এম শাহীন আলম : বগুড়ার কাহালু ও দুপচাঁচিয়া উপজেলার নাগর নদীর তীর থেকে অবৈধভাবে বালু ও মাটি উত্তোলনের মহা উৎসবে মেতে উঠেছে ভূমি দস্যুরা প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিনরাত বালু উত্তোলন করছেন । এরই মাঝে দুপচাঁচিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমন জিহাদি গত কয়েকদিন পূর্বে নাগর নদীর তীর থেকে একটি মাটি কাটা মেশিন একটি ট্রাক তিনটি ড্রেজার মেশিন সহ ১০ জন মাটি কাটার শ্রমিককে গ্রেফতার করে। এতেও ক্ষান্ত হয়নি নাগর নদীর তীরে মাটি উত্তোলনকারী ভূমিদস্যদের চোখ তাদের কারণে আশেপাশের বসতবাড়ি কবরস্থান ইত্যাদি আজ ধ্বংসের মুখে ।
শোনা যায় প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের নেতারা বা ক্ষমতাসিল আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পথ ধারি নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে এই ভূমিদস্যুরা ভালো উত্তোলন করছে কাহালু ও দুপচাঁচিয়া থানা ম্যানেজ করে চলছে এই বালুর বাণিজ্য রেহাই পাচ্ছে না এলাকার বসবাসের স্থানটুকু ইতিমধ্যে ১১ জনের নামে বালুত্তলেন উত্তোলনের অপরাধে মামলা হয়েছে ভালো উত্তোলনকারী হিসাবে যেসব ভূমিদস্যুদের নাম উচ্চারিত হচ্ছে তারা এসব এলাকার আশেপাশে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এদের মধ্যে রয়েছেন বীরকেদার ইউনিয়ন পরিষদের বর্তমান প্যানেল চেয়ারম্যান আনিসুর মিস্ত্রি ,সেলিম হোসেন ,শাজাহান আলী ,রাব্বি মিয়া ,জাকের মন্ডল , একলাশ আলী ,দুলুন ,ও তার ছেলে আলামিন। পরে আকটকৃতদের বালু মহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ৪ (গ) ধারা লঙ্ঘনে ১৫(১) ধারায় শাস্তি দেওয়া হয়। অপরদিকে ঐ বালু মহালের লক্ষ টাকা অনাদায়ে ৩ মাসের জেল জরিমানা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত ২৯ শে নভেম্বর ঐ দিনে নানা অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে নিউজ করা হয়। সেই নিউজের শিরোনাম হয়েছিল “নাগর নদ থেকে বালু উত্তোলন ফসলি জমির মাটি যাচ্ছে ইট ভাটায়”। এরপর নিউজটি দুপচাঁচিয়া উপজেলা প্রশাসনের দৃষ্টিগোচর হয়।তিন লাখ এরপর ৩রা ফেব্রুয়ারী দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান দেওয়া হয়। নিউজের সত্যতা পেলে ভ্রাম্যমাণ আদালত করে এই জরিমানা করা হয়।
পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন জিহাদী সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমরা বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে ব্যাস্ত থাকি, এই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে এই বালু ব্যবসায়ীরা অসৎ উদ্দেশ্য অবৈধভাবে নাগর নদী তীর থেকে মাটি ও বালু উত্তোলন করছিল। পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলে বিষয়টি আমাদের নজরে আসে। এরপর আমরা বালু মহালে উপস্থিত হয়ে সংবাদের সত্যতা পাই। এরপর আইনের মাধ্যমে তাদের শাস্তি ও জরিমানা করা হয়েছে। আগামীতে এরকম অনিয়ম করলে আবারও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন জিহাদী ।
বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর আবারো পুরো দমে শুরু হয়েছে নাগর নদে অবৈধ ভূমিদস্যদের বালু উত্তোলন এলাকাবাসী জানায় এসব ভালো উত্তোলনে আরো জড়িত আছেন দুপচাঁচিয়া উপজেলা পরিষদের ভাইয়ের চেয়ারম্যান উপজেলা আওয়ামী যুবলীগের সভাপতি আহাম্মেদুল ইসলাম বিপ্লব ,উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মহসিন আলী ,দুপচাঁচিয়া পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আশরাফউদ্দৌলা সাগর ,কাউন্সিলর এস এম কায়কোবাদ ,কালাই ঘোনপাড়ার সাইফুল ইসলাম হাসু প্রমুখ।

