স্টাফ রিপোর্টার ঃ
বংশাল থানার এস.আই মাহবুব এর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সহযোগিতায় গুলিস্তান এলাকায় ছিনতাই, মাদক ও নারী সিন্ডিকেটটি চলছে বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে, এস.আই মাহবুব বংশাল থানায় যোগদানের পর থেকে ওই সিন্ডিকেটটির সাথে সখ্যতা রেখে নিজের পকেট ভারী করে চলেছেন। গুলিস্থান এলাকায় যদি কেউ ছিনতাইকারীর কবলে পড়ে এবং পরে বংশাল থানায় অভিযোগ করতে যায়। তখন এস.আই মাহবুব ভুক্তভোগীকে মামলা করার ভান করে কৌশলে থানা থেকে বিদায় করে দেন। পরে ওই সিন্ডিকেটের সাথে যোগাযোগ করে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেয় বলে জানা গেছে। সূত্রে জানা গেছে, গত ১৬/৯/২০১৭ ইং তারিখ দুপুরে খিলগাঁও এর মামুন দোকানের মালামাল কেনার জন্য বঙ্গবাজারের উদ্দেশ্যে যায়। গুলিস্তান নেমে সুন্দরবন স্কয়ার সুপার মার্কেটের অপজিটে আল-আমীন হোটেলে ভাত খেয়ে বের হয়ে সিগারেট কিনতে যায়। তখন গুলিস্তানের মুক্তা-মনি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার ও পূর্ব পরিচিত রতন মামুনকে বলে পকেট ভারী কেনো? রতন পূর্ব পরিচিত হওয়ায় মামুন অকপটে জানায়, পকেটে টাকা আছে। দোকানের মাল কিনতে বঙ্গবাজার যাবো। এ কথা বলার সাথে সাথেই রতন বলে টাকাগুলো দে। টাকা দিতে না চাইলে ওই সময় রতন ও তার সহযোগি কানা জাহাঙ্গীর, লম্বা জাহাঙ্গীরসহ ৫/৬ জন মামুনকে টেনে হিঁচড়ে মুক্তা-মনি আবাসিক হোটেলের মধ্যে নিয়ে যায়। টাকা দিতে অস্বীকার করলে রতন চাকু দিয়ে মামুনের কানে ও গলায় পোচ দেয় এবং পকেট থেকে টাকা ও মোবাইল কেড়ে নেয়। রক্তাক্ত অবস্থা দেখে এক অজ্ঞাত পথচারী তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে চিকিৎসা শেষে ওই দিন সন্ধ্যায় বংশাল থানায় যায় অভিযোগ দায়ের করার জন্য। কিন্তু দীর্ঘ সময় বসে থাকলেও ডিউটি অফিসার এস.আই মাহবুব বিষয়টি গুরুত্ব দেয় না। পরে ওসি নির্দেশ দিলে ডিউটি অফিসার এস.আই মাহবুব মামলাটি নেওয়ার জন্য কাগজ-কলম বের করেন। কিন্তু মামুন রতনের নাম উল্লেখ করতেই এস.আই মাহবুব বলেন আমার হাতের লেখা দেখেই রতন চিনে ফেলবে। আপনি নিজে লেখেন। পরে থানার একজন অভিযোগটি লিখে দেন। ওই সময় মামুন ডিউটি অফিসারকে তার সই নেওয়ার কথা বললে, তিনি বলেন সই-টই কিছু লাগবে না। আপনার মামলা হয়ে গেছে, আপনার আইও এস.আই রফিকুল হাসান। জানা গেছে, রাতেই মামুন এস.আই রফিকুল হাসান এর সাথে দেখা করেন। এস.আই রফিকুল হাসান মামলার কপি দেখতে চাইলে, মামুন বলেন থানা থেকে কোন মামলার কপি দেয়নি। পরে এস.আই রফিকুল হাসান থানায় এলে ডিউটি অফিসার এস.আই মাহবুব এর সাথে কথা বলেন। কিছুক্ষণ পরেই এস. আইদ্বয় মামুনের সাথে অহেতুক কথাবার্তা বলতে থাকেন। এক পর্যায়ে মামলার কোনো কপি না দিয়েই মামুনকে পরে যোগাযোগ করার কথা বলে থানা থেকে বিদায় করে দেন। অভিযুক্ত মুক্তা-মনি আবাসিক হোটেলের ম্যানেজার রতনের মোটা অঙ্কের টাকায় এস.আই মাহবুব ও এস. আই রফিকুল হাসান ম্যানেজ হয়ে মামুনের বিষয়টি নিয়ে টাল-বাহানা করছেন বলে সূত্রটি জানায়। অসহায় মামুন বিচারের আশায় দ্বারে-দ্বারে ঘুরছেন বলে জানা গেছে।

