কামরুল ইসলাম হৃদয়,বান্দরবান: অনুসন্ধানে জানা গেছে, বান্দরবান জেলায় ৩৮টি ইটভাটায় পুড়ছে জ্বালানি কাঠ। বান্দরবানে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে জেলায় ইটভাটা রয়েছে মাত্র ৯টি। বাস্তবে ৩৮টি ইটভাটা থাকলেও বান্দরবান জেলা প্রশাসনের নিকট কোন নির্দিষ্ট হিসাব নেই। ৩৮ টি ইটভাটায় প্রতিদিন কাঠপোড়ানো হলেও প্রশাসন রয়েছে নির্বিকার। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তাদের সন্তুষ্ট করেই ইটভাটাগুলোতে অবাধে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে বলে সচেতনমহল ও সংশ্লিষ্ট মৌজা প্রধানরা অভিযোগ করেছেন। ইটভাটার অনুমতি পত্র প্রদান কারী কর্তৃপক্ষ জেলা প্রশাসনের নথিপত্রে জেলার লামা ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় ২টি এবং সদর উপজেলায় ৭টি সহ মোট ৯টি ভাটার অনুমতি পত্র বা লাইসেন্স থাকলেও বাকি ২৯ টি ইটভাটা সম্পুর্ন অবৈধ। লামা , আলীকদম, নাইক্ষ্যংছড়ি ও রুমা উপজেলায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রুমা উপজেলার থানা এলাকা ও বন বিভাগে পলিরেঞ্জের সরকারী সেগুন বাগানের পাশেই ড্রামের চিমনি ব্যবহৃত অবৈধ ইটভাটায় প্রতিদিন অবাধে পুড়ছে কাঠ। বনবিভাগের পলি রেঞ্জ অফিস ও সরকারী সেগুন বাগান থেকে ১০ গজের মধ্যেই এই অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হলেও নীরব রয়েছে প্রশাসন। এদিকে আলীকদমের পান বাজার এলাকায় ৩ টি ও বটতলীতে ১টি সহ ৪টি অবৈধ ইটভাটায় পুরো দমে কাঠ পোড়ানো হলেও দেখার কেউ নেই। অপরদিকে লামা উপজেলায় ফাইতং ইউনিয়ন ও ফাসিয়াখালী ইউনিয়নসহ লামা সদরের ১৬ টি অবৈধ ইটভাটায় ভয়াবহ অবস্থায় কাঠ পোড়ানোর চিত্র দেখা গেছে। ফাসিয়াখালী ইউনিয়নের হারগাজা, সাপেরঘেরা , কাগজিখোলা ও গয়ালমারা এলাকায় সরেজমিনে দেখা গেছে , এক চিমনি বিশিষ্ট ইটভাটায় প্রতিদিন ৫ শত মণ কাঠ পোড়ানো হয় বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইটভাটার এক শ্রমিক জানিয়েছেন। একটি হিসাবে দেখা গেছে, প্রতিটি ইটভাটায় বছরে ১ থেকে ২ লাখ মণ কাঠ পোড়ানো হলে ৩৮ টি ইটভাটায় বছরে পোড়ানো হয় ৫৭ লাখ ৬০ হাজার মণ কাঠ। এ হিসাবে তিন পার্বত্য জেলার ৯৮টি ইটভাটায় ১ কোটি ৭৬ লাখ ৪০ হাজার মণ কাঠ পোড়ানো হয়ে থাকে। সম্প্রতি বান্দরবান বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এস এম মুনিরুল ইসলামের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে জেলা সদরের নাছিরুল আলম(সাংবাদিক), চাল ব্যবসায়ী কাদের, সদর উপজেলা চেয়াম্যান আব্দুল কুদ্দুছ ও নারায়ণ মালিকানার ৪ টি ইটভাটা থেকে ২৪ ট্রাক কাঠ জব্দ করা হলেও কোন আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় বন্ধ হয়নি কাঠ পোড়ানো মহোৎসব। অন্যদিকে নাইক্ষ্যংছড়িতে ৩টি ও রোয়াংছড়ি পাগলাছড়ায় ১টি অবৈধ ইটভাটায় ভয়াবহ আকারে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। ইটভাটার মালিক খায়রুল বাশার, জসিম উদ্দিনসহ অন্যান্য মালিকরা তাদের অবৈধ ইটভাটায় কাঠ পোড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করে জানান, সব কাঠ বনের নয়। মালিকানা বাগান থেকে ক্রয় করে নেয়া হচ্ছে। কাঠ পোড়ানোর ক্ষেত্রে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করে কাজ করতে হয় বলে জানান ইটভাটার মালিকরা। লামার ফাসিয়াখালী ইউপি চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন ও আলীকদম ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন বলেন, সব ইটভাটায় কাঠ পোড়ানো হচ্ছে। প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বসে থাকায় অবৈধ ইটভাটা গুলোতে বেপরোয়া হারে কাঠ পোড়ানোর সুযোগ পাচ্ছে। ফাইতং ইটভাটা মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফকরুল ইসলাম বলেন, কিছু ভাটার অনুমোদনের জন্য আবেদন করে রাখা হয়েছে। লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খিন ওয়ান নু অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন, ইটভাটাগুলোতে অভিযান চালিয়ে লাখ লাখ টাকা জরিমানা করা হচ্ছে। কাঠ পোড়ানো রোধে প্রশাসন ইট ভাটাগুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক দিলীপ কুমার বণিক বলেন, উন্নয়ন কাজে ইটভাটা প্রয়োজন হলেও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এই জন্য ইটভাটা গুলোতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
