উত্তরঃ মহান আল্লাহ পাক পবিত্র কুরআনের বহু জায়গায় মহান আল্লাহর পরিচয় বর্ণনা করেছেন এর মধ্যে থেকে কয়েকটি আয়াতের অর্থ উপস্থাপন করছি । অর্থঃ” আল্লাহ সব কিছুর স্রষ্টা এবং তিনিই সব কিছুর ব্যবস্থাপক । আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর চাবি- কাঠি তাঁরই নিকট । যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ কে অস্বীকার করে তারাই তো ক্ষতিগ্রস্ত ।” ( সূরাঃ যুমার, আয়াত নং: 62-63 ) অর্থঃ “আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর কর্তৃত্ব তাঁরই; তিনি জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান; তিনি সর্ব বিষয়ে সর্ব শক্তিমান । তিনিই আদি, তিনিই অন্ত, তিনিই জাহের, তিনিই বাতেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে অধিক অবহিত ।” ( সূরাঃ হাদীদ, আয়াত নং: 2-3 ) অর্থঃ1.” বলুনঃ আল্লাহ একক (ও অদ্বিতীয়), 2. আল্লাহ কারো মুখাপেক্ষী নন, ( সবাই তাঁর মুখাপেক্ষী ) ; 3. তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং তাঁকে ও জন্ম দেয়া হয়নি, 4. এবং কেউ তাঁর সমকক্ষ নয় ।” ( সূরাঃ ইখলাস) “অর্থঃ তিনি আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক, সব কিছুর স্রষ্টা; তিনি ব্যতীত ( সত্য ) কোন মা’বুদ নাই, সুতরাং তোমরা কোথায় পথভ্রষ্ট হয়ে ঘুরছ?” ( সূরাঃ মু’মিন, আয়াত নং: 62 ) অর্থঃ” আল্লাহ আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীর নুর (জ্যোতি)।” ( সূরাঃ নূর, আয়াত নং:35 ) “অর্থঃ তিনিই জীবন দান করেন ও মৃত্যু ঘটান এবং যখন তিনি কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন তখন তিনি বলেনঃ হও এবং তা হয়ে যায় ।” ( সূরা মু’মিন, আয়াত নং: 68 ) অর্থঃ” নিশ্চয় তোমাদের মা’বুদ এক । যিনি আকাশমন্ডলী ও পৃথিবী এবং এতদুভয়ের অন্তর্বর্তী সব কিছুর প্রতিপালক এবং প্রতিপালক সকল উদয় স্থলের ।” ( সূরাঃ সা-ফ্ফা-ত, আয়াত নং: 4-5 ) অর্থঃ” তিনি আল্লাহ তোমাদের প্রতিপালক, তিনি ছাড়া অন্য কেউ সত্য মা’বুদ নাই, প্রত্যেক বস্তুরই স্রষ্টা তিনি , অতএব তোমরা তারই ইবাদত করতে থাকবে , তিনিই তোমাদের সব জিনিসের কার্যনির্বাহী ।” ( সূরাঃ আন’আম, আয়াত নং: 102 ) “অর্থঃ তিনি তোমাদের জন্য পৃথিবীতে যা কিছু আছে – সমস্তই সৃষ্টি করেছেন; অতঃপর তিনি আকাশের প্রতি মনঃসংযোগ করেন, অতঃপর সপ্ত আকাশ সুবিন্যস্ত করেন এবং তিনি সর্ব বিষয়ে মহাজ্ঞানী ।”( সূরাঃ বাকারাহ, আয়াত নং: 29 ) “অর্থঃ আল্লাহ তিনি ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা’বুদ নাই, তিনি চিরজীবন্ত ও সবার রক্ষণা-বেক্ষণকারী, তন্দ্রা ও নিদ্রা তাঁকে স্পর্শ করে না, নভোমন্ডলে ও ভূমন্ডলে যা কিছু রয়েছে সব তাঁরই; এমন কে আছে যে তাঁর অনুমতি ব্যতীত তাঁর নিকট সুপারিশ করতে পারে ? তাদের সম্মুখের ও পশ্চাতের সবই তিনি অবগত আছেন; তিনি যা ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত তাঁর অনন্ত জ্ঞানের কোন বিষয়ই কেউ আয়ত্ব করতে পারে না ; তাঁর কুরসী নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল পরিব্যক্ত হয়ে আছে এবং এতদুভয়ের সংরক্ষণে তাঁকে পরিশ্রান্ত করে না এবং তিনি সমুন্নত, মহীয়ান ।” ( সূরাঃ বাকারাহ, আয়াত নং: 255 ) “অর্থঃ তিনিই জীবন দান করেন এবং তিনিই মৃ’ত্যু ঘটান, আর তোমরা তারই পানে প্রত্যাবর্তিত হবে ।” ( সূরা ইউনুস, আয়াত নং: 56 ) “অর্থঃ তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত ( সত্য ) কোন মা’বুদ নেই, তিনি অদৃশ্য এবং দৃশ্যের সব কিছুই জানেন; তিনি দয়াময়, পরম দয়ালু । তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত সত্য কোন মা’বুদ নাই । তিনি অধিপতি, অতীব পবিত্র, পরিপূর্ণ শান্তিদাতা, নিরাপত্তা দানকারী, রক্ষক, পরাক্রমশালী, প্রবল, অতীব মহিমান্বিত, যারা তার শরীক স্থির করে আল্লাহ তা হতে পবিত্র, মহান । তিনিই আল্লাহ সৃজন কর্তা, উদ্ভাবন কর্তা, রূপদাতা, সকল উত্তম নাম তাঁরই । আকাশ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে, সবই তাঁর মহিমা ঘোষণা করে । তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাবান ।” ( সূরা হাশর, আয়াত নং: 22-23-24 ) “অর্থঃ আল্লাহ তোমাদের কে সৃষ্টি করেছেন মৃত্তিকা হতে; অতঃপর শুক্রবিন্দু হতে, অতঃপর তোমাদের কে করেছেন জোড়া জোড়া! আল্লাহর অজ্ঞাতসারে কোন নারী গর্ভধারণ করে না এবং প্রসব ও করে না । কোন দীর্ঘায়ু ব্যক্তির আয়ু বৃদ্ধি করা হয় না অথবা তার আয়ু হ্রাস করা হয় না, কিন্তু তাতো রয়েছে কিতাবে ( লওহে মাহফুজে ) । নিশ্চয় এটা আল্লাহর জন্য সহজ ।” ( সূরা ফাতির, আয়াত নং: 11 ) “অর্থঃ আল্লাহই বায়ু প্রেরণ করে তা দ্বারা মেঘমালা সঞ্চালিত করেন । অতঃপর আমি তা মৃত ভূ-খন্ডের দিকে পরিচালিত করি , অতঃপর আমি ওটা দ্বারা যমীনকে ওর মৃ’ত্যুর পর সঞ্জীবিত করি । পুনরাত্থান এই রূপেই হবে ।” ( সূরা ফাতির, আয়াত নং: 9 ) “অর্থঃ তিনি রাত্রিকে দিবসে প্রবিষ্ট করান এবং দিবসকে পবিষ্ট করান রাত্রিতে, তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে করেছেন নিয়ন্ত্রিত, প্রত্যেকে পরিভ্রমণ করে এক নির্দিষ্ট কাল পর্যন্ত । তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক । সার্বভৌমত্ব তাঁরই । আর তোমরা আল্লাহর পরিবর্তে যাদেরকে ডাকো তারা তো খেজুরের আঁটির সামান্য আবরণের ও অধিকারী নয় ।” ( সূরা ফাতির, আয়াত নং: 13 ) “অর্থঃ এবং তিনিই মানুষ কে সৃষ্টি করেছেন পানি হতে; অতঃপর তিনি তার বংশগত ও বৈবাহিক সম্বন্ধ স্থাপন করেছেন । তোমার প্রতিপালক সর্বশক্তিমান ।” ( সূরা ফুরকান, আয়াত নং:55 ) “অর্থঃ আল্লাহই তোমাদের জন্য পৃথিবীকে করেছেন বাসোপযোগী এবং আকাশকে করেছেন ছাদ এবং তোমাদের আকৃতি গঠন করেছেন এবং তোমাদের আকৃতি করেছেন উৎকৃষ্ট এবং তোমাদের দান করেছেন উৎকৃষ্ট রিযিক । এই তো আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক । কত মহান জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ ! ” ( সূরা মু’মিন, আয়াত নং:64 ) “অর্থঃ আল্লাহই তোমাদের বিশ্রামের জন্য সৃষ্টি করেছেন রাত্রি এবং আলোকোজ্জল করেছেন দিবসকে । আল্লাহ তো মানুষের প্রতি অনুগ্রহ শীল; কিন্তু অধিকাংশ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে না ।” ( সূরা মু’মিন, আয়াত নং:61 ) “অর্থঃ তিনিই আল্লাহ যিনি তোমাদের কে সৃষ্টি করেন দুর্বল অবস্থায়; দুর্বলতার পর তিনি দেন শক্তি, শক্তির পর আবার দেন দুর্বলতা ও বার্ধক্য । তিনি যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান ।” ( সূরা রুম, আয়াত নং:54 ) “অর্থঃ আল্লাহরই জন্যে পূর্ব ও পশ্চিম; অতএব তোমরা যে দিকেই মুখ ফিরাও সে দিকেই আল্লাহর মুখ; কেননা আল্লাহ (সর্বদিক) পরিবেষ্টনকারী পূর্ণ জ্ঞানবান ।” ( সূরা বাকারাহ, আয়াত নং:115 ) “অর্থঃ তিনিই আমাকে দান করেন আহার্য ও পানীয় ।

