তালতলীর এক ভূমিদস্যু মামলাবাজ ফারুক কমান্ডার এলাকায় ভূমি দখল ও মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষদের হয়রানী

0
1110

বিশেষ প্রতিনিধি ঃ
মোঃ ফারুক হোসেন (৫৫), ভূমি অফিসের পিয়ন, বর্তমানে পাথরঘাটা ভূমি অফিসে কর্মরত। বরগুনার তালতলী উপজেলার বড় ভাইজোড়া গ্রামে তার বাড়ি। এলাকায় ফারুক কমান্ডার হিসেবে তিনি পরিচিত। কিন্তু কবে কোথায় কিসের কমান্ডার ছিলেন তিনি তা জানেনা কেউ। ফারুক কমান্ডার একজন সামান্য পিয়ন পদে চাকুরী করলেও তিনি এখন কোটিপতি। তার বাড়ির সামনে প্রায় ২০ একর জমি নিয়ে করেছেন একটি মাছের ঘের। তালতলী বাজার কেন্দ্রীয় মসজিদের সামনে ভিটি করেছেন যার আনুমানিক মূল্য ৩০ লক্ষ টাকা। এ ছাড়াও রয়েছে তার কৃষি জমি ও  ব্যবসা বানিজ্য। তার দুই ছেলে নজরুল ও জহিরুল এসব পরিচালনা করছেন। কিন্তু ফারুক কমান্ডারের এসকল অর্থের উৎস কোথায় ? তিনি কি অলাদীনের চেরাগ পেয়েছেন ? না বিদেশ থেকে কখনও কারি কারি টাকা নিয়ে এসেছেন ? এর কেনটিই নয়। সরে জমিন অনুসন্ধানে জানা গেছে, ভূমিদস্যু মামলাবাজ ফারুক কমান্ডার এলাকায় ভূমিদখল, খাস জমি দখল ও ভূমি অফিসের দালালী করে রাতারাতি অঢেল অর্থ-বিত্তের মালিক হয়েছেন। ফারুক কমান্ডার ভূমি অফিসের পিয়ন হওয়ায় ভূমি সংক্রান্ত ফাক ফোকর জেনে তিনি ভূমিদখল ও খাস জমি দখল করে আসছে। নিজে অঢেল অর্থ বিত্তের মালিক হওয়া সরেও তার ছেলেদের ভূমিহীন দেখিয়ে খাস জমি বন্দোবস্ত নিচ্ছেন। এ সকল খাস জমি প্রকৃত ভূমিহীনদের দখলে থাকায় দখল নিয়ে তাদের সাথে বিরোধ সৃষ্টি হচ্ছে। দখল না পেয়ে এ সকল ভূমিহীন  নিরীহ মানুষদেরকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ফারুক কমান্ডার ১৯৮৬/৮৭ সালে একটি ভূমি বন্দোবস্ত নিয়ে বিক্রি করে দিয়েছেন। ফারুক কমান্ডারের প্রতিবেশী বড় ভাইজোড়া গ্রামের ভূমিহীন ভ্যানচালক মালেক ১নং খাস খতিয়ানের ১০৩৭ দাগের খাস জমিতে বসত বাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করে আসছে। ২০০৬ সালে উক্ত জমি বন্দোবস্ত পেতে মালেক ভূমি অফিসে আবেদন করেন। এদিকে ভূমিদস্যু ফারুক কমান্ডার তার বড় ছেলে নজরুলকে ভূমিহীন দেখিয়ে তিনিও আবেদন করেন। ফারুক কমান্ডার ভূমি অফিসের পিয়ন। ভূমি অফিসের কিছু অসাধু কর্মকর্তাদের যোগ সাজসে মালেকের আবেদন গায়েব করে দিয়ে ভুয়া তথ্য দিয়ে তার ছেলে নজরুলের নামে জমি বন্দোবস্ত করিয়ে নেয়। এবার বন্দোবস্ত জমি দখলের পালা। ফারুক কমান্ডার উক্ত জমি দখলে পেতে মলেককে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। মালেক জমি ছেড়ে না দেয়ায় তার বিরুদ্ধে একের পর এক মিথ্যা মামলা হামলা সহ বিভিন্ন রকমের হয়রানী করতে থাকে।তার বাড়ি-ঘরে হামলা করে। তাকে চলার পথে বাধা দেয়। তার বাড়ির গাছ কেটে নেয়। এর পরে দিতে থাকে একের পর এক মিথ্যা মামলা। গত ১০.০৪.২০১৬ তারিখে ফারুক কমান্ডারের ছেলে নজরুল বাদী হয়ে আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট কোর্টে বাদী হয়ে একটি মাছ চুরি ও পিলার তুলে ফেলার মামলা করে। বিজ্ঞ বিচারক মামলাটি তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিখিল চন্দ্রের কাছে দিলে এ মামলায় ফারুক কমান্ডারেরর নিজস্ব লোকজন দিয়ে মিথ্যা স্বাক্ষী দিয়ে ঘটনার আংশিক সত্যতা দেখায়। ঐ মামলায় আসামীরা জামিন পেলে কিছুদিন পরে ফারুক কমান্ডার মালেকের বাড়ির গাছ কেটে নিয়ে উল্টো তার ছেলে নজরুলকে বাদী করে গত ১০.০৪.২০১৬ তারিখ আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল মেজিষ্ট্রেট আদালতে মিথ্যা মামলা দেয়। অসহায় দরিদ্র মালেক এখন প্রভাশালী ফারুক কমান্ডার ও তার ছেলে নজরুলের হামলা-মামলায় অতিষ্ঠ হয়ে নিজ বসত বাড়িতেও টিকে থাকতে পারছেনা। মালেকের উক্ত বন্দোবস্ত জমি নিয়ে  তৎকালীন তালতলী উপজেলা নির্বাহি অফিসার ইসরাইল হোসেনের কাছে আবেদন করলে তিনি গত ০২.০৬.২০১৬ তারিখ ভূমি অফিসের সার্ভেয়ার মাসউদউল আলমের কাছে তদন্তে আদেশ দেন। সার্ভেয়ার মাসউদউল আলম গত ৭.৬.২০১৬ বন্দোবস্ত কেসটি বাতিল করা যেতে পারে মর্মে রিপোর্ট দাখিল করেন। তিনি রিপোর্টে উল্লেখ করেন বন্দোবস্ত প্রাপ্ত নজরুল প্রকৃত ভূমিহীন নয়। এবং তার পিতা একজন সরকারী চাকুরীজীবি। এতদসত্বেও ফারুক কমান্ডার দরিদ্র মালেককে হয়রানী করে আসছে। (চলবে)

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here