মোঃ আহসানউল্লাহ হাসানঃ রাজধানীর বংশাল এলাকার ভুয়া চিকিৎসক ডাঃ নুরুল ইসলামের ইসলাম মেডিকেল হল চিকিৎসার নামে প্রতারণার ডিজিটাল ফাদে পরিনত হয়েছে। সাধারন একজন ঔষধ বিক্রেতা ডাক্তারের মহান পেশাকে অপচিকিৎসার নামে কলংকিত করে অসহায় রোগীদের ফাদঁ ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। সামান্য ঔষধের ফার্মেসী ব্যবসার আড়ালে নিজেকে ডাক্তার পরিচয় দিয়ে ৩ শ টাকা ভিজিটে রোগী দেখে এলাকায় সে এখন নাম্বার ওয়ান ভুয়া ডাক্তার বনে গেছে। নিজেই গড়ে তুলেছেন নিজের নামে মেডিকেল হল। চক্ষু, দন্ত, মাথা, নাক, কান, গলা সকল রোগেই প্রেসক্রিপশন তিনি দিয়ে থাকেন নিজের হাতে। ভিজিট রাখনে তিনশ টাকা। অনুসন্ধানে জানা গেছে, বরিশালের বাকেরগঞ্জ এলাকার ইন্টারমিডিয়েট পাশ নুরুল ইসলাম গত ২৫ বছর পুর্বে জীবন জীবিকার তাগিদে পাড়ি জমায় ঢাকার শহরে। ঢাকা এসে অবস্থান নেয় কেরানীগঞ্জের চুনকুটিয়া এলাকায়। জীবনে তাগিদে শুরু করেন হোটেলে চাকুরী। ধীরে ধীরে সচ্ছল হতে থাকেন। এর মাঝে তার গ্রামের এক বড় ভাইয়ের সহযোগিতা পুরান ঢাকার নাজিরা বাজার এলাকায় শুরু করেন ঔষধ বিক্রির ফার্মেসী ব্যবসা। ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্সের মাধ্যমে ফার্মেসী ব্যবসা চালানের নিয়ম থাকলেও ডাঃ নুরুলের কাছে এগুলোর পরয়া নেই। ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই তিনি বছরের পর বছর ধরে ফার্মেসী ব্যবসা চালিয়ে আসছে। আর ফার্মেসী ব্যবসার অন্তরালে তিনি এখন ডাঃ নুরুল ইসলাম ফার্মাসিস্ট ট্রেনড। তার রয়েছে নিজ নামে ডাক্তারি পেড। আর পেডে তিনি নিজেই রোগীর প্রেসক্রিপশন লেখেন। ছোট থেকে বড় যেকোন রোগেই তিনি চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। রোগী প্রতি ভিজিট রাখেন তিনশ টাকা। প্রতিদিন তার রোগীর সংখ্যা ৩০/৪০ জন। তার দেয়া ভুল চিকিৎসার খেসারত দিতে হয় ৪ বছর বয়সী সামিউলকে। সামান্য ঠান্ডা জ্বর সামিউলের মা তার সন্তানকে নিয়ে ডাঃ নুরুল ইসলামের কাছে। ডাক্তার নুরুল ইসলাম রেগী সামিউলকে পরীক্ষা নিরীক্ষা করে মেয়াদ উত্তীর্ণ জ্বরের সিরাপ প্রদান করেন। সামিউলকে বাসায় নিয়ে ঐ সিরাপ খাওয়ানোর পর সামিউলের অবস্থা খুব খারাপ হয়ে পড়ে। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে পেট ওয়াশ করলে সে সুস্থ্য হয়েউঠে। এঘটনায় এলাকাবাসী উত্তেজিত হয়ে পড়লে বংশাল থানা যুবলীগের সভাপতি ওয়ালিদের মধ্যস্থতায় গনধোলাই থেকে রক্ষা পায়। এব্যাপারে ডাঃ নুরুল ইসলাম বলেন, আমার ভুল হয়ে গেছে।আমাকে ক্ষমা করে দেন। কিন্তু তারপরেও থেমে নেই নুরুল ইসলামের ডাক্তারি পেশা।
