ইয়াকুব নবী ইমন, নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার রসুলপুর গ্রামে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সন্ত্রাসী হামলায় আহত নারায়ন চন্দ্র দাস হাসপাতালের বেড়ে শুয়ে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার তিন দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। অপরদিকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য সন্ত্রাসীরা নারায়ন ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে।
শুক্রবার বিকালে সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, রসুলপুর গ্রামের ললিত মাষ্টারের বাড়ির মৃত টকেশ্বর চন্দ্র দাসের পুত্র নারায়ন চন্দ্র দাসের সাথে একই এলাকার কালী প্রসন্ন দাসের পুত্র রতন চন্দ্র দাসের সাথে দীর্ঘ দিন থেকে সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে এলাকায় একাধিকবার শালিস হলেও রতন চন্দ্র দাস তা মানেনি।
নারায়ন গত ২৫ মার্চ রাতে চৌমুহনীর ডালিয়া সুপার মার্কেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে নিজ বাড়িতে ফেরার পথে টিনওয়ালা বাড়ি সামনে পৌছামাত্র রতন চন্দ্র দাস এর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তার উপর হামলা চালায়। এ সময় তারা নারায়নের মাথায়, হাতে ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রাস্তার পাশের ডোবার পানিতে ফেলে চলে চায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বেগমগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। বর্তমানে নারায়ন হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে।
এ ঘটনায় নারায়ন নিজে বাদী হয়ে রতন চন্দ্র দাস, রতন চন্দ্র দাস এর পুত্র উৎপল চন্দ্র দাস, নিপু চন্দ্র দাস, নীল কৃষ্ণ দাসের পুত্র সঞ্জিত চন্দ্র দাস, কালী প্রসন্ন দাসের পুত্র স্বপন চন্দ্র দাসকে আসামী করে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় মামলা দায়ের করেছেন। যার নং-৪৯, তাং-২৮-৩-১৭ইং। মামলা করার পর থেকেই সন্ত্রাসীরা মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বাদী ও তার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন ভাবে হুমকি দিচ্ছে। সন্ত্রাসীদের অব্যাহত হুমকিতে আতঙ্কে দিন কাটছে নারায়ন ও তার পরিবারের সদস্যরা। এদিকে মামলা হওয়ায় তিন দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ এখনো পর্যন্ত কোন আসামীকে গ্রেফতার করতে পারেনি। এতে ন্যায় বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে আহত ব্যবসায়ী নারায়ন ও তার পরিবারের সদস্যরা। তারা ন্যায় বিচার পেতে প্রশাসনের উর্ধতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছে।
শুক্রবার বিকালে বেগমগঞ্জ মডেল থানার ওসি সাজিদুর রহমানের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন, মামলা হওয়ার পর পুলিশ আসামী গ্রেফতারের চেষ্টা করছে।
