নিষিদ্ধ পলিথিনে ছেয়ে গেছে বাজার

0
777

প্রায় দুই দশক আগে সরকার থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয় পলিথিনের উৎপাদন, বাজারজাত, মজুত ও বিক্রয়। দুই দশক পরও ও আমরা পরিবেশ বিধ্বংসি এই উপাদানটির গ্রাস থেকে পরিত্রান পাচ্ছি না। গণমাধ্যমে এই নিয়ে এপর্যন্ত অনেক সংবাদ সম্পাদকীয় ও উপসম্পাদকীয় প্রকাশিত হয়। পরিবেশবাদি বিভিন্ন সংগঠন থেকে পলিথিনের আগ্রাসনের ব্যাপারে বহুবার উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। কিন্ত কোন কিছুই কোন সন্তোষজনক ফলাফল বয়ে আনতে পারেনি। সর্বনাশা পলিথিনেরই বিজয় ঘটলো। সরকারের পরিবেশ অধিদপ্তরের সামনেই প্রকাশ্যে সারা দেশে পলিথিনের উৎপাদন, ব্যবহার ও বাজারজাত চলছে। সামান্য বৃষ্টি হলেই শহরের সুয়ারেজ লাইন বন্ধ হয়ে যায় পলিথিনের কারণে। ফলে জলাবদ্ধতা নিত্য দিনের ব্যাপার। বর্ষা মৌসুমে এটা ব্যাপক আকার ধারণ করে। একটি পলিথিন ব্যাগের কারণে গাছের শিকড় মাটির গভীরে প্রবেশ করতে পারে না।

Advertisement

এই ব্যাগ মাটির উর্বরতা নষ্ট করে পরিবেশকে উত্তপ্ত করে। বাইয়োডিগ্রেডেবল না হওয়াতে এই ব্যাগ বছরের পর বছর মাটির উর্বরতা নষ্ট করতে থাকে। ঢাকার প্রাণ বুড়িগঙ্গা নদীর তলদেশে রয়েছে কয়েক হাত পলিথিনের স্তর। একারণে জলজ প্রাণীর আবাসস্থল ক্রমশ: সংকুচিত হচ্ছে।

নদীর প্রকৃতি তার স্বাভাবিকতা হারাচ্ছে। চার দরীয় জোট সরকারের আমলে নদীর তলদেশ থেকে এসব পালিথিন ব্যাগ উদ্ধার করে নদী দুষন কমিয়ে আনার জন্য কয়েকটি উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ডেনমার্ক থেকে কাটার মেশিন এনে নদীর তলদেশ থেকে পলিথিন কেটে আনার পরিকল্পনা নেওয়া হলেও এক সময় তা অদুশ্য কারণে থেমে যায়।

নদীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পুকুর ও জলাশয়ের তলদেশে পলিথিন জমা হচ্ছে যা সামনে ভয়াবহ অবস্থা সুষ্টি করবে বলে শংকা প্রকাশ করেন পরিবেশবিদগণ। সারা দেশে অগণিত পলিথিনের কারখানা রয়েছে। পুরান ঢাকার অলিগলি ও আবাসিক ভবনের নীচতলায় কয়েক শত পলিথিন ব্যাগ নির্মানের কারখানা রয়েছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা যায় স্থানীয় চাঁদাবাজ, পুলিশ ও পরিবেশ অধিদপ্তরের এক শ্রেণীর অসৎ কর্মকর্তাদেরকে মাসিক হারে চাঁদা দিয়ে নিষিদ্ধ এসব পলিথিনের করখানা দুই দশক ধরে উৎপাদন করে যাচ্ছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here