বরগুনার তালতলীতে অগ্নিদগ্ধে ঘুমন্ত শিশুর মৃত্যু

0
22

রমিজ জাবের :  বরগুনার তালতলীতে বসতঘরে অগ্নিদুর্ঘটনায় ঘুমন্তাবস্থায় থাকা জুনায়েদ নামের (০৬) বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ছোট ভাইয়ের মৃত্যুর সংবাদে বড়ো ভাই জুবায়ের (১৮) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করানো হয়।

Advertisement

সোমবার (০৩ জুন) রাত ৮ টার পরে উপজেলার নিশান বাড়িয়া ইউনিয়নের, বড় অঙ্কুজান পাড়ার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩নম্বর গেট সংলগ্ন, জনৈক কালাম গাজী নামক তালতলী চায়না তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কর্মরত শ্রমিকের বসতঘরে আকস্মিক অগ্নিসংযোগের ঘটনায়,
বসতঘর পুড়ে যাওয়া ও শিশু জুনায়েদের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম খান মিলন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকায় সন্ধার পরে অন্ধকার ঘর আলোকিত করতে কেরোসিনের ল্যাম (কুপি) জ্বালিয়ে ঘর আলোকিত করেন শিশু জুনায়েদ এর মা কুলসুম বেগম, এর কিছু সময় পরে শিশুটি ঘুমিয়ে পড়লে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাথরুমে যান মা কুলসুম, সেখান থেকে ঘরে আগুন জ্বলতে দেখে চিৎকার চেচামেচি শুরুর এক পর্যায়ে স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার ব্যার্থ চেষ্টা চালান।

এ সময় মাত্র তিন থেকে চার কিলোমিটার দূরে অবস্থিত তালতলী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের মোবাইল নম্বরে কল করলে বেশ কয়েকবার চেষ্টার পরে ফোন রিসিভ করেন, তালতলী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ সময় তিনি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌছানোর আশ্বাস দেন।

ফোনে কথা বলার ৩০ মিনিট অতিবাহিত হলেও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে না পৌছালে এলাকাবাসী আবারো ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের মোবাইল ফোনে কল করলে ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশন থেকে কর্মীরা ঘটনাস্থলে উদ্দেশ্যে গিয়েছেন বলে জানানো হয়। প্রায় পঞ্চাশ মিনিট পরে মাত্র চার কিলোমিটার দুরত্বের ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে সক্ষম হয় তালতলী ফায়ার সার্ভিস ষ্টেশনের কর্মীরা।

ততক্ষণে ঘরে ঘুমিয়ে থাকা শিশু জুনায়েদ মা বাবার চোখের সামনেই আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণ করেন ও ঘর থেকে আগুনে পোড়া শিশু জুনায়েদের মরদেহ উদ্ধার করেন।

স্থানীয়রা জানান, তালতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের নাম্বারে বারবার ফোন করা স্বত্বেও ফায়ার সার্ভিসের গাড়ির এ্যালার্ম নষ্ট থাকায় ঘটনাস্থলে পৌছতে ফায়ার সার্ভিসের কর্মিদের ৪০ থেকে ৫০ মিনিট সময় লাগে। ততক্ষণে বসত ঘরটি পুড়ে ছাড়-খার হয়ে যায়, এ সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে থাকা শিশু জুনায়েদ এর সাড়া শরীর আগুনে পুড়ে আঙ্গার হয়ে যায়।

এ ঘটনায় তাৎক্ষণিক তালতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিফাত আনোয়ারা তুম্পা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন, এ সময় তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী, মনিরুজ্জামান মিন্টু, রেজবি-উল-কবীর জোমাদ্দার এবং নিশানবাড়িয়া ইউনিয়ন চেয়ারম্যান, কামরুজ্জামান বাচ্চু সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

এ প্রতিবেদন লেখার সময়, আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কারন জানাতে না পেরে, ফায়ার সার্ভিস গাড়ির এ্যালার্ম নষ্ট থাকার কথা শিকার করেন তালতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন মাস্টার মোঃ বদিউজ্জামান। তবে তালতলী ফায়ার সার্ভিস স্টেশন থেকে ৪-৫ কি.মি. দুরত্বের ঘটনাস্থলে পৌছাতে কেনো ৫০মিনিটের বেশি সময় লাগলো, এমন প্রশ্নের জবাবে তালতলী উপজেলা চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনী শেষ দিনের পথসভায় আসা মানুষের ঢলে সড়ক আটকে যাওয়ার দরুন জ্যাম সৃষ্টিতে ঘটনাস্থলে পৌছে ফায়ার সার্ভিস কর্মিদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়েছে বলে জানান তিনি।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম খান মিলন বলেন, অগ্নি দুর্ঘটনায় ঘর পুড়ে যাওয়া ও এ সময় দগ্ধ হয়ে জোনায়েদ নামের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এবিষয়ে তালতলী থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে এবং এ ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here