পুনঃ তদন্তের দাবী জোরদার হচ্ছে নিজাম হাজারীর নিষ্ঠুরতায় প্রকাশ্য দিবালোকে একরাম পুড়ে চাই

7
1461

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
ফেনী-২ আসনের বিনাভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, জেলী আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্য নিজাম হাজারীর নিষ্ঠুরতায় ফুলগাজী উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও নির্বাচিত জনপ্রিয় উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম নৃশংসভাবে খুন হন। বিগত ২০১৪ সনের ২০ মে সকাল অনুমান ১০.৩০ ঘটিকার সময় ফেনী শহরের বিলাসী সিনেমা হলের কাছে প্রথমে কুপিয়ে, গুলী করে, শেষে তার প্রাডো গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। গাড়ীর পাশে একটি গ্যাস সিলিন্ডার ফেলে রাখা হয়, যাতে মনে করা যায়, একরাম সিলিন্ডারের আগুনে মারা গেছে। একরাম ফেনী ডায়বেটিক সমিতিরও সাধারণ সম্পাদক ছিল। ফলে প্রতিদিন বাসা থেকে বের হয়ে প্রথমে ডায়বেটিক হাসপাতালে যায়। সেখানকার কাজকর্ম সেরে অন্য কাজে বের হন। ঘটনার দিনও একরাম প্রথমে ডায়বেটিক হাসপাতালে যান। সেখান থেকে ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ কার্য্যালয়ের উদ্যেশে বের হন। গুদাম কোয়াটারস্থ রেলগেট পার হওয়ার পর প্রথম একরাম বাধাগ্রস্থ হন। ড্রাইভারের দক্ষতায় সে বাধা অতিক্রম করে বিলাসী সিনেমা হলের কাছের ব্যারিকেটের সাথে ধাক্কা লেগে, তার গাড়ী রোড ডিভাইডারে উঠে যায়। ড্রাইভার এবার তার গাড়ীর নিয়ন্ত্রন হারিয়ে ফেলে। একরাম ঘটনা আচ করতে পেরে নিকট জনদের সাথে মোবাইলে যোগাযোগের চেষ্টা করে। জানা যায়, তার সাথে শেষ কথা হয় ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবং জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সাধারণ সম্পাদক শিরিন আখতার এর সাথে। একরামের গাড়ী রোড ডিভাইডারে উঠে আটকে যাবার পর জানালার কাচ ভেঁঙ্গে তাকে এলোপাতাড়ী কোপাতে থাকে, পরে ওর শরীর লক্ষ্য করে কাছ থেকে গুলীকরে তাকে জাজড়া করে ফেলা হয়। যদি কোন ক্রমে প্রাণে বেচে যায়, এই ভয়ে পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেয়া হয়। আগুনের লেলিহান শিখায় জীবন্ত একরাম পুড়ে ছাই হয়ে যায়। ঘটনাস্থলের অদূরে পুলিশ দাড়িয়ে থাকলেও এগিয়ে আসেনি। মোবাইলের মাধ্যমে দ্রুত এই লোমহর্ষক ঘটনা দেশ-বিদেশে জানাজানি হয়ে যায়। কিচুক্ষনের মধ্যেই টিভির স্ক্রলে ভেসে আসে ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরাম খুনের সংবাদটি। পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মানুষ বাকরুদ্ধ হয়ে যায়। পুড়ে ছাই হয়ে যাবার কারনে ফেনী সদর হাসপাতালে পোষ্ট মটেম করা সম্ভব না হলে, তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তার ডি.এন.এ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তার পরিবারও হতবাক, শোক সাগরে নিমজ্জিত। মামলার প্রশ্ন উঠে। এমনি সময় নিজাম হাজারীর কাছের লোক, বিশ্বস্ত ও জেলা আওয়ামীলীগ নেতা এ্যাডঃ আনোয়ারুল করিম ফারুক সাদা কাগজ দিয়ে, মামলা করার জন্য একরামের এক ভাই থেকে সই নিয়ে আসে। এজাহার নিজাম হাজারীর কথামত লিখা হয়। যেহেতু বাদীর কথা ও ইচ্ছামত এজাহার হয়নি, সেহেতু এই মামলা পুনঃ তদন্তের দাবী রাখে। অধিকিন্ত সাবেক অর্থ-মন্ত্রী কিবরিয়া হত্যা মামলায় দেখা গেছে, বিচারাধীন অবস্থায় বিজ্ঞ আদালতের নির্দেশে ১২/১৩ বার তদন্ত হয়েছে এবং সম্পুরক চার্জশীট দিয়েছে। এই ক্ষেত্রেও তদন্ত করে, সম্পুরক চার্জশীটে নিজাম হাজারীকে আসামী করে, তাকে গ্রেপ্তার করলেই ফেনীবাসীর দাবী পূরণ হবে। আর পুনঃ তদন্তের দাবীও দিন দিন জোরালো হচ্ছে। একরামের জানাযায় সেদিন হাজার হাজার লোক শামিল হয়েছিল। সেই জানাযায় ঢাকা থেকে হেলিকপ্টার যোগে গিয়ে নিজাম হাজারীও অংশগ্রহন করেছিল। আবেগে, ক্ষোভে সেদিন ফুলগাজীর জনগন নিজাম হাজারীকে দৌড়ান্ দিয়েছিল। পুলিশ-র‌্যাব তাকে জনতার রোশ থেকে রক্ষা করেছিল। তার পরদিন নিজাম হাজারী একটি সংবাদ সম্মেলন করে বলেছিল, হাজারী ভাইকে রিমান্ডে নিলেই সব তথ্য বের হবে। জয়নাল হাজারীও সাক্ষাতকারে বলেছিল, আমাকে জিঙ্গাসা করা হোক, তবে আমাদের দুজনকেই অবশ্যই গ্রেপ্তার করে জিঙ্গাসাবাদ করতে হবে। পরে অবশ্য কোন তদন্তে জয়নাল হাজারীর সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়নি। এক পর্যায়ে র‌্যাব বসুন্ধরা এলাকার একটি বাসা থেকে নিজাম হাজারীর মামাতো ভাই আবিদ সহ কয়েক জনকে গ্রেপ্তার করে। আসামী সবাই ছাত্রলীগ, যুবলীগ, আওয়ামীলীগ নেতা। নিজাম হাজারীর লোক। গ্রেপ্তারকৃতরা র‌্যাবের কাছে পুরো ঘটনা ফাঁস করে দেয়। একটি ভিডিও ফুটেজেও একরামকে খুন করার পুরো দৃশ্য দেখা যায়। একটা শিশুও জানে নিজাম হাজারীই একরামকে খুন করেছে। দীর্ঘদিন সকল জাতীয় দৈনিকে নিজাম হাজারীর জড়িত থাকার কথা উল্যেখ করে সংবাদ পরিবেশন করেছে। এই ঘটনার পর ভয়ে ফেনীর সর্বস্তরের লোক প্রকাশ্যে নিজাম হাজারীর সমালোচনা করতে চায় না। প্রচুর কথা হয় তাকে নিয়ে তবে বদ্ধ ঘর বা রুমের ভিতর। ফেনীর মানুষ এখন আল্লাহর দিকে চেয়ে আছে, আল্লাহর তরফ থেকে যদি কিছু হয়। এটাও সত্য পাপ-বাপকেও ছাড়েনা। খুনী কখনো রক্ষা পায়না। নিজাম হাজারীরও শেষ রক্ষা হবেনা।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here