গত ২১ জুন চেরাগী পাহাড় সংলগ্ন কদম মোবারক স্কুলে জামালখানস্থ নীলাম্বরী খেলাঘর আসরের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও পথশিশুদের নিয়ে ইফতার অনুষ্ঠিত হয়।
নীলাম্বরী খেলাঘর আসরের আহ্বায়ক স্মরণ বড়ুয়ার সঞ্চালনায় এবং আবু হাসনাত চৌধুরীর সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রকৌশলী রথিন সেন, খেলাঘর জাতীয় পরিষদ সদস্য দেবাশীষ রায়, বিশিষ্ট সাংবাদিক মিন্টু চৌধুরী, সাংস্কৃতিক কর্মী মুনীর আহমেদ, ছাত্রনেতা শোভন দাশ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন খেলাঘর সংগঠক তপন দে, সাবেক ছাত্রনেতা বিপ্লব দাশ, ছাত্রনেতা আয়াজ নকীব, ছাত্রনেতা রবি শংকর সেন নিশান সহ বিশিষ্টজনেরা।
বক্তাগণ তাদের আলোচনায় বলেন, কয়েকবছর আগেই তৃণমূল পর্যায়ে পাড়ামহল্লাগুলোতে অনেকগুলো শিশু-কিশোর ও সামাজিক সংগঠন ছিল যা আজ নেই। যার ফলে বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় আজ সমাজে বিদ্যমান। এর প্রমাণসরূপ ইভটিজিং, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদ, শিশু ও নারী নির্যাতন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু হত্যা ও নির্যাতন বৃদ্ধি পাওয়ায় তারা নিন্দা জানান।
তারা বলেন, শিশুরা আগামী দিনের ভবিষ্যত। তাদেও সুস্থ-সবল, অসাম্প্রদায়িক ও বিজ্ঞানমনস্ক প্রজন্ম হিসেবে গড়ে তোলার নিরলস সংগ্রাম খেলাঘর পরিবার চালিয়ে যাচ্ছে। এই সংগ্রাম আরো তীব্র করতে হবে। প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় পাঠাগার গড়ে তুলতে হবে।
এসময় বক্তারা আরো বলেন, স্বাধীনতার পরপর ১৯৭৫ সালের ৯ আগষ্ট এই খেলাঘর আসরটি গঠিত হয় যার তাৎপর্য আজ অনেক। একসময় এই খেলাঘর আসরটির মাধ্যমে জামালখানের এমন কোন পরিবার ছিল না যারা নীলাম্বরী খেলাঘর আসরের সাথে জড়িত ছিল না। তারা মনে করত এখানেই তাদের সন্তানের মননের বিকাশ সম্ভব এবং তাই তারা নিজে এবং তাদের সন্তানদের নিয়ে এই খেলাঘর আসরটির সাথে সংযুক্ত হত। আমাদের কাজ এখন সবাইকে সংগঠিত করে শিশু-কিশোরদের এই নীলাম্বরী খেলাঘর আসরটিকে ব্যাপক আকারে করা। এছাড়া কিভাবে খেলাঘর আসর গড়ে তুলতে হবে এবং এর বিভিন্ন দিক নিয়ে বক্তারা বিশেষ দিকনির্দেশনা দেন।
আলোচনা সভা শেষে শতাধিক পথশিশুদের নিয়ে একসঙ্গে ইফতার পালন করা হয়।
