উত্তর: বিবাহের ক্ষেত্রে ছেলেমেয়ের বয়স কত হবে- ইসলাম এটা নির্ধারণ করে দেয়নি। তবে আল্লাহ কুরআনে বলেছেন:
وَأَنْكِحُوا الْأَيَامَى مِنْكُمْ وَالصَّالِحِينَ مِنْ عِبَادِكُمْ وَإِمَائِكُمْ
সূরা: (২৪) নূর, আয়াত: ৩২।
তোমাদের মধ্যে যাদের বয়স হয়েছে, অর্থাৎ তেরো-চোদ্দ-পনেরো-ষোলো-সতেরো-আঠারো-উনিশ-বিশ, এদের বিয়ে দাও।” কাজেই, বালিগ-বালিগা হলেই বিয়ে দেয়া শরীআতে বৈধ। আলী (রাদিআল্লাহু আনহু)-এর সাথে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর মেয়ে ফাতিমার বিবাহ হয়েছিল। এক রিওয়ায়াতে এসেছে তখন ফাতিমার বয়স ছিল আঠারো। আলীর বয়স ছিল একুশ। আবার অন্য রিওয়ায়াতে কমের কথাও এসেছে। পনেরো-ষোলোর কথাও আছে। বিবাহের ন্যূনতম কোনো বয়স নেই। যে কোনো বয়সে বিবাহ হতে পারে। তবে সাধারণভাবে সতেরো-আঠারোতে বিবাহ হওয়া উচিত। এটা হল ইসলামি ব্যবস্থা। আর কাফিরদের ব্যবস্থা হল, বিবাহ কঠিন করো,ব্যভিচার সহজ করো। আমরা বর্তমানে এই আইনে চলি। যেমন ছেলের বয়স বিশ-বাইশ-পঁচিশ হয়ে গেছে, বিয়ে করবে, বাপ-মা বিয়ে দেবে না।
চাকরি পাও, তারপর বিয়ে করো। আগে বিল গেটস হও, তারপর বিয়ে। তখন তো আর বউয়ের দরকার থাকবে না। অর্থাৎ বিয়ে হল শার্ট-প্যান্টের মতো। ওটা গায়ে পরতে হবে। যখন যুবক-যুবতির ভেতর ইমোশন থাকে… সিমেন্টে আপনি পানি দেন, জমাট বাধবে। মাটিতে পাঁচদিন ফেলে রাখেন, তারপর পানি দেন, জমাট বাধবে না। ইমোশনের বয়সের ভেতর যখন যুবক-যুবতিদের বিয়ে হবে, তখন সংসারের ঝামেলার আগেই তাদের ভালোবাসাটা জমে যাবে। এটা ভালো। বিশেষ করে তাদের যৌবনের চাহিদা, উচ্ছলতা, উন্মাদনা- এই সময় বিয়ে দেবেন না, নানা রকম পাপের ভেতর ডুববে, এরপর যখন বিয়ের আগ্রহ হারিয়ে ফেলবে, তখন বলবে যে বিয়ে করাই লাগবে একটা। কী জন্য? বুকশেলফে সাজিয়ে রাখার জন্য।
এটা হল ব্যভিচারি সভ্যতা। দুর্ভাগ্যজনক হল, এটা আপনারাও করেন। ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার জন্য ছেড়ে দিয়েছেন। তাদের ভেতর বিয়ের আবেগ আসলে তখন বিয়ে দেবেন না। আপনি জানছেন, বিয়ে না দিলে সে পাপে জড়াতে পারে, তাও মেনে নেন। এটা অন্যায়। ছেলেমেয়ের বয়স আঠারো-উনিশ-বিশ হলে বিয়ে দিয়ে দেন। আল্লাহ কুরআনে কী বলেছেন সেটা শেষ করি। তিনি বলেছেন, তোমাদের মধ্যে যারা অবিবাহিত, তাদেরকে বিয়ে দাও। যদি তারা অসচ্ছল হয়,
وَإِمَائِكُمْ إِنْ يَكُونُوا فُقَرَاءَ يُغْنِهِمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
আল্লাহ বরকত দেবেন।
وَلْيَسْتَعْفِفِ الَّذِينَ لَا يَجِدُونَ نِكَاحًا حَتَّى يُغْنِيَهُمُ اللَّهُ مِنْ فَضْلِهِ
সূরা (২৪): নূর, আয়াত: ৩২-৩৩।
এরপর আল্লাহ দারিদ্রকে দুইভাগ করলেন। কোনো যুবক অসচ্ছল, মোটামুটিভাবে বউ চালাতে পারে, বাবার পয়সা আছে, আল্লাহ বললেন, বিয়ের পরে তিনি বরকত দিয়ে দেবেন। আর যার মোটেও টাকা নেই, তাকে আল্লাহ বলেননি, আল্লাহর উপর তায়াক্কুল করে বিয়ে করে ফেলো। আল্লাহ বলেছেন, তারা নিজেকে পবিত্র রাখুক। কর্ম করে সচ্ছলতা অর্জন করুক। বাল্যবিবাহ নিয়ে আমাদের আইন খুব কঠিন। সরকার বয়স একটু কমাতে চেয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের দেশের মানবাধিকারবাদিরা নাকি খুব প্রতিবাদ করছেন। বাল্যবিবাহ ইসলাম উৎসাহ দেয়নি। কিন্তু বৈধ রেখেছে। বাল্যবিবাহ মানে আঠারোর আগে যে মেয়ের বিয়ে হল, সেটা বাল্যবিবাহ। বাল্যবিবাহের ক্ষতি কী? বাল্যবিবাহ হলে যে মেয়েটার বিবাহ হল, তার শরীর ভেঙে যায়, তার উপর অত্যাচার হয়, বিভিন্ন রোগব্যাধিতে আক্রন্ত হয়। ঘটনা তো এরকমই, নাকি ভাই? আরেকটা জিনিস হয়, সেটা হল, ওর যে বাচ্চাকাচ্চা হয়, তারা মানুষ হয় না। এখন বলেন তো, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, ডক্টর ইউনুস, বঙ্গবন্ধু, আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর- আমরা কি বাল্যবিবাহের সন্তান নই? আমাদের মায়েদের কারোরই আঠারোর পরে বিয়ে হয়নি। সব আঠারোর আগে।
তার মানে আমরা কেউ মানুষ হইনি! এখন সন্তানরা বেশি মানুষ হচ্ছে! দ্বিতীয় কথা হল, আমাদের মায়ের প্রজন্ম এবং দাদি-নানির প্রজন্ম ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত টনটনে সুস্থ। তেরো-চৌদ্দ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে, আট-নয়টা সন্তান হয়েছে, বাড়িতে মেহমান আসলে মেহমানদারি করেছে, পাশের বাড়িতে বেশি মেহমান এসেছে, সেই বাড়ি গিয়ে রান্না করে দিয়ে এসেছে, এরপরেও ৭০/৭৫ বছর বয়সেও টনটনে। আর আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম যারা ২৫ থেকে ৩০ বছরে বিয়ে হচ্ছে। ৩৫ এর আগেই মাথা ব্যথা, গায়ে ব্যথা, নানান অসুখ। বাড়িতে মেহমান আসলে কান্নাকাটি শুরু হয়ে যায়। এমনকি বাড়ির নিজের রান্না করতেও চায় না। কী লাভ হচ্ছে এতে, আমি জানি না।

