বিপিএল-এর নতুন রাজা মাশরাফির রংপুর গেইল-ঝড়ে বিধ্বস্ত ঢাকা

0
1005

টি২০ ক্রিকেটের ফেরিওয়ালা ক্যারিবিয়ান দানব ক্রিস গেইলের রেকর্ড গড়া এক ইনিংসে ঢাকা ডায়নামাইটকে গুঁড়িয়ে দিয়ে বিপিএলে নতুন চ্যাম্পিয়ন হলো রংপুর রাইডার্স।
গতকাল মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফাইনালে সাকিব আল

Advertisement

হাসানদের ৫৭ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে শিরোপা মুঠোবন্দী করে মাশরাফি মর্তুজার দল। দলের প্রথম হলেও বিপিএলে পাঁচ আসরের মধ্যে অধিনায়ক হিসাবে মাশরাফি বিন মুর্তজার এটি চতুর্থ শিরোপা। টুর্নামেন্টে ম্যাচ সিরিজ সেরা হন ক্রিস গেইল। আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বলেছিলেন, ফাইনালে খেলবেন এটা ভাবেননি তিনি। পয়েন্ট টেবিলে চতুর্থ অবস্থানে থেকে তারা প্লেঅফ খেলে। এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা টাইটান্স দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সকে হারিয়ে ফাইনালে উঠে রংপুর রাইডার্স। গ্রুপপর্বেও সাদামাটা রংপুর রাইডার্স যেন ফাইনালে বনে গেল বনের রাজা সিংহ! আর তাতেই বিপিএলের পঞ্চম আসরের ফাইনালটা বড্ড একপেশে হয়ে যায়। শোচনীয় হারে সাকিব আল হাসানের ঢাকা হারিয়ে ফেলে গেলবার জেতা শিরোপাটা। তার আগের তিন আসরের চ্যাম্পিয়ন দলের নেতা মাশরাফি এবার রংপুরে যোগ দিয়েই বাজিমাত। প্রথমবার ফাইনালে উঠেই দলটি চ্যাম্পিয়ন। মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে গতকাল ৬৯ বলে ১৮টি ছক্কা ৫টি চারের মারে জ্যামাইকান হারিকেন ক্রিস গেইলে অসংখ্য রেকর্ড গড়া ১৪৬। তাতে টস হেরে মাত্র উইকেটেই ২০৬ রানের পাহাড়ে রংপুর। দ্বিতীয় ইনিংসে আবার মাশরাফির প্রথম ওভার থেকেই রংপুরের আঘাত ঢাকার বুকে। নেতা পথ দেখান। বাকিরা ঝাঁপিয়ে পড়েন। ইনিংস শুরু হতে না হতেই যেন শিরোপাটা সাকিবের হাত থেকে ছিটকে কল্পনারও দূরে চলে যায়। আর ফেরে না। হারে ৫৭ রানে। ২০ ওভারে উইকেটে ১৪৯ রান খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে তাদের।
২০৭ রানের টার্গেট, স্বাভাবিকভাবেই চাপে থাকার কথা। রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে দ্বিগুণ চাপে পড়ে ঢাকা। ক্রিস গেইলের অবিশ্বাস্য ব্যাটিংয়ের শিকার হওয়ার পর একের পর এক উইকেট হারিয়ে শিরোপা হারানোর শঙ্কায় পড়ে সাকিব আল হাসানের দল। ২৯ রানের মধ্যে উইকেট হারায় ঢাকা। ওই ধাক্কা আর কাটাতে পারেনি তারা। প্রথম দুই ওভারে দুটি উইকেট হারায় ঢাকা।
ইনিংসের তৃতীয় বলে মেহেদী মারুফকে রানের খাতা না খুলতে দিয়ে এলবিডব্লিউ করেন মাশরাফি মুর্তজা। সোহাগ গাজী পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে জো ডেনলিকে শূন্য রানে নাহিদুল ইসলামের ক্যাচ বানান। মাত্র রানে দুই উইকেট হারানো ঢাকা ১৯ ২৯ রানে আরও দুজন ব্যাটসম্যানকে হারায়। মাশরাফি দুর্দান্ত ক্যাচ ধরে ফেরান এভিন লুইসকে (১৫), বল করছিলেন গাজী। রুবেল হোসেনের বলে কিয়েরন পোলার্ড () ক্যাচ দেন গেইলকে। নাজমুল দুটি উইকেট নিয়েছেন। এরপর সাকিব ব্যাট হাতে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েছিলেন জহুরুল ইসলামকে নিয়ে। কিন্তু ৪২ রানের জুটি গড়ে তিনিও ফেরেন। ১৬ বলে তিন চার ছয়ে ২৬ রানে নাজমুল ইসলামের কাছে বোল্ড হন ঢাকা অধিনায়ক। পরের দুই ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন () শহীদ আফ্রিদি () ক্রিজ ছাড়েন। সুনীল নারিনের প্রতিরোধ ভাঙেন ইসুরু উদানা। ক্যারিবিয়ান অলরাউন্ডারকে ১৪ রানে বোল্ড করেন এই লঙ্কান পেসার। একা লড়তে থাকা জহুরুল ইসলামকেও আউট করেন উদানা। ৩৮ বলে চারটি চার দুটি ছয়ে ৫০ রানে বোল্ড হন জহুরুল। গাজী, উদানা নাজমুল দুটি করে উইকেট নেন।
এর আগে টসে হেরে ব্যাট করতে নেমে গেইলের বিস্ফোরক ব্যাটিংয়ে উইকেটে ২০৬ রান করে রংপুর। ব্রেন্ডন ম্যাককালামের সঙ্গে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ ২০১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে তারা। অথচ কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের বিপক্ষে পা মচকে যাওয়ায় গেইলের ফাইনাল খেলা নিয়ে শঙ্কা ছিল। কিন্তু মাঠে নেমেছেন তিনি। রংপুরের জার্সিতে আরেকবার জ্বলে উঠলেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের ব্যাটসম্যান। মঙ্গলবার ঢাকা ডায়নামাইটসের বিপক্ষে ৫৭ বলে চারটি চার ১১ ছয়ে সেঞ্চুরি করেন গেইল, অপরাজিত ছিলেন ১৪৬ রানে ৫টি চার ১৮টি ছয়ে সাজানো ছিল তার ৬৯ বলের ইনিংস। খুলনা টাইটানসের বিপক্ষে এলিমিনেটরে ১২৬ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্যদিকে ম্যাককালাম অপরাজিত ছিলেন ৫১ রানে। দুজনের ব্যাটে এসেছে দুইশ ছড়ানো রান। তবে শুরুতে কিন্তু হোঁচট খেয়েছে রংপুর। দ্বিতীয় ওভারেই উইকেট হারায় তারা। কুমিল্লার বিপক্ষে সেঞ্চুরি করা জনসন চার্লস রানের পাল্লা ভারী করতে পারেননি। বলে মাত্র রান করে সাকিবকে ফিরতি ক্যাচ তুলে দেন ক্যারিবিয়ান ওপেনার। ওই একটা উইকেটই হারায় রংপুর। সবচেয়ে বেশি রান দিয়েছেন ঢাকার বোলার খালেদ আহমেদ। ওভার বল করে দিয়েছেন ৩৯ রান। এছাড়া কিয়েরন পোলার্ড আবু হায়দার সমান দুটি করে ওভারে রান দিয়েছেন ৩৩ ২৬। গেইল ঝড়ের কবল থেকে রক্ষা পায়নি কেউই। সাকিব ওভারে ২৬ মোসাদ্দেক সমান বল করে ৩২ রান দেন

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here