ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
ঢাকা মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত একটি রেলষ্টেশন হচ্ছে বিমানবন্দর রেলষ্টেশন। যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৫০ হাজার মানুষ বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করেন। সম্প্রতি গুরুত্বপূর্ণ এই ষ্টেশনটির পূর্ব ও পশ্চিম অংশের গাড়ী পার্কিং এবং প্লাটফরম হকারদের দখলে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এতে করে সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।
সরেজমিনে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে দৈনিক প্রায় ৫ লক্ষ টাকার চাঁদাবাজির কাহিনি। এই চাঁদাবাজির নেপথ্যে রয়েছেন বিমানবন্দর রেলষ্টেশন পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ, এস.আই. নজরুল ইসলাম এবং ষ্টেশন মাষ্টার মরণ চন্দ্র দাস। তারা নিজস্ব নিয়োগকৃত লোকজনের মাধ্যমে এই টাকা সংগ্রহ করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিমানবন্দর রেলষ্টেশন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ভ্রাম্যমাণ দোকান বসে। একটি রিক্সাভ্যান সমমানের দোকানের জন্য দিনপ্রতি ১ হাজার টাকা করে দিতে হয় এস.আই/ নজরুল ইসলাম ও ষ্টেশন ম্যানেজার মরণ চন্দ্র দাসকে। এছাড়া এরকম অবৈধ খাবার দোকান, মাছের দোকান, ফলের দোকান যাদের আকার আয়তন বড় তাদেরকে আরো বেশী পরিমাণ টাকা দিতে হয়। বিমানবন্দর রেলষ্টেশনে এরকম দোকান প্রায় ৫ শতাধিক। যার প্রতিদিনের চাঁদাবাজির পরিমাণ দাঁড়ায় ৫ লক্ষাধিক টাকা। ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিমানবন্দর রেলষ্টেশনের গাড়ী পার্কিংয়ের নির্ধারিত স্থান সমূহের বেশীর ভাগ জায়গা হকারদের দখলে থাকে। সেখানে গাড়ী রাখার জায়গা থাকেনা। ষ্টেশনের মূলফটকের সামনের গাড়ী আসা-যাওয়ার রাস্তাটি একেবারে বন্ধ। ফলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। পার্কিংয়ের বাকী জায়গায় গাড়ী রাখার জন্য হকারদের দোকান সরাতে বললে তারা অশোভন আচরণ করে এবং বলে ষ্টেশন মাষ্টার মরণ স্যার ও ফাড়ীর নজরুল স্যারের সাথে গিয়ে কথা বলেন। এই বিষয়ে বিমানবন্দর রেলওয়ে পুলিশ ফাড়ির দায়িত্বে থাকা এস.আই / নজরুল ইসলামের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রেলওয়ে সৃষ্টিলগ্ন থেকেই এভাবে হকাররা দোকান নিয়ে বসে। আমি মাঝেমধ্যে দোকান উঠিয়ে দেই। দোকানপ্রতি প্রতিদিন ১ হাজার করে টাকা নেওয়ার কথা তিনি অস্বীকার করেন। ষ্টেশনমাষ্টার মরণ চন্দ্র দাসের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, হকার দোকান বসায় আবার উঠায়। আমরাও মাঝেমধ্যে তুলে দেই। আমি কোনো টাকা-পয়সা নেই না। এই বিষয়ে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পুলিশ সুপার ও চীফ কমান্ডেন্ট আর.এন.বি (পূর্ব) গণদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তারা জানান, বিষয়টি তারা জানতেননা, এইমাত্র অপরাধ বিচিত্রার মাধ্যমে জানলেন। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিবেন। বিমানবন্দর রেলষ্টেশন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রেলষ্টেশন। এই ষ্টেশনে এভাবে হকারদের দৌরাত্ম্য চলতে থাকলে বাংলাদেশ রেলওয়ে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে এবং দেশে ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হবে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

