প্রেমে ব্যর্থ হয়ে গৃহবধূকে হত্যা

0
646

ফরিদগঞ্জে গৃহবধূ জাহেদা আক্তার মিশুকে একাই ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছে সুজন খান। বুধবার বিকেলে চাঁদপুরের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম মো. কামালউদ্দিনের আদালতে এই জবানবন্দি প্রদান করে সে।

Advertisement

১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিতে সুজন খান আরো জানায়, মিশুকে সে অনেক ভালোবাসত। দীর্ঘদিন ভালবাসার পরেও তার সাথে বিয়েতে রাজি না হওয়া ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তার পরেও অন্যত্র মিশুর বিয়ে হয়। সেখান থেকে তার বিতরে আরো চাপা ক্ষোবের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে বিবাহিতা মিশুকে স্বামীর ঘর ছেড়ে নতুন করে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। মিশুর স্বামীর সংসারে জামেলা হওয়ার পরে মিশু বাপের বাড়িতে থাকতো। সে সময় মিশু কিছুদিন তার সাথে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। তাদের সম্পর্ক মাঝখানে মিশুর কাজিনের সাথে মিশু বিয়ের কথা বার্তা চলতে ছিল। এতে মিশু আগের অবস্থানেই থাকে এবং তার বিয়ের প্রস্তাবে অস্বীকৃতি জানায়। এ কারণে ক্ষিপ্ত হয়ে মিশুকে দুনিয়া থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সুজন। আর তাই গত সোমবার ভোরে সুজন একাই মিশুদের বসতঘরে প্রবেশ করে।

এর পর সে সময় তার কাছে থাকা ধারালো দা দিয়ে মিশুর মুখমন্ডলসহ শরীরের বিভিন্নস্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্বজনরা উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মিশু মারা যায়। মিশুর মৃত্যুর কথা জেনেও সুজন এলাকায় অবস্থান করে। আদালতে স্বীকারোক্তির পর বিচারকের নির্দেশে সুজনকে জেলহাজতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফরিদগঞ্জ থানার ভার্রপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রকিবের নেতৃত্বে একদল পুলিশ উপজেলার চরমুঘুয়া গ্রাম থেকে সুজনকে গ্রেপ্তার করে।

নিহত মিশুর মা সেলিনা আক্তার মেয়ে হত্যার ঘটনায় সুজন খানসহ পাঁচজনকে আসামি করে ফরিদগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। পুলিশ এরই মধ্যে এই ঘটনায় প্রধান আসামি সুজন খান ছাড়াও আরো দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here