নারায়নগঞ্জে পরিবেশ অধিদপ্তরের শেল্টারে অনুমোদনহীন…. শিল্প প্রতিষ্ঠান

0
465

মো: আবদুল আলীম : পরিবেশ অধিদপ্তর একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ব্যর্থ অধিদপ্তরে পরিণত হয়েছে। শিল্প কারখানার ছাড়পত্র নেওয়ার ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ঘুষ দিতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। অনেক শিল্প কারখানার মালিক বলছেন পরিবেশ অধিদপ্তরেরই পরিবেশ ঠিক নেই। জনবসতি ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অতি নিকটে ইটভাটা  বন্ধে পরিবেশ অধিদপ্তর ব্যর্থ হয়েছে। দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃষি জমির ওপর ইটভাটা নির্মান হচ্ছে। পাবনার ঈশ্বরদি এলাকায় ৫০ টির ওপর ইটভাটা পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরকে  ম্যানেজ করে এসব অবৈধ ইটিভাটা পরিচালিত হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। টিআইবি গবেষনায় বলা হয় পরিবেশ অধিদপ্তর বায়ু দূষন বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ। ইটভাটার ধোয়ায় আচ্ছন্ন হচ্ছে পরিবেশ। নিকটতস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বসতবাড়ির লোকজন রেসপিরেটরি সমস্যায় ভুগছেন অথচ কোন প্রতিকার নেই।

Advertisement

গার্মেন্টস, ডাইং ও বৃহৎ কারখানাগুলো ইটিপি ব্যবহার করছে না খরচ বাঁচানোর জন্য। মাঝে মাঝে পরিবেশ অধিদপ্তর পরিদর্শনে আসলে অল্প সময়ের জন্য ইটিপি চালু করে। তবে পরিবেশ অধিদপ্তর থেকে আগে ভাগেই খবর দিয়ে দেওয়া হয়। কর্মকর্তারা চলে গেলে আবার ইটিপি বন্ধ করে দেয়। এধরনের খেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সাথে যোগসাজসেই হয়ে থাকে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

নদী খাল ও জলাশয় দূষন করে তুলছে কলকারখানার বিষাক্ত কেমিক্যাল। ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আবাসিক এলাকায় ছোটবড় নতুন নতুন শিল্প কারখানা গড়ে ওঠছে। অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এসব কারখানা জনস্বাস্থ্য বিপর্যস্ত করছে। নির্গত ধোয়া ও শব্দে লোকজন টিকতে পারছে না। অভিযোগ দিয়েও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ভুক্তভোগীরা। ঢাকার নিকটবর্তী জেলা নারায়নগঞ্জ।

এখানে অপরিকল্পিতভাবে গড়ে ওঠছে অসংখ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান। কারখানার বিষাক্ত ক্যামিকেল ও বর্জ্য নিকটস্ত কৃষিজমি ও জলাশয়কে দুষিত করছে। নদীর জমি দখল করে প্রভাবশালীরা বড় বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলছেন।  আবার অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত শিল্প কারখানাগুলো সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাদেরকে ম্যানেজ করেও তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। পরিবেশ অধিদপ্তর নারায়নগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের অধীন অসংখ্য শিল্প কারখানা রয়েছে যেগুলো পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘ দিন যাবত চলছে।

ফলে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকিতে রয়েছে। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকরা প্রভাবশালী। অনেকেরই রাজনৈতিক বড় বড় পরিচয় আছে। এই পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে তারা দেদারছে অপরাধ করে গেলেও রয়েছে ধরাছোঁয়ার বাইরে।  পরিবেশ অধিদপ্তর, নারায়নগঞ্জ জেলা কার্যালয়, পূর্ব নামাপাড়া, ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ সূত্রে জানা গেছে।

১। বাংলাদেশ ডাইং এন্ড প্রসেসিং ইন্ডা:, ইসদাইর, ফতুল্লা,  ২। সুমনা ডাইং এন্ড ওয়াশ, ইসদাইর, ফতুল্লা, ৩। সোহেল ডাইং, উত্তর মাসদাইর, ফতুল্লা, ৪। মেসার্স বিএল ওয়াশ, পূর্ব ইসদাইর, ফতুল্লা, ৫।  এন এ ডাইং, পূর্ব ইসদাইর, ফতুল্লা, ৬। ন্যাশনাল টেক্সটাইল এন্ড প্রসেসিং ইন্ডা: ১৯২ পশ্চিম মাসদাইর, ফতুল্লা, এবং সোনালী ওয়াশিং, পূর্ব ইসদাইর, ফতুল্লা, নারায়নগঞ্জ সহ অসংখ্য শিল্প কারখানা পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে।

এসব প্রতিষ্ঠান পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরুপ। উক্ত প্রতিষ্ঠনগুলো কেন পরিবেশ অধিদপ্তর হতে ছাড়পত্র না নিয়ে অনিয়মের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে তা জানার জন্য অপরাধ বিচিত্রা হতে রেজিস্টার্ড ডাকযোগে পত্র প্রেরন করেও প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে কোন বক্তব্য পাওয়া যায় নাই। অপরাধ বিচিত্রার তদন্তে ও বিভন্ন সময় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে জানা গেছে এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করে তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

পরিবেশ দুষনে সহায়ক এসব শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীদের অনেক অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, সচিব ও পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। এই ব্যপারে অপরাধ বিচিত্রার তদন্ত অব্যহত আছে। আগামি সংখ্যায় আরও বিস্তারিত থাকছে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here