পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে চলাচলকারী ডাবল ডেকার লঞ্চ বহরে আরও একটি নৌ-যান ‘রয়েল ক্রুজ-২’ যুক্ত হওয়ায় নৌ-যান মালিক, শ্রমিক ও কর্মচারী মধ্যে বিরাজ করছে তীব্র বিরোধ ও উত্তেজনা।
পটুয়াখালী নৌ-বন্দর সূত্রে জানাযায়, পটুয়াখালী-ঢাকা রুটে প্রতিদিন ৪ টি বিলাসবহুল ডাবল ডেকার লঞ্চ চলাচল করছে। অনুরূপ ঢাকা সদরঘাট টার্মিনাল থেকে পটুয়াখালীর উদ্দেশে ছেড়ে আসছে। মালিক সমিতির রোষ্টার ও বন্দর কর্তৃপক্ষের টাইম সিডিউল অনুযায়ী জাহাজগুলো চলাচল করছে জাহাজ চলাচল ও ব্যবসায়িক দিক থেকে যাতে কারো কোন অসুবিধা না হয় সে কারনেই জাহাজগুলোর টার্মিনালে আগমন, অবস্থান ও প্রস্থানে অন্তত ১৫/২০-থেকে ৩০মিনিট ব্যবধানে সময় নির্ধারিত আছে। এরুটে সম্প্রতি আরও একটি নতুন জাহাজ সাউথ বাংলা শিপিং লিমিটেডের ‘রয়েল ক্রুজ-২ যুক্ত হয়েছে।
অভিযোগ ওঠেছে রয়েল ক্রুজ-২ হওয়ার পর পরই পটুয়াখালী টার্মিনালে আগমন, অবস্থান ও ছেড়ে যাওয়া নিয়ে নৌ-যানগুলোর মধ্যে চরম খামখেয়ালীপনা ও শক্তির মহড়ায় কে কত বেশী যাত্রী পরিবহন করতে পারে তার প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবেই রবিবার বগা লঞ্চ টার্মিনালে সাত্তার খান-৫’র সুপারভাইজার আলমের নেতৃত্বে ৫/৬জন স্টাফ কর্মচারীরা রয়েল ক্রুজ-২ এর কেবিন ইনচার্জ মো: সিদ্দিকুর রহমানের ওপর হামলা ও মারধর করে আহত করেছে। এ বিষয়ে রয়েল ক্রুজ-২’র ম্যানেজার শাহজাহান কবির পটুয়াখালী নৌবন্দরের উপ-পরিচালক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। রয়েল ক্রুজ-২’র ম্যানেজার শাহজাহান কবির জানান, এমভি সাত্তার খান-৫, আওলাদ-৭’র কর্মকর্তা-স্টাফরা শুরু থেকেই অবৈধ প্রভাব ও শক্তির মহড়ায় বেপরোয়া আচরণ করছে।
রয়েল ক্রুজকে ঘাটে ভেড়ানো, অবস্থান ও যাত্রী ওঠানোতে তীব্র প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করছে। রয়েল ক্রুজ-২ যাতে এ রুটে যাত্রী পরিবহন করতে না পারে সে কারনেই তারা সিন্ডিকেটের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতায় রামরাজত্ব কায়েম করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।প্রত্যদর্শী যাত্রী সাধারণের অভিযোগ, এমভি সাত্তার খান-৫’র পটুয়াখালী টার্মিনালে প্রতিদিন টেনে হেঁচড়ে যাত্রী তোলার অনৈতিক প্রতিযোগিতার কারনে যাত্রী সেবার পরিবর্তে যাত্রী হয়রানীর শিকার হচ্ছে। কেউ প্রতিবাদ করলে স্টাফ-কর্মচারীদের হাতে নাজেহালও হতে হচ্ছে।অভিযোগের বিষয়ে পটুয়াখালীর টিআই মো: দেলোয়ার হোসেন বলেন, টার্মিানের শৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশাসন সর্বদা তৎপড় রয়েছে। রুটপারমিট প্রাপ্ত জাহাজগুলোর সমান সুযোগ নিশ্চিৎ করতে সার্বক্ষনিক সতর্ক দৃষ্টি রাখা হচ্ছে।
সাত্তার খানের স্টাফ কর্তৃক বগা টার্মিনালে হামলা ও মারধর প্রশ্নের জবাবে বলেন, ৩০মিনিট পূর্বে পটুয়াখালী ঘাট ছেড়ে যাওয়া সাত্তার খান-৫ তো বগায় থাকার কথা নয়। ৩০মিনিট পরে ঘাট ছেড়ে যাওয়া রয়েল ক্রুজ বগায় পৌছার অনেক আগেই তার (সাত্তার খান-৫) অনেক দূরে চলে যাওয়ার কথা। হামলা ও মারধরের ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠর আইনগত পদক্ষেপ নেয়া হবে বলেও তিনি জানিয়েছেন।পটুয়াখালী নৌ-বন্দর-উপ-পরিচালক খাজা সাদিকুর রহমান বলেন, নৌ-রুটের শৃঙ্গলা রক্ষায় অভিযুক্ত নৌ-যান ও স্টাফদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে।

