স্টাফ রিপোর্টার, নোয়াখালী ও সেনবাগ প্রতিনিধি : নোয়াখালীর বীজবাগ এনকে উচ্চ বিদ্যালয়ে আ’লীগ নেতা শিহাব বাহিনীর সন্ত্রাসী হামলা আহত-৫ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর, ৫ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় ৪ সন্ত্রাসীকে গতকাল ২৫ জানুয়ারী বৃহস্পতিবার আদলতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরন করা হয়েছে । পুলিশ ও এলাকাবাসি জানায়, সেনবাগের বীজবাগ এন.কে উচ্চ বিদ্যালয়ে ম্যানেজিং কমিটির বিরোধের জের ধরে আ’লীগ নেতা শিহাব বাহিনীর নেতৃত্বে স্কুল ক্যাম্পাসে সন্ত্রাসী হামলা, দোকান ভাংচুর, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোঃ নিজাম উদ্দিন সাজু সহ ৫ জনেকে জখম করা হয়েছে ।
এই সময় সন্ত্রাসীরা দা, ছেনি, কিরিছ, হকিষ্টিক, লোহার রড, বাঁশের লাঠি ব্যবহার করে। ঘটনা চলাকালে তারা ব্যাপক বোমা বাজি ও ফাঁকা গুলি বর্ষন করে আতঙ্ক ছড়িয়ে ভিকটিম সাজুর পকেট থেকে ৩০ হাজার ছিনিয়ে নেয়। তাদের সাথে সন্ত্রাস বকশি বাজারে সুলতানা ফার্মেসী ও সিরামিকের দোকানে ৫ লাখ টাকার লুটতরাজ চালায়। হামলা ও ভাংচুরের সময় বিক্ষুব্দ জনতা ৪ সন্ত্রাসী কে আটক করেছে। আটককৃতরা হলেন বেগমগঞ্জের কাদিরপুর গ্রামের মোঃ আবদুল্লাহর পুত্র জহির (১৮), একই এলাকার আবদুল খালেকের পুত্র জয়নাল আবেদিন ফারুক (১৯), গোপালপুর গ্রামের আবুল বাশারের পুত্র সোহেল (৩০) ও ডমুরুয়া ইউপির নলুয়া গ্রামের সহিদ উল্লাহর পুত্র মামুন (২৪)। এ সময় সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত ১টি মোটরসাইকেল ও ১টি সিএনজি আটক করা হয়। সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে বকশিরহাট বাজারে বিক্ষুব্ধ জনতা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল বের করেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটেছে। সেনবাগ থানার ওসি হারুন অর রশিদ চৌধুরী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনেন এবং ৪ সন্ত্রাসী ও ১টি সিএনজি, ১টি মোটরসাইকেল থানায় নিয়ে আসেন। তাৎক্ষনিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার শতরূপা তালুকদার। তিনি বিদ্যালয়ের অফিসকক্ষে শিক্ষক শিক্ষিকা ও ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের বক্তব্য শুনে স্তম্ভিত হন। কারণ বিদ্যালয়টি দক্ষিণ জনপদের এস.এস.সি পরিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বড় কেন্দ্র। আর অনাকাঙ্খিত ঘটনা যেন না ঘটে সকলকে হুশিয়ার করে আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে ম্যানেজিং কমিটি ও সকল শিক্ষক -শিক্ষিকাদেরকে তার কার্যালয়ে ডেকেছেন। গুরুতর আহত ম্যানেজিং কমিটির সদস্য নিজাম উদ্দিন সাজু (৩৬) মানবজমিনকে বলেন গতকাল দুপুর ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের সভাপতি সিহাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ফেনী দাগনভূঁইয়া থেকে ৩০/৪০জন সন্ত্রাসী আকষ্মিক ভাবে দেশীয় অস্ত্রসস্ত্র নিয়ে বাজারে মহড়া দিয়ে বিদ্যালয়ে ঢুকেপড়ে। এসময় তারা আমার উপর হামলা চালায় ও কয়েকটি দোকান ভাংচুর করে। পরে শিহাবের নেতৃত্বে ম্যানেজিং কমিটির ২জন সদস্য মনসুর ও সাহাব উদ্দিনকে নিয়ে শিক্ষকদের থেকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর নিয়ে প্রধান শিক্ষক মোঃ হানিফকে বহিষ্কার করেন। বহিষ্কার করে মোজাম্মেল হোসেন নামিয় এক শিক্ষককে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দিয়ে বের হওয়ার পর স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক সংগঠিত হয়ে তাদের ধাওয়া করে। এ সময় ৪ সন্ত্রাসীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ্দ করা হয়। এ ব্যাপারে জনাতে চাইলে প্রধান শিক্ষক মোঃ হানিফ গণমাধ্যমকে বলেন চলতি এস.এস.সি পরিক্ষা সংক্রান্ত কাজে তিনি কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে রয়েছেন। শিহাব যে নেক্কার জনক ঘটনা ঘটিয়েছে তা নিন্দনীয়। এর আগে প্রধান শিক্ষক ২৩ জানুয়ারী শিহাব উদ্দিনসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীর অব্যাহত ভয়ভীতি সহ হুমকির কারণে নিরাপত্তা চেয়ে সেনবাগ থানায় সাধারণ ডায়েরী করেছেন। জিডি নং- ৮২৭, তারিখ- ২৩/০১/২০১৮ইং। উল্লেখ্য গত ৩১ ডিসেম্বর এক সুধি সমাবেশে বিজবাগ ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ইয়াকুব মামুন ৯নং ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী ম্যানেজিং কমিটি অন্যান্য সদস্যরা সভাপতি শিহাব উদ্দিনকে অবাঞ্চিত ঘোষনা করে। এর জের ধরে গত কয়েকদিন দক্ষিণ জনপদে হামলা পাল্টা হামলার ভয়ে এস.এস.সি পরিক্ষার্থী ও অভিভভাকরা উদ্ভিগ্ন রয়েছেন। এই ব্যাপারে বুধবার রাতে মোঃ নিজাম উদ্দিন সাজু বাদী হয়ে সেনবাগ থানায় শিহাব উদ্দিন সহ ১০ সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে মামলা করেন। এই রিপোর্ট লেখার সময় পর্যন্ত মূল অপরাধীরা গ্রেফতার হয়নি।

