তাকওয়া বলতে আমরা কি বুঝি?

0
417

১/ আল্লাহ যে আমাদের সৃষ্টিকর্তা তা কি আমরা বিশ্বাস করি?

Advertisement

২/ আল্লাহই আমাদের একমাত্র রিজিকদাতা এই বিশ্বাস কি আমাদের আছে?

৩/ আমরা যাকিছু বলি ও করি আল্লাহ সব দেখেন এই কথা কি আমরা বিশ্বাস করি?

৪/ আমরা রাতের অন্ধকারে গোপনে যা করি আল্লাহ তা দেখেন এই বিশ্বাস কি আমাদের আছে?

৫/ আমরা মনের মধ্যে গোপনে কি চিন্তা করি তাও আল্লাহ জানেন, এই বিশ্বাস কি আমাদের অন্তরে আছে?

প্রত্যেক মুসলমানকে উপরোক্ত ৫ টি প্রশ্ন করা হলে উত্তরে সবাই বলবে হ্যা। কিন্তু সারা বিশ্বের মুসলমানদের যে চরিত্র প্রকাশিত হচ্ছে তাতে কি মনে হয় আল্লাহর প্রতি মুসলমানদের মধ্যে উপরোল্লিখিত বিশ্বাসগুলো আছে? মুসলমানরা বিশ্বাস করে বলে মুখে যা বলেন আসলে তাদের অন্তর সেই বিশ্বাস অর্জন করেনি। আর অন্তরে বিশ্বাস নেই বলেই মুসলমানরা নানারকম পাপকাজে জড়িয়ে পরে। এজন্যই একজন মুসলমানকে তাকওয়া অর্জন করতে হয়। যে যতবেশি তাকওয়া অর্জন করবে সে ততবেশি পাপকর্ম হতে দূরে থাকতে পারবে। এই তাকওয়া তাহলে কি? যে তাকওয়া অর্জন করলে মানুষ পাপকাজ হতে দূরে থাকতে পারে?

তাকওয়া শব্দের অর্থ হলো আল্লাহ ভীতি। যে ব্যক্তির ভিতরে যতবেশি আল্লাহ ভীতি সৃষ্টি হবে, সেই ব্যক্তি আল্লাহর ভয়ে পাপ হতে ততবেশি দুরে থাকবে। আমরা মুখে যতই বলি আমরা আল্লাহকে ভয় করি, কিন্তু কর্ম তো প্রমাণ করে না যে আমরা আল্লাহকে ভয় করি।

আমরা অন্তরে যদি এই বিশ্বাসটা অর্জন করতে পারি যে, আমরা গোপনে ও প্রকাশ্যে যা করি আল্লাহ সব দেখেন এবং মনের মধ্যে গোপনে যা চিন্তা করি তাও আল্লাহ জানেন। তাহলে কি আমাদের পক্ষে জেনেশুনে কোন পাপ করা সম্ভব হবে? পাপকাজ করা তো দূরের কথা মনের মধ্যেও অশ্লীল চিন্তা আনতে পারব না এই ভেবে যে, কেউ না জানলেও আল্লাহ তো জানতেছেন আমি মনে কি চিন্তা করতেছি।

গোপনে ও প্রকাশ্যে আমরা যা বলি ও করি আল্লাহ সব শুনেন ও দেখেন এমনকি আমরা গোপনে মনের মধ্যে কি চিন্তা করি তাও আল্লাহ জানেন। মুখে বিশ্বাস করার পাশাপাশি এই বিশ্বাস যে ব্যক্তি অন্তরে ধারণ করে সেই ব্যক্তি হবেন তাকওয়া অর্জনকারী। তাকওয়া অর্জন না হলে কেউ ঈমানদারই হবেন না। তাকওয়া অর্জনকারীদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন-

“যাদের হৃদয় ভয়ে প্রকম্পিত হয়ে উঠে আল্লাহর নাম স্বরণ হলে, বিপদে আপদে ধৈর্য ধারণ করে, সালাত কায়েম করে ও আল্লাহর দেওয়া রিজিক হতে ব্যয় করে।” (সূরা হজ্জ, আয়াত-৩৫)

আমাদের হৃদয় কি আল্লাহর ভয়ে কখনো কেঁপে উঠেছে? মসজিদে নামাজে আল্লাহর সামনে যখন দাড়াই তখন কি আমাদের হৃদয় আল্লাহর ভয়ে কেঁপে উঠে? মসজিদে প্রবেশকারী অধিকাংশ মুসল্লিই তো আদবের সাথে মসজিদেই প্রবেশ করেন না। নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় আদব তো নেই উল্টো জুতা সেন্ডেল পায়ে দেওয়ার জন্য হাতে উঠি দাড়িয়ে থেকে নিচে যেভাবে শব্দ করে ফেলেন তাতে তো চরম বেয়াদবিই হয়। নামাজি মুসলমানদের ভিতরেই যদি আল্লাহ ভীতি না থাকে তাহলে তো নামাজি ব্যক্তিরও পাপে জড়াতে আল্লাহ ভীতি বাঁধা হয়  না। আল্লাহর ভয়ই যদি অন্তরে না থাকে তাহলে আমরা পাপকাজ হতে বাঁচবো কিভাবে? এই তাকওয়া অর্জনের কথা যারা বেশি বেশি বলেন অর্থাৎ সমাজের আলেমরা মানুষকে তাকওয়া অর্জনের কথা বললেও নিজেদের মধ্যেই তাকওয়া নেই। তাই তো অসংখ্য আলেম গোপনে হোক বা প্রকাশ্যেই হোক অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িয়ে পরে। আল্লাহ ভীতি যদি তারা অর্জন করতে পারতই তাহলে তো আল্লাহর ভয়ে তাদের পক্ষে পাপকর্ম করা সম্ভব হত না।

কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান অর্জনকারী আলেমদের পাপকর্মে জড়িয়ে পরাই প্রমাণ করে, শুধু কুরআন ও হাদীসের জ্ঞান অর্জন করেই তাকওয়া অর্জন করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়। যেমন আমরা সকলেই জানি মিথ্যা বলা মহাপাপ। আমাদের মধ্যে কয়জন মিথ্যা না বলে দিন পার করি? মিথ্যাকে বলা হয় সকল পাপের জননি। সেই মিথ্যাই আমরা ছাড়তে পারি না।

শুধু জানলেই হবে না এই বিষয়গুলো অন্তরে অর্জন করতে হবে। মুখের বিশ্বাসকে অন্তরে অর্জন করতে হলে সহবতের বিদ্যা লাগবে। যেমন মিথ্যা হতে বাঁচতে হলে সত্যবাদীর সাহচর্যে গিয়ে সহবতের বিদ্যা অর্জন করতে হয়। তেমনি আল্লাহর মনোনীত কোন মহামানবের সহবতে গিয়ে নিজের ভিতরের দোষত্রুটি দুর কর তাকওয়া অর্জন করতে হয়। কুরআন ও হাদীসের যতবড়ই পণ্ডিত হোন না কেন মহামানবগণের সাহচর্য ব্যতীত কেউ তাকওয়া অর্জন করতে পারে না।

নবুওতের যুগে তাকওয়া অর্জন শিক্ষা দেওয়া মহামানবগণকে বলা হয় নবী রাসুল এবং নবুওতের পরবর্তী যুগে তাকওয়া অর্জন শিক্ষা দেওয়া মহামানবগণকে বলা হয় তরিকার ইমাম, যুগের ইমাম, মোজাদ্দেদ। সাধারণত আমরা যাঁদেরকে অলিআল্লাহ বলি। অলিআল্লাহগণের সাহচর্য ব্যতীত যারা তাকওয়া অর্জন করছেন বলে মনে করেন, তারা নিজেদের অন্তরকে জিজ্ঞেস করে দেখেন আপনার তাকওয়া অর্জন হয়েছে কি না?

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here