বায়েজিদে চোরের উপদ্রব : মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হোক

0
913

সাহেনা আক্তার হেনাঃ মানব জীবন কখনো নিরঙ্কুশ বিপদমুক্ত ছিল না, এখনো নেই এবং ভবিষ্যতেও থাকবে না। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়েই মানুষকে চলতে হয়। মানবাধিকারের সার্বজনিন ঘোষনা, ধারা-৩ মতে, “প্রত্যোকের জীবন ধারন-স্বাধিনতা ও ব্যক্তিগত নিরাপত্তার অধিকার রয়েছে”। তৎমতে মানুষের জীবনের নিরাপত্তাকেই সবচেয়ে বড় করে দেখা হয়। এরপর যা দাঁড়ায়, তা হলো মালের নিরাপত্তা। অথ্যাৎ প্রথমে মানুষের জানের নিরাপত্তা এবং পরে মালের নিরাপত্তা। বলাবাহুল্য যে, জীবনের নিরাপত্তার কথা বলতে গেলে, আমরা নিয়ত অন্ধকারে প্রতিনিয়ত হাবুডুবুু খাচ্ছি। এর সাথে যুক্ত হলো, এখন চুরির উপদ্রব। এক কথায় ঘরের মালা-মালের নিরাপত্তা অনেকটা উধাও হয়ে যাচ্ছে। অন্তহীন সমস্যার এ দেশে একদিকে অভাব-অনটন আর অন্যদিকে বিভিন্ন ব্যবস্থা-অব্যবস্থা মানুষকে নিত্যনতুন সমস্যার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। চারদিকে শুধু সমস্যা আর সমস্যা। যাক বলতে চাচ্ছিলাম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় চোরের উপদ্রব বেড়ে যাওয়ার কথা।

Advertisement

গত কয়েক মাস ধরে থানার শীতল ঝর্ণা আবাসিক এলাকা, কুলগাঁও মাইজপাড়া, তামান্না আবাসিক সংলগ্ন বায়তুল সালাম মসজিদের পাশের বিল্ডিং, কয়লার ঘর এলাকা, নয়ারহাট, কালারপোল ও আশপাশের এলাকার বাসা-বাড়ি, অফিস ও দোকানে চুরির ঘটনা বেড়ে গেছে। প্রতিদিনই ঘটছে চুরির ঘটনা। কুলগাঁও মাইজপাড়া এলাকার বিভিন্ন বিল্ডিং ও বাসা থেকে চোরের দল সু-কৌশলে জানলার লক কিংবা কাঁচ খুলে মোবাইল, টাকা-পয়সাসহ বিভিন্ন জিনিষপত্র নিয়ে যাচ্ছে।

শীতল ঝর্ণা ও আশপাশের এলাকার বাসা-বাড়িতেও ঘটছে একই রকম চুরি। এরমধ্যে সাইকেল চুরিরও ঘটনা ঘটেছে। সর্বশেষ ৫ সেপ্টেম্বর তামান্না আবাসিক সংলগ্ন বায়তুল সালাম মসজিদের পাশের বিল্ডিংয়ে অবস্থিত প্রগতিশীল সংবাদপত্র পাঠক লেখক ফোরামের কার্যালয়ে চুরির ঘটনা ঘটেছে।

চোরেরদল অত্যন্ত সু-কৌশলে অফিসের তালা খুলে চুরি করে আবারো তালা বদ্ধ করে চলে যায়। বিষয়টি থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে। বাকিটা দেখার বিষয়। এই যদি হয় অবস্থা, তাহলে সাধারণ মানুষ যাবে কোথায়? মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দায়িত্ব অবশ্যই সরকারের।

সরকারের পক্ষথেকে আইন প্রয়োগকারি সংস্থাই এই নিরাপত্তা দেয়ার কথা। আমাদের সমাজে থানা পুলিশের গুরুত্ব এতটাই বেশী যে, প্রতিনিয়ত প্রতিটি ক্ষেত্রে পুলিশের প্রয়োজন পড়ে। চোর-ডাকাতের হানা, স্বামী-স্ত্রীতে বিবাদ, মহল্লায় দাঙ্গা-হাঙ্গামা সব কিছুতে পুলিশ ডাকতে হয়। এক্ষেত্রে কাজের কাজ কতটুকু হচ্ছে, তা বলা মুশকিল। তবে এ কথা অনস্বিকার্য সত্য যে, আইন-শৃংখলা বাহিনী এই নিরাপত্তা আমাদের দিতে পারছেন না।

খুন-খারাবি, সন্ত্রাস-রাহাজানি, ছিনতাই-ডাকাতি দমনে পুলিশকে এমনভাবে নিয়োজিত রাখা হয়েছে যে, মানুষের মালের নিরাপত্তা রক্ষায় সেই কাঙ্খিত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা পুলিশের পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠছে না। এ অবস্থাই যা হওয়ার তা-ই হচ্ছে। আমরা মনে করি উল্লেখিত এলাকাগুলোর পাড়া-মহল্লায় পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার, চুরির মামলার দ্রুত তদন্ত ও বিচার এবং থানা পুলিশের কাছে এসব চোরদের যে তালিকা আছে, তা ধরে গ্রেফতার অভিযান চালালে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটতে পারে। মানুষের জান-মালের নিরাপত্তা নিশ্চিতে আইন প্রয়োগকারি সংস্থা এমন পদক্ষেপ গ্রহন করবেন এমনটা প্রত্যাশা সবার।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here