দুমকিতে ৫ বছরের ব্যবধানে মুরগী বাবু থেকে কোটিপতি বাবু!

0
940

পটুয়াখালী প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকিতে মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে পোল্ট্রি মুরগির বিক্রেতা থেকে জমিসহ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক বনে গেছেন এলাকায় মুরগী বাবু নামে পরিচিত এক যুবক। এ নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ধূম্রজাল! রাতারাতি কোটিপতি হওয়ার গল্প যেন হার মানিয়েছে আলাদীনের চ্যারাগকেও।

Advertisement

অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে বেড়িয়ে এসেছে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য।

জানা যায়,  উপজেলায় আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের জলিশা গ্রামের বাসিন্দা মমতাজ উদ্দিন খান এর ছেলে মো: মাসুদ আল মামুন ওরফে মুরগী বাবু গত পাঁচ বছর আগেও উপজেলার পীরতলা বাজারে পোল্ট্রি মুরগির ব্যবসা করতেন। ব্যবসার এক পর্যায়ে ধার দেনায় জর্জরিত হয়ে মুরগীর ব্যবসা ছেড়ে পাড়ি জমান ঢাকায়। মালিক হয়েছেন কয়েকশো কোটি টাকার।

কিনেছেন একরে একরে জমি এবং ফেয়ার ইউনাইটেড গ্রুপ (হলান্ড টাওয়ার-৩২১, ঢাকা)  নামে একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও তিনি। একসময় উপজেলা ছাত্রদলের নেতাও ছিলেন। তবে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন একজন ছাত্রদল নেতা ও মুরগী ব্যবসায়ী কি করে রাতারাতি কয়েকশো কোটি টাকার মালিক হন প্রশ্ন অনেকের মনে। এছাড়াও জমি জবর দখলসহ নানা অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

দক্ষিণ বঙ্গ কৃষি কারিগরি প্রশিক্ষণ ইনিস্টিউট’র অধ্যক্ষ মো: জসিম উদ্দিন সুমন লিখিত অভিযোগ করে বলেন, আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি আমাদের কাউকে কিছু না জানিয়ে আমার বোনকে সরকার নির্ধারিত মূল্যের কয়েকগুণ টাকা বেশি দিয়ে গোপনে দলিল করে নেন। যার বিরুদ্ধে আমি কোর্টে মামলা দায়ের করেছি এবং আদালত থেকে জমির উপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন। কিন্তু বাবু সেই নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জমিতে রাতের আঁধারে লাঠিয়াল বাহিনী ও চিহ্নিত কতিপয় মাদকাসক্তদের নিয়ে কাজ করছেন। কিভাবে কয়েকবছরের ব্যবধানে মুরগির বিক্রেতা থেকে কয়েকশো কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তা আমার বোধগম্য নয়। তাই আমি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি যাতে তার এত টাকার উৎস কোথায় তা খতিয়ে দেখার অনুরোধ করছি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত বাবুর সাথে মুঠু ফোনে ক্রয়কৃত জমির দলিলের বৈধতা, পটুয়াখালী জজকোর্ট এর নিষেধাজ্ঞা ও কোটি টাকার মালিক হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা তো গোপনে দলিল করিনি রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেছি , কোন নিষেধাজ্ঞার কপি আমরা হাতে পায়নি এবং কোটি টাকার ব্যাপারে তিনি বলেন আমি কি থেকে কি হয়েছি, আমি শত কোটি টাকা বা হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছি তা দেখার জন্য ইনকাম ট্যাক্স এবং এন্টি করাপশন কমিশন রয়েছে এটা দেখার দায়িত্ব তাদের।    

দেয়াল ভেঙ্গে সামনের দোকানের দরজা খুলে পূর্বের চলাচলের রাস্তা বন্ধ করে দেয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে দুমকি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: আব্দুস সালাম বলেন, চলমান কাজ তো আমরা বন্ধ করার জন্য নিষেধ করে আসছি, সাধারণ ডায়েরির প্রসঙ্গে বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here