোনো প্রকার নির্মাণ সামগ্রী ও বর্জ খোলা জায়গা থেকে দ্রুত সরিয়ে নিতে হবে। পরিসেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলির পরামর্শ নিয়ে নির্ধারিত সময় ও যথাসাধ্য শৃংখলার মধ্যে রাস্তা নির্মাণ ও ড্রেনেজ ব্যাবস্থার সংস্কার কাজ করতে হবে। এবং যানবাহনগুলিকে রক্ষাণাবেক্ষণের মাধ্যমে কালো ধোয়ার পরিমাণ কমাতে হবে।একইসাথে পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে শিল্প কারখানার উপর তদারকিও বাড়াতে হবে। সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ, সামগ্রিকভাবে পরিবেশ দূষণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে সরকারি মহলসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাগুলোকে স্বোচ্চার হতে হবে। চলতি ২০১৮ সালের মে মাসে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বায়ু দূষণে সারা বিশ্বের মধ্যে ঢাকার অবস্থান তৃতীয়। অপর এক প্রতিবেদনে বিশ্ব ব্যাংক বলেছে ২০১৫ সালে বাংলাদেশে পরিবেশ দূষণের কারণে ২৩৪,০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে যার মধ্যে ৮০,০০০ জন মারা গেছেন শহর এলাকায়।

