দক্ষিণখানে জামায়াত নেতার ভূইভোর ক্লিনিকে তুলপাড়

0
1112

মাহমুদুল হাসান/ এমএবি সুজনঃ
রাজধানীর দক্ষিণখানের আমতলায় জামায়াত নেতার হাসপাতাল নিয়ে শুরু হয়েছে তুলপাড়। দি চাঁদের হাসি চিহিৃত পারিবারিক হাসপাতাল নাম দিয়ে দিনের পর দিন সাধারন রুগীদের সাথে প্রকাশ্যে প্রতারণা করলেও আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রনালয়কে কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় নি। অবস্থিত ক্লিনিক ও ভবনটির মালিক মোঃ তরিকুল ইসলাম। জামায়াত ইসলামের রুকন ও জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা বলে জানান তার ব্যবসায়ীক পার্টনার জুবায়ের আহাম্মেদ। পূর্বে ভবনটিতে দি তাজ হাসপাতাল নামের একটি প্রতিষ্ঠান ছিল। দি চাঁদের হাসি ক্লিনিকটি মূলত এনজিও এর অধিন একটি কমিনিউটি ক্লিনিক। তরিকুল  ও জুবায়ের প্রতারক চক্র হেলথ কার্ডের কথা বলে জনগন হতে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলে ব্যপক অভিযোগ পাওয়া গেছে। হেলথ কার্ড প্রতারণায় মাঠে নামানো হয়েছে কয়েকশ কর্মী। জনগনের কাছ থেকে প্রতারণা করে নেওয়া টাকা হতেই কর্মীদের নাম মাত্র বেতন দেওয়া হয়। চার তলা পূরো বিল্ডিং জুড়ে ক্লিনিকটির পরিধি। আশ্চর্য্য হলেও  সত্য পুরো হাসপাতালে ডাঃ নেই একজনও। সার্বক্ষনিক তাজামুল নামে একজন কথিত ডাক্তারকে অবস্থান করতে দেখা যায়। তবে তাজামুল কোন ডাক্তারী কাগজপত্র দেখাতে পারে নি। তারেক ও জুবায়ের যৌথ প্রতারণার ফাঁদ তৈরী করে, হাসপাতাল দেখিয়ে আশে পাশের লোকজন হতে প্রায় ৫০-৬০ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করে। প্রতারক জুবায়ের ক্লিনিকের ব্যবসায়িক পাটনার করার কথা বলে কুমিল্লা হতে ২০ লক্ষ, ভাষানটেক হতে ৩০ লক্ষ, চুয়াডাঙ্গা হতে ১২ লক্ষ ও তার দেশের বাড়ী কিশোরগঞ্জ হতে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে পালিয়ে ঢাকা চলে আসে জুবায়ের সিন্ডিকেট। তারেক অন্যান্যদের জানায়, ক্লিনিকটি অষ্টোলিয়ার সরকার তত্ত্ববধান করছে। তারা বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র হতে অর্থ সংগ্রহ করে আমাদেরকে পাঠাবে। প্রতারণার দায়ে তাদের বিরুদ্ধে দক্ষিণখান থানায় গত ১৪/০৬/২০১৫ ইং তারিখে ১টি জিডি দায়ের করা হয়। ক্লিনিকটি জঊঝঅ জঁৎধষ ঊফঁপধঃরড়হ ঐবধষঃয ঝবৎারপব জয়েন্ট ষ্টোক কোম্পানী হতে লাইসেন্স নিলেও স্বাস্থা মন্ত্রনালয়ের অধিন বলে কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে। দক্ষিনখান গণবসতি পূর্ণ এলাকা হওয়ায় দিন রাত রুগীদের ভির লেগেই থাকে। কিন্তু ডাক্তারের বদলে নার্স ও ঔষুধ বিক্রেতারাই রুগী দেখার কাজটা সেরে নিচ্ছেন। ২৪ ঘন্টা অভিজ্ঞ ডাক্তার এর উপস্থিতির কথা বললেও ভুয়া ডাক্তার তাজামুল ছাড়া আর কাউকে পাওয়া জায়না বলে অভিযোগ রুগীদের। নার্সদের সাথে আলাপ করে জানা যায়, তারা কেউ শিক্ষিত নয়, নেই কোন নার্সের সার্টিফিকেট। তবে তাদের দাবী “আমরা ইনজেকশন পুস করা, সাধারন ডেলীভারী থেকে শুরু করে সিজারে বাচ্চা প্রসব করানোর কাজটাও শিখে গেছি”। অভিযোগ রয়েছে ক্লিনিকটি ভ্রন হত্যার আখরায় পরিনত হয়েছে। তরিকুলের শেল্টারে অসংখ্য ভ্রন হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যপারে প্রতারক জুবায়ের সাথে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করলেও সে দেখা করতে রাজি হননি। তবে মোবাইলে জানায়, আমাকে তারেক জোর করে প্রতিষ্ঠান হতে বের কের দিয়েছে। তরিকুল জামায়াত ইসলামের রুকন। তাই আমি তার সাথে ব্যবসা করতে না চাওয়ায় তার লালিত গুন্ডা বাহীনি প্রধান আমিনুল কে দিয়ে বিভিন্ন হুমকি দিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরো বলেন, তরিকুলের বাড়ী বি-বাড়ীয়া, সে যুদ্ধাপরাদের দায়ে অভিযুক্ত জামাতের সাবেক আমির গোলাম আজমের নিকট আত্মীয়। জামায়াত ইসলামকে অর্থ যোগান দেওয়ায় বাংলা লিং থেকে তাকে চাকুরীচূত করা হয়। এ ব্যাপারে জুবায়ের তরিকুলকে জামায়াতের অর্থ যোগানদাতা হিসাবে চিহিৃত করে সামাজিক ভাবে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য দক্ষিণখান ইউনিয়ন পরিষদ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। প্রতারক জুুবায়ের নিজেকে বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউরো মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক পরিচয় দেয়। অন্যদিকে সে নিজেকে ৩৪তম বিসিএস এর স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১ম স্থান অধিকারী বলে প্রচার করে। নিজেকে ঢাকা রোটারী ক্লাবের সভাপতি, ঢাকা ক্লাবের সাধারন সম্পাদক ও বাংলাদেশ মেডিকেল এসোসিয়েশন বিএমএর সহ-সভাপতি হিসাবে পরিচিয় দিয়ে বেড়ায়। অনুসন্ধানে জানা যায়, তারেক যুবায়ের সিন্ডিকেটের প্রতারণার বিষয়টি জনসম্মুখে প্রকাশ হয়ে পড়লে জুবায়ের পালিয়ে যায়। অন্যদিকে তরিকুল গোপনে যুবায়েরকে বাদ দিয়ে ক্লিনিকের নাম পরিবর্তন করার কথা বলে এক চেটিয়া রুগীদের সাথে প্রতারণা করে যাচ্ছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে একাধিক ভোক্তভূগি অভিযোগ করে বলেন, এখানে অল্প টাকার চিকিৎসার কথা বললেও বাস্তবে ভর্তি হওয়ার পর গলা কাঁটছে। হেলথ কার্ড বিক্রয় কর্মীরা জানান, আমাদের টাকায় আমাদেরকে বেতন দেওয়া হয়। এখন তাও দেওয়া হচ্ছে না। দুই স্যারের ক্লিনিকের মালিকানা দন্ধে আমাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না। ভোক্তভূগী কর্মচারী, রুগী ও স্থানীয় জনগন ক্লিনিকটি দ্রুত বন্ধ করে আইনগত ব্যবস্থার মাধ্যমে যুবায়ের ও তরিকুলকে আইনের আওয়তায় আনার আহবান জানান। তারা আরো বলেন, এখনই ব্যবস্থা না নিলে ভুয়া ডাক্তারদের কবলে পড়ে যে কোন সময় অঙ্গ হানীর ঘটনা সহ বড় ধরনের প্রাণ হানির মত ঘটনা ঘটাতে পারে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here