বাসচাপায় বিমানবন্দর সড়কে দুই শিক্ষার্থীর নির্মম মৃত্যুকে কেউই মেনে নিতে পারেনি। সব বয়সের সচেতন নাগরিকই নিন্দা জানিয়েছে এ ঘটনার। কোমলমতী দুই ছাত্রছাত্রীর মৃত্যুর পর নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নেমেছে স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা। এমন অবস্থায় ঘরে বসে থাকতে পারেনি নিহত সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন নাহার রুনির একমাত্র ছেলে মাহির সারোয়ার মেঘও।
প্ল্যা-কার্ড নিয়ে অন্যদের মতো রাস্তায় নেমেছে ১২ বছরের মেঘও। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেঘের একটি ছবি ভাইরাল হয়ে ঘুরছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। ছবিতে দেখা যায়, সাগর-রুনির আদরের মেঘ বৃষ্টিতে ভিজে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে প্ল্যা-কার্ড হাতে দাঁড়িয়ে আছে। পেছনে ফাঁকা রাস্তায় শুধু দু’একটি রিকশা ও একটি সাদা মাইক্রোবাস দেখা যাচ্ছে। মেঘের হাতের প্ল্যা-কার্ডে লেখা, ‘নিরাপদ সড়ক চাই, বাসচাপায় নিহত আপু-ভাইয়াদের খুনের বিচার চাই; ছোটদের জন্য নিরাপদ বাংলাদেশ চাই। আমার মিম্মি-বাবা (সাগর -রুনির) খুনের বিচার চাই। we want justice.’ ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন নাহার রুনি। ওই সময় মেঘের বয়স ছিল ৬ বছর। নির্মম ও আলোচিত ওই হত্যাকাণ্ডের পর ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে খুনিদের গ্রেফতারের আশ্বাস দেন সে সময়ের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। কিন্তু, দীর্ঘ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও খুনিদের কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ ৬ বছরেও ধরা পড়েনি খুনিরা। বছর ঘুরে ১১ ফেব্রুয়ারি আসার আগে ও পরে গণমাধ্যমে কিছু শিরোনাম হয় মামলার তদন্ত কার্যক্রম সম্পর্কে, এরপরে আবার তা চাপা পড়ে যায়। এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের ৫৮টি ধার্য তারিখ অতিবাহিত হয়েছে। সবশেষ গত ১৭ জুলাই মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ধার্য দিনেও র্যাাব প্রতিবেদন দাখিল করেনি। র্যা বের সহকারী পরিচালক মহিউদ্দিন আহমেদ প্রতিবেদন দাখিল না করায় ঢাকা মহানগর হাকিম মাজহারুল হক আগামী ৫ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেছেন। সাগর-রুনি পরিবারের সদস্য-স্বজন বিষয়টি নিয়ে হতাশ। ধীরে ধীরে নিষ্ঠুর বাস্তবতার সঙ্গে নিজেদের মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন তারা।

