পল্লবী থানার ভেতর বোমা বিষ্ফোরণ ঘটনার অন্তরালে কি ছিলো!

0
699

অবি ডেস্ক: পল্লবী থানার ভেতরে বোমা বিস্ম্ফোরণের ঘটনা নানা প্রশ্নের সূত্রপাত ঘটিয়েছে। নেপথ্যে অন্য কোনো ঘটনা রয়েছে কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। এর সঙ্গে মোটা অঙ্কের টাকা লেনদেনের কোনো বিষয় রয়েছে কিনা- এসব নিয়ে চলছে বিশদ অনুসন্ধান। একটি সূত্র জানায়, ডিজিটাল ওজন মাপার মেশিনের আড়ালে বোমা থাকার বিষয়টি আগে থেকেই পুলিশের কয়েকজন সদস্য অবহিত ছিলেন কিনা, তা যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার দিনও গভীর রাত পর্যন্ত পুলিশের কয়েকজন সদস্য থানায় অবস্থান করছিলেন। তারা পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী অবস্থান করছিলেন কিনা, তার তদন্ত চলছে। তবে পল্লবীর ওই ঘটনার সঙ্গে জঙ্গিদের কোনো যোগসূত্র এখনও পাওয়া যায়নি। পুরো ঘটনার পরিকল্পনায় একজন রাজনৈতিক নেতার সংশ্নিষ্টতার বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, যাকে কিছুদিন আগে হত্যার হুমকি দিয়েছিল সন্ত্রাসীরা। ওই ঘটনায় বোমা দিয়ে কাউকে ফাঁসিয়ে এক ঢিলে দুই পাখি মারা হয়েছিল কিনা, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

Advertisement

জানা গেছে, বোমা বিস্ম্ফোরণের ‘সাজানো’ ঘটনার সঙ্গে পল্লবী থানার পরিদর্শক (অপারেশন) ইমরানুল ইসলামের ভূমিকা যাচাই করে দেখছে একাধিক সংস্থা। থানা এলাকায় একটি সিভিল টিম পরিচালনা করতেন তিনি। তার সঙ্গে আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রিয়াজ নামের একজন ইমরানুলের সোর্স হিসেবে কাজ করত। এ ঘটনায় তিনি কী ভূমিকায় ছিলেন, তা নিয়ে রয়েছে অনেক রহস্য। এ ছাড়া পুলিশের মিরপুর বিভাগের বিভিন্ন পদমর্যাদার আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের ভূমিকার নিবিড় পর্যবেক্ষণ চলছে।
পুলিশের দাবি, গত ২৯ জুলাই রাত ১টা ৫৫ মিনিটে পল্লবীর কালশী কবরস্থানের দক্ষিণ পাশে অভিযান চালিয়ে রফিকুল ইসলামসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই সময় তাদের দুই সহযোগী পালিয়ে যায়। আসামি রফিকুল ও শহিদুল ইসলামের কাছ থেকে অস্ত্র জব্দ করা হয়। আর মোশাররফের কাছে থাকা বাজারের ব্যাগের ভেতর ওজন মাপার ডিজিটাল মেশিন জব্দ করা হয়। এরপর তিনজনকে পল্লবী থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রশ্ন উঠেছে- আগেই গ্রেপ্তার করা হয়েছিল ওই তিনজনকে। একজনের পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় জিডিও করা হয়েছিল। ডিজিটাল মেশিনের আড়ালে ওই বোমা কেন-ই বা থানা পর্যন্ত টেনে আনা হয়েছিল? কেন ঘটনাস্থলেই বোমা নিষ্ফ্ক্রিয়করণ দলকে খবর দিয়ে আনা হয়নি- এসব প্রশ্ন সামনে চলে এসেছে। সাধারণত সন্দেহভাজন কোনো বোমাসদৃশ বস্তু থাকলে ঘটনাস্থলে তা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে বোমা নিষ্ফ্ক্রিয়করণ দল। থানা পর্যন্ত এই ডিজিটাল মেশিন আনার পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে কিনা, তা যাচাই করে দেখা হচ্ছে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখতে একজন যুগ্ম কমিশনারকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ডিএমপি।
সুত্র আরো জানায়, সম্প্রতি মিরপুর এলাকায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের পরিচয়ে ব্যাপক গোপন চাঁদাবাজি চলছে। এরই মধ্যে শিল্পপতি, ব্যবসায়ী ও ধনাঢ্য ব্যক্তিদের টার্গেট করে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। চাঁদা-সংক্রান্ত ঘটনায় ফোনকলের সূত্র ধরে পরিদর্শক ইমরানুলের টিম আগেই রফিকুল, মোশাররফ ও শহিদুলকে আটক করে। বাউনিয়া বাঁধ এলাকার শফিকুল, তাইবু, কামাল, বিল্লাল, জনিসহ কয়েকজন মিলে শীর্ষ সন্ত্রাসীদের নামে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলেছিল। ঘটনার রাতে প্রথমে ডিজিটাল মেশিনের আড়ালে থাকা বোমাটি ‘সিরিয়াস’ কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন পুলিশের একজন বোমা বিশেষজ্ঞ। পরে সোর্স রিয়াজ নাড়াচাড়া করে দেখছিলেন সেটি। এ সময় ঘটে বিস্ম্ফোরণ। এতে থানার ওই কক্ষে থাকা দুই সাব-ইন্সপেক্টরসহ চার পুলিশ সদস্য আহত হন। রিয়াজের হাতের কবজি প্রায় উড়ে যায়।
পুলিশ জানায়, পল্লবী থানায় বোমা বিস্ম্ফোরণের ঘটনায় মামলার তদন্ত করছে সিটিটিসি। তিন আসামিকে সাত দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্ত চলছে। তদন্তের পরই সবকিছু পরিস্কার হবে। একজন রাজনৈতিক নেতাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল- এটা সত্য। আর যা কিছু থাকবে, সবই তদন্তে বের হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here