বিশেষ প্রতিনিধি: দেবীদ্বার উপজেলায় আইনশৃংখলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। প্রশাসনের রহস্যজনক নিরবতার জন্যই এসব হামলা-মারধর অব্যাহত রয়েছে বলে নৌকা প্রতিকের নেতাকর্মীরা জানান। ৭ জানুয়ারী সন্ধ্যায় দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে অদ্যাবধি নৌকা সমর্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপর প্রায় শতাধিক হামলা-মারধরের ঘটনা ঘটেছে। অভিযোগের তীর- বর্তমান এমপি আবুল কালাম আজাদের অনুসারীদের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্র জানায়, ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সন্ধ্যা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপর সন্ধ্যা ৭ টার সময় রাজামেহার উচ্চ বিদ্যালয় ভোট কেন্দ্রের ভিতরে ও মাঠে নৌকা প্রতিকের এজেন্ট ও রাজামেহার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ন আহবায়ক মোঃ বিল্লাল হোসেনকে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম ও পিটিয়ে হাড়ভাঙা জখম করে এবং তার বাড়ীতে হামলা চালিয়ে চাইনিজ কুড়াল/ছেনি দিয়ে কুপিয়ে নৌকার এজেন্ট বিল্লাল হোসেনের বড় ভাবী রিনা বেগমের একটি চোখ উপড়ে ফেলেছে, একটি পা ভেঙে দিয়েছে। সমস্ত শরীর পিটিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত করে আহত করেছে বর্তমান সাংসদ আবুল কালাম আজাদের সমর্থকরা।
২৩ জানুয়ারি ভোরে ফজরের নামাজ আদায় করতে যাওয়ার সময় রাজামেহার ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মোফাজ্জল হোসেন মানিককে বর্তমান সাংসদ আবুল কালাম আজাদের লোকজন অতর্কিতভাবে হামলা করে কুপিয়ে হাড়ভাঙ্গা জখম করে আহত করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা বলে যায় আর করবিনি নৌকা।
২৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় রসুলপুর দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের পরদিন থেকে কুমিল্লার দেবীদ্বারে অবাধে হামলা- ভাংচুর, মারধর ঘটনা শুরু হয়। এ আসনে নৌকা প্রতিকের প্রার্থী রাজী মোহাম্মদ ফখরুল পরাজিত হওয়ার পর তার নেতাকর্মীদের উপর অত্যাচারের স্টিম রোলার চালানো শুরু ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ ইউনুস বাহাদুরকে মারধর করে রক্তাক্ত আহত করা হয়।
এর আগে উপজেলার নিউমার্কেট এলাকায় উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সেক্রেটারি সাদ্দাম হোসেনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক কার্যালয়ের দরজা ভেঙ্গে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সময় ল্যাপটপ, মোবাইল, নগদ টাকাসহ অনেক জিনিসপত্র নিয়ে যায়।
ফতেহাবাদ ইউনিয়নের সাইচাপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ আনিল নৌকার পক্ষে কাজ করায় তাকে মারধর করে। সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে এলাকা ছেড়ে চলে গেছে।
ফতেহাবাদ ইউনিয়নের নুরপুর গ্রামের জৈনুদ্দিন বাড়ির মোহাম্মদ ইউনুস মিয়া, ছাড়া বাড়ির মোঃ রফিক ও দুয়াগাজীর বাড়ির মোহাম্মদ খোরশেদকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যায় ঈগলের সমর্থকরা।
এছাড়া মিথ্যা মামলা দিয়ে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হয়রানীর অভিযোগ উঠেছে বিজয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবুল কালাম আজাদ ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। নির্বাচনের দিন বিকেলে খলিলপুর গ্রামের জসিম উদ্দিন নামে এক ব্যক্তির খড়ের স্তুপ পুড়ানো,
গালিগালাজ ও হুমকির অভিযোগে কুমিল্লা উত্তর জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আবু কাউছার অনিক সহ ৭৪ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়। যাদের সবাই আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী সহ ৪ ইউপি সদস্য।
কুমিল্লা উত্তর জেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাধারণ সম্পাদক লিটন সরকার জানান, বর্তমান সরকার আওয়ামী লীগের। অথচ প্রতিদিন নৌকার লোকদের মারধর করে রক্তাক্ত করা হচ্ছে। যা খুবই লজ্জাকর।
চান্দিনা উপজেলার পৌর মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের আলোচনা সভা শেষে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মোঃ সাইফুল ইসলাম রুবেল, উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহবায়ক ইমরান আরিফিন ইমু এবং এমপি’র ফুফাতো ভাই ইসমাইল হোসেনের নেতৃত্বে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির গাড়ি ভাংচুর করে এবং গাড়িতে থাকা লোকজনকে মারাত্মকভাবে আহত করেন।
এতে কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি মু. রুহুল আমিন, তার ব্যক্তিগত সহকারি আজম খান, গাড়ি চালক জমির উদ্দিন, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ দপ্তর সম্পাদক সাইফুল ইসলাম রাজিব আহত হন। এসময় সভাপতি মু. রুহুল আমিন এর গাড়িতে ব্যাপক ভাঙচুর চালায় বর্তমান সাংসদ আবুল কালাম আজাদের লোকজন।
এই অসাংগঠনিক কর্মকান্ডের অভিযোগে ইতিমধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় সংসদ (স্বতন্ত্র) এমপি আবুল কালাম আজাদকে সাংগঠনিক সম্পাদক পদ হতে অব্যাহতি দিয়েছেন।
দেবীদ্বার উপজেলার বরকামতা ইউনিয়নের যুবলীগ নেতা ও চেয়ারম্যান প্রার্থী হারুনের হাতের আঙ্গুল কেটে নেয়া হয়েছে। কি ছিল তার অপরাধ। তাকে পঙ্গু করে দেয়া হয়। এই মামলার আসামিরা এখন প্রকাশ্যে ঘুরছে। কয়েক মাস আগে দাউদকান্দি উপজেলার গৌরিপুর এলাকায় যুবলীগ নেতাকে বোরখা পড়ে গুলি করে হত্যার ঘটনা ঘটে।
এ হত্যাকান্ডে ব্যবহার করা অবৈধ অস্ত্রগুলো কার? স্থানীয় প্রশাসন ভালো করেই জানেন। এমপির ভাই মাসুদকে এয়ারপোর্ট থেকে গ্রেফতার করা হলেও বর্তমানে জামিনে মুক্ত হয়ে উপজেলা নির্বাচনে ছোট ভাই মামুনের পক্ষে প্রচারণায় রয়েছেন।
২৯ মে দেবীদ্বার উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। স্থানীয় দেবীদ্বার উপজেলা আওয়ামীলীগের পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের প্রশ্ন? আওয়ামীলীগ প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনে কাজ করার অপরাধে নির্মম সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি আওয়ামীলীগ করাটাই কি আমাদের অপরাধ।

