প্রতিদিন ১ প্যাকেট করে ব্যনসন সিগারেট চাঁদা চাইত শাহাবুদ্দিন

0
792

স্টাফ রিপোর্টার : বয়সের ভারে নুইয়ে পরা বৃদ্ধ মোজাম্মেল হক (৬৫) ও তার যুবক ছেলে রাসেল (৩০) এর একমাত্র সম্বল ০২টি চায়ের দোকান। দূর্ভাগ্যক্রমে বেপরোয়া গতির নিয়ন্ত্রণহীন একটি ট্রাক নিমিশেই গুড়িয়ে দিল আয়-রোজগারের শেষ সম্বল চায়ের দোকান ০২টি। বহু বিপত্তির পর মালামাল সহ লক্ষাধিক টাকার ০২ দোকানের জরিমানা মিলল সর্বসাকুল্যে ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু বিশেষ পেশার পরিচয় দিয়ে সেখানেও লোভের কু-দৃষ্টি পরল একটি বেসরকারী টেলিভিশনের কার্ডধারী কথিত সাংবাদিক শাহাবুদ্দিনের। ৪০ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা চেয়েছিল অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন। চাঁদা না দিলে চিরতরে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দেয় ওই চা ব্যবসায়ীকে।

Advertisement

উপায় না পেয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন মোজাম্মেল হক। আর সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অনলাইন নিউজ পোর্টালসহ নারায়ণগঞ্জ থেকে প্রকাশিত বেশ কয়েকটি স্থানীয় পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশিত হয়। এদিকে, তথ্য প্রমান ও ভূক্তভূগির থানায় দায়ের করা অভিযোগের প্রেক্ষিতে চাঁদাবাজ শাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হলেও ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছেন শাহাবুদ্দিন। বৃদ্ধ মোজাম্মেল হক সহ তার ছেলে রাসেলকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর জোড়ালো হুমকি দিচ্ছে কথিত ওই সাংবাদিক ও তার সহযোগিরা। সময় নারায়ণগঞ্জডটকম’কে মুঠোফোনের মাধ্যমে চা ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক জানান, ‘আমি থানায় অভিযোগের পর ওসি সাহেব আমাকে বলেছে দোকান উঠাতে। কিন্তু থানায় অভিযোগ করায় শাহাবুদ্দিন বিভিন্ন লোক মারফত আমাকে হুমকি দিচ্ছে।” রোববার (২৭ মে) এক সাক্ষাৎকারে বৃদ্ধ মোজাম্মেল হক জানান, ‘গতকাল মটর সাইকেলে করে একজন কালো লোক আমার দোকানের কাছে এসে হুমকি দিয়ে বলে, ‘শাহাবদ্দিনের নামে থানায় অভিযোগ করেছ কেন ?’ একপর্যায়ে আমাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানী করার হুমকি দেয়।’ তিনি বলেন, ‘শাহাবদ্দিনকে চাঁদার টাকা দেইনি বলে সে এতো কিছু করছে। আমি গরিব এবং বয়স্ক লোক। এখন আর এতো কিছু ভয় পাই না। সত্য বলে যদি আমার ফাঁসিও হয়, তাহলেও আমি সত্য বলবো।’ তিনি আরো বলেন, ‘দোকান ভাঙ্গার আগেও শাহাবুদ্দিন আমার কাছে প্রতিদিন ১ প্যাকেট করে ব্যনসন সিগারেট চাইত। বলতো এখানে ব্যবসা করতে হলে আমাকে প্রতিদিন ১প্যাকেট করে ব্যনসন সিগারেট দিতে হবে। সে আমার এখানে চা পান করতো, কিন্তু কখনই টাকা দিত না। টাকা চাইলে গালিগালাজ করত। দোকান উঠিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত।’ কথিত সাংবাদিক শাহাবুদ্দিন নোয়াখালী জেলার স্থায়ী বাসীন্দা। বর্তমানে সে ফতুল্লার সেহাচর তক্কার মাঠে তার শ্বশুর বাড়ী এলাকায় ভাড়ায় বসবাস করছে। জানা গেছে, শাহাবদ্দিনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ একেবারে নতুনও নয়। মটর সাইকেলের সামনে একটি বেসরকারী টেলিভিশনের স্টিকার সাটিয়ে দিব্বি ঘুরে বেড়ান তিনি। সাংবাদিকতার মহান পেশাকে অপব্যবহার করে সাধারন মানুষের কাছ থেকে চাঁদাবাজীই এখন মূল লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে শাহাবুদ্দিনের। প্রঙ্গত, ফতুল্লা স্টেডিয়াম সংলগ্ন ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পশ্চিম পার্শ্বের ঢালে চা-পানের দু’টি দোকান দিয়ে ক্ষুদ্রপরিসরে ব্যবসা করছেন বৃদ্ধ মোজাম্মেল হক ও তার ছেলে মোঃ রাসেল (৩০)। গত ২১ মে রাতে শাহ সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মোজাম্মেল হক ও তার ছেলের দোকানে আঘাত হানার ফলে দোকান দু’টি ব্যপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এবিষয়ে একই তারিখ রাত্রে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্থ মোজাম্মেল হক। একপর্যায়ে ৪০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরন দেন শাহ-সিমেন্ট কোম্পানী। এরপর থেকেই ওই ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের প্রাপ্ত ক্ষতিপূরনের অর্থের দিকে লোভের দৃষ্টি পরে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিনের। চা-পান ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক ও তার ছেলে রাসেলের কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবী করে নিজেকে একটি বে-সরকারী টেলিভিশনের সাংবাদিক দাবী করে বহু ক্ষমতা জাহির করতে থাকে শাহাবুদ্দিন। চাঁদা না দিলে পিতা-পূত্রের সর্বস্ব সম্বল চায়ের দোকান দুটি বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেয় সে। এর প্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ দায়ের করে ছিলেন ভুক্তভুগি চা ব্যবসায়ী মোজাম্মেল হক। কিন্তু এরপর যেন আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন শাহাবদ্দিন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here