কুমিল্লা প্রতিনিধি
কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার দৌলখাঁড়ে অবস্থিত মেসার্স কালাম ব্রিক্স ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানী কেবিএম) এর বিরুদ্ধে আইন অমান্য করে ইটভাটা নির্মাণ করে পরিবেশ দূষণের অভিযোগ দায়ের করেন। এলাকাবাসীর পক্ষে অভিযোগ দায়ের করেন দৌলখাঁড় গ্রামের মো. শহীদ উল্লাহ নামের জনৈক ব্যক্তি। পরিবেশ অধিদপ্তরের মহা- পরিচালক ববরাবরে অভিযোগ পত্রে উল্লেখ করেন দৌলখাঁড় বাজার সংলগ্ন কৃষি জমিতে মেসার্স কালাম ব্রিক্সের ইটের ভাটায় দূষিত বায়ুতে আশেপাশের বসবাসকারী জনসাধারণেররোগ বালাই লেগেই আছে। এছাড়া দূষিত বায়ু ও কালো ধোঁয়া মৌসুমি ফল ও কৃষি জমির ফসলের মারাত্মক ক্ষতিসাধন হচ্ছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করেন- বঙ্গবন্ধু কন্যা মাননীয প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে ইটভাটা নির্মাণ করা আবশ্যক হলেও এক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর কর্তৃক জারিকৃত স্মারক নং পরিবেশ/প্রচার/বিজ্ঞপ্তি- গণবিজ্ঞপ্তি ১১/২০১২/১৫০ বিধিবিধান আমলে না নিয়ে ভাটার মালিক আবুল কালাম ২০ বছর ধরে ভাটাটি চালিয়ে যাচ্ছে। ভাটার মালিক ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ নেতা। দলের প্রভাব খাটিয়ে ভাটার ভিতরে পুকুর খনন করে প্রতি বছর বালু উত্তোলন করছে। স্থানীয় প্রশাসন দেখেও না দেখার ভান করে। অভিযোগকারী অভিযোগ পত্রে আরো উল্লেখ করেন যে, ভাটার মালিক বিভিন্ন কুটকৌশলে অন্যের জমি দখল করে পরে নামে মাত্র মূল্যে পরিশোধে নিজের করে নিচ্ছে। এবং বালু উত্তোলনের দরূন আশেপাশের কৃষি জমি ভেঙ্গে তার পুকুরের সাথে একত্রিত হচ্ছে। পরে দালালদের মাধ্যমে দরকষাকষি করে জমি নিজের আয়ত্বে নিয়ে নিচ্চে। জানা গেছে, ইটভাটার মালিক কালাম আওয়ামীলীগের বড় বড় নেতাদের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করে দম্ভের সাথে এ সকল অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে সে আওয়ামীলীগের নৌকা প্রতিক নিয়ে দৌলখাঁড় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অক্ষরজ্ঞানহীন ইট ভাটার মালিক চেয়ারম্যান হলে এলাকার মানুষের দুর্গতি আরো বেড়ে যাবে।
অভিযোগকারী মো. শহিদ উল্লাহ অভিযোগ পত্রের অনুলিপি বিভিন্ন মিডিয়ায় হস্তগত হবার পর দরখাস্তে উল্লেখিত ফোন ০১৭১১-৯৭৬০৪০ নাম্বারে ফোন করে তার সাথে যোগযোগ করলে তিনি অভিযোগ দিয়েছেন স্বীকার করেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অপরদিকে ইট ভাটার মালিক আবুল কালামের হ্যান্ড ফোন নাম্বার ০১৭১১- ২৬০৭৫০ নাম্বারে অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে সকল অভিযোগ মিথ্যা। তিনি সকল কিছু মেনেই ভাটা নির্মাণ করেছেন। তিনি দাবী করে বলেন সকল প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র নিয়ে ভাটা করেছেন। অভিযোগকারীর সাথে তার পূর্ব শত্রুতা রয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে একাধিক সূত্রে জানা যায়, ভাটার মালিক ট্যাক্স, ভ্যাট ফাঁকি দিচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠানের ছাড়পত্র নেয় নি। এবং ৩-৪ বছর যাবৎ পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নবায়ন নাই। প্রতি বছর ৮০-৯০ লাখ ইট পুড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ম্যানেজ(?) করে যৎসামান্য দেখাচ্ছে। সর্বোপরি ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসী ইটভাটটি বন্ধের দাবী জানাচ্ছে।
জামাল উদ্দিন স্বপন
