দুদকের দৃষ্টি আকর্ষণ বাংলাদেশের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের নীলফামারী সোর্স এনামুল ওরফে মন্টু-২

0
736

মোজাহারুল ইসলাম ও আবু সুফিয়ানঃ
বাংলাদেশ ও বাঙ্গালী জাতির চরম রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দূর্যোগের দিনে সংগঠিত হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধ । যে যুদ্ধ আজও শেষ হয়নি। গোটা জাতি যে স্বপ্ন দেখেছিল বঙ্গবন্ধুর চোখ ও মুখের ভাষায়, সেই স্বপ্ন আজও অধারাই আছে। মাত্র কিছু সংখ্যক এনামুল ওরফে মন্টুদের হাতে বাংলাদেশের লক্ষ লক্ষ গোলাম মোর্শেদ জিম্মি রয়ে গেছে। মধ্যবিত্ত পরিবারের এসব যুবকদের চাকরীর প্রলোভন দেিেখয়ে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে উন্নত বায়লাদেশ বিনির্মাণের প্রধান প্রতিবন্ধক এই এনামুল ওরফে মন্টুরা। যে প্রতিবন্ধকতা এরা সৃষ্টি করেছিল ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলায় ০৭ নং রনচন্ডি ইউপির প্রত্যন্ত এলাকায় এক নিরহ কৃর্ষক তফেল উদ্দিনের ছেলে গোলাম মোর্শেদ।

Advertisement

রংপুর কারমাইকেল কলেজ থেকে অনার্স ও মাষ্টার্স শেষ করলে গলা চেপে ধরে বেকারত্ব। চাকুরীর কোন উপায় না থাকায় নিজ ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় বাজার ও ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয় থেকে অদুরে গড়ে তোলে ‘‘অগ্রযাত্রা কিন্ডার গার্ডেন’’ নামক স্কুল। উক্ত কিন্ডার গার্ডেনের আয় দিয়ে পরিচালক গোলাম মোর্শেদ ও তার আরও কিছু বন্ধু-বান্ধবের মোটামোটি ভাবে চলে যাচ্ছিল। কিন্ডার গার্ডেন স্কুল পরিচালনার পাশাপাশি সরকারী-বে সরকারী সব ধরনের চাকরীতে যোগ্যতা অনুযায়ী দরখাস্ত করা বা চাকরীর পরীক্ষা দেওয়া চলছিল সমান তালে। সাধারণত কিন্ডার গার্ডেনের ছোট ছোট প্রায় সব বাচ্চাদের অবিভাবক বা পরিবারের যে কোন সদস্য স্কুলে নেয়া-আনা করে থাকে। একই ভাবে রনচন্ডির বানিয়া পাড়ার বাংলাদেশের শীর্ষ দুর্নীতিবাজদের নীলফামারী সোর্স এনামুল ওরফে মন্টু তাঁর মেয়ের ছেলে অথ্যাৎ নাতীকে স্কুলে নেয়া-আনা করত। উক্ত কিন্ডার গার্ডেনের একাধিক শিক্ষক ও শিক্ষিকা অপরাধ বিচিত্রাকে বলেন, নাতী যতক্ষন স্কুলে থাকে এনামুল ওরফে মন্টু পুরো সমটাই স্কুলের অফিসে বসে থাকত আর প্রত্যেক শিক্ষক ও শিক্ষিকার কাছে খোঁজ নিতো যে লেখাপড়া কবে শেষ, চাকরী বাকরীর চেস্টা করছেন কিনা, চাকরীর জন্য কোন মাধ্যম আছে কিনা ইত্যাদি। গোলাম মোর্শেদ ‘‘অগ্রযাত্রা কিন্ডার গার্ডেনের’’ পরিচালক হলেও অত্যান্ত সহজ সরল। তাঁর এই সরলতার সুযোগ নিয়ে এনামুল ওরফে মন্টু বলে সরকারী শীর্ষ পর্যায়ে আমার অনেক ঘণিষ্ট লোক আছে। এখন পর্যন্ত আমার অনেক নিকট আত্বীয়কে সরকারী চাকরী দিয়েছি। তোমাকেও নিজ মনে হয় তাই বলছি, তুমি একটি উচ্চ শিক্ষিত ছেলে হয়ে এই অজোপাড়া গায়ে পড়ে আছো কেন? এ জাতীয় আরোও অনেক কথা বলে আমার ব্রেন ওয়াশ করে বলে গোলাম মোর্শেদ অপরাধ বিচিত্রাকে বলে। এনামুল ওরফে মন্টুর অনেক মধু মাখা মিষ্টি কথার পর চুড়ান্ত হল বাংলাদেশ তৈল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশন (পেট্রোবাংলা)-তে গোলাম মোর্শেদ ও তার ভাগনে বেলাল হোসেনকে মোটা বেতনের চাকরী দেওয়া হবে। এনামুল ওরফে মন্টুর ভাষ্যমতে খুব সামান্য টাকার বিনিময়ে অর্থাৎ মাত্র ১৬ (ষোল) লক্ষ টাকায় গোলাম মোর্শেদ ও বেলাল হোসেন যথাক্রমে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর ও অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ দেওয়া হবে। শর্ত হচ্ছে এনামুল ওরফে মন্টুর বাড়ীতে হাতে হাতে নিয়োগ পত্র দেওয়া হবে কিন্তু টাকাও হাতে হাতে দিতে হবে। যার প্রক্রিয়া সপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রায় গত ১৭ সেপ্টেম্বর ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দের সংখ্যা-১৬ এর ২৮ নং পৃষ্টায় প্রকাশিত হয়। গোলাম মোর্শেদ বলেন, আমার সহজ সরল বাবা ভিটামাটি বাদে আবাদি প্রায় সব জমি বিক্রি করে ও ০৩ (তিন) লক্ষ টাকা সুদের উপর নিয়ে ১৪.৫ (সারে চৌদ্দ) লক্ষ টাকা সংগ্রহ করি। এনামুল ওরফে মন্টুর বাড়ীতে যখন নিয়োগ পত্র দুটি দেওয়া হয় তখন নগদ ১৪.৫ (সারে চৌদ্দ) লক্ষ টাকা নিয়ে আমার মামা মকবুল হোসেন মেম্বর সহ বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট জন উপস্থিত ছিলেন। ঐ নিয়োগ পত্র দুটি যে ভূয়া ছিল তা আমরা কেউই বুঝতে পারি নাই। কারণ আমার এবং লেনদেনের সময় উপস্থিত কারোরই অতীতে চাকরী করার অভিজ্ঞতা ছিল না। নিয়োগ পত্র দেখতে কেমন হয় তাও জানতাম না। তাছাড়া চাকরীতে যোগদান করার সময় এনামুল ওরফে মন্টু নিজেই উপস্থিত থাকবে বলে সন্দেহ করিতে পারি নাই। সে ঢাকা পর্যন্ত আমাদের সাথে যাওয়ার পর যখন ঐ নিয়োগ পত্র দুটি দিয়ে পেট্রোবাংলার চাকরীতে যোগদান করালো না, তখন বুঝতে পারছি সে আমাদের সাথে প্রতারণা করল। কিন্তু এতোবড় অঙ্কের টাকা যার হাতে তাৎক্ষনিক ভাবে তার সাথে বাড়াবাড়ী করি কিভাবে? তাই আলোচনা সাপেক্ষে বললাম আমার টাকা ফেরত দিন। কিন্তু সে বলে এখানে হলো নাতো কি হয়েছে অন্য কোন ভালো সরকারী চাকরী তোমাদের দিয়ে দিব। কখনও বলে টাকা ফেরত দিব, তার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন কথা। এদিকে সুদের টাকার চাপও সহ্য করিতে পারছি না। এমতাবস্তায় অপরাধ বিচিত্রার সরণাপন্ন হয়ে পত্রিকার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আমর টাকা ফেরত ও ন্যায় বিচার চাচ্ছি। খুব দ্রত সুদের টাকা পরিশোধ করিতে না পারিলে এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা আমার জন্য কঠিন হবে। অপরাধ বিচিত্রার অনুসন্ধানে জানা যায় যে, এ ধরনের প্রতারণা করাই এনামুল ওরফে মন্টুর প্রধান পেশা। নাম প্রকাশ না শর্তে এনামুল ওরফে মন্টুর একাধিক প্রতিবেশী অপরাধ বিচিত্রাকে বলে সে এক সময় অনেক বড় মাদক ব্যবসায়ী ছিল এবং সব চাইতে চাঞ্চল্য কর তথ্য হচ্ছে ১৯৭১ সালে এই মন্টু বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে মানুষকে বুঝাতো (চলবে)।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here