দুধ ও বাদাম উভয়ই শরীরের পুষ্টিগুণ পূরণে সক্ষম। এ দুটো একসঙ্গে খেলে কী হতে পারে বা এগুলো একসঙ্গে খাওয়া উচিত কি না? সে সম্পর্কে জেনে নিন-
দুধের সঙ্গে বাদাম মিশিয়ে খেলে দুধের গন্ধ অনেকটাই দূর হয়ে যায়। সেই সঙ্গে শরীরেরও অনেক উপকার হতে পারে। একাধিক গবেষণা থেকে জানা যায়, দুধের সঙ্গে বাদাম মিশিয়ে খেলে শরীরে একাধিক উপকার হয় ও পুষ্টির ঘাটতি দূর হয়। শরীরকে সচল ও রোগমুক্ত রাখতে প্রতিদিন বেশ কিছু উপাদানের দরকার হয়। যার বেশির ভাগই বিদ্যমান থাকে দুধ ও বাদামে। তাই এ সুপার ফুড একসঙ্গে খেলে পুষ্টির ঘাটতিজনিত কোনো সমস্যাই থাকবে না। বাদাম দুধে রয়েছে ৩৯ ক্যালরি, ১ দশমিক ৫৫ গ্রাম প্রোটিন, ২ দশমিক ৮৮ গ্রাম ফ্যাট ও ১ দশমিক ৫২ গ্রাম কার্বো-হাইড্রেড। সেই সঙ্গে রয়েছে দিনের মোট চাহিদার ৪৯ শতাংশ ভিটামিন ই ও দৈনিক চাহিদার ১১ শতাংশ থিয়ামিন, ৭ শতাংশ রাইগোফ্লামিন ও ৫ শতাংশ ম্যাগনেসিয়াম। তাই এত পুষ্টি উপাদান যে সুপার ফুডে রয়েছে সেগুলো আমাদের শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করবে এটাই স্বাভাবিক। এছাড়াও বাদাম দুধ ওজন কমাতেও সাহায্য করে থাকে। এক কাপ বাদাম দুধে কম বেশি ৩৯ থেকে ৫০ ক্যালরি থাকে। তাই শুধু দুধ খেলে যে পরিমাণ উপকার পাবেন তার থেকে অনেক বেশি উপকার পাবেন বাদাম দুধ একসঙ্গে খেলে। কারণ এ বাদাম দুধে সব ধরণের পুষ্টিকর উপাদানই রয়েছে। ফলে একদিকে পুষ্টির ঘাটতি যেমন দূর হবে তেমনি ওজন বাড়ার সম্ভাবনাও থাকবে না। এছাড়াও হার্টকে ভালো রাখতে পারে বাদাম দুধ। এগুলো একসঙ্গে খেলে শরীরে উপকারি ফ্যাটের মাত্রা বাড়তে শুরু করে। যা হার্টের কর্মক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। শুধু তাই নয়, বাদাম দুধে উপস্থিত উপকারি ফ্যাট সার্বিকভাবে শরীরের একাধিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গকে সুস্থ রাখার পাশাপশি রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই হার্ট সুস্থ রাখতে ও রক্তচাপকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাদাম ও দুধ একসঙ্গে খেতে পারেন। এমনকি হাড়কে শক্ত করতে পারে বাদাম দুধ। নিয়মিত বাদাম দুধ খেলে দৈনিক ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি এর চাহিদা যথাক্রমে প্রায় ৩০ শতাংশ ও ২৫ শতাংশ পূরণ হয়ে যায়। ফলে বৃদ্ধ বয়সে গেলে আথ্রাইসিসের মতো হাড়ের রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। শুধু তাই নয়, একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাদাম ও দুধ একত্রে দাঁতের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটাতেও সাহায্য করে। তাই দাঁত ভালো রাখতে ও হাড় ক্ষয় রোধ করতে বাদাম ও দুধ একত্রে খেতে পারেন। সেই সঙ্গে পেশীর ক্ষমতা বাড়াতে পারে বাদাম দুধ। বাদাম ও দুধ খেলে শরীরের আয়রন ও রাইগোফ্লবিনের ঘাটতি দূর হয়ে যায়। ফলে পেশী দুর্বল হয়ে পড়ার কোনো সমস্যাই থাকে না। বাদাম দুধ হজম শক্তি ঠিক রাখতেও সাহায্য করে থাকে। বাদাম দুধে রয়েছে ফাইবার যা হজম ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে থাকে। এটা কনস্টিপিউশনের মতো রোগ ভালো করতেও সাহায্য করে থাকে। তাই যারা কনস্টিপিউশনে ভুগে থাকেন তারা নিয়মিত এ পানীয়টি গ্রহণ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, ত্বকের দিক থেকেও বাদাম দুধ খুবই উপকারি। বাদাম দুধে উপস্থিত ভিটামিন ই ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ত্বকের ভেতরের লুকিয়ে থাকা সব রকমের ক্ষতিকারক উপাদান বের করে ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতেও সাহায্য করে থাকে। সেই সঙ্গে সূর্যের ক্ষতিকারক রশ্মি থেকেও ত্বককে বাঁচাতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করে। তাই নিয়মিত বাদাম ও দুধ খাওয়া শরীরের জন্য খুবই উপকারি। তবে অনেকেরই বাদাম ও দুধ সহ্য নাও হতে পারে। এটা খেয়ে কারো কোনো সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খেতে হবে

