ষ্টাফ রিপোর্টারঃ
সিনিয়র সাংবাদিক ও অপরাধ বিচিত্রার যুগ্ন সম্পাদক কাজী ফারুককে হত্যা চেষ্টার মামলা ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত গ্রহন করে, ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর নামে নোটিশ জারি করেছে। গত ২ জুলাই রবিবার ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কামরুল ইসলাম মোল্লা রিভিশন মামলাটি গ্রহন করে এই আদেশ দেন। আগামী ১৬ আগষ্ট পরবর্তী তারিখ ধার্য্য করেন। ইতি পূর্বে সাংবাদিক কাজী ফারুক বিজ্ঞ এম.এম .এস.এম মাসুদ জামানের আদালতে গত ২৫ মে মামলাটি করেন। আদেশ পরে দেয়া হবে বলে ২৮ মে মামলাটি খারিজ করে দেন। খারীজ আদেশের বিরুদ্ধে সাংবাদিক কাজী ফারুক বিজ্ঞ মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলাটি করেন। সাংবাদিক কাজী ফারুক আর্জিতে বলেন ফেনী-২ আসনের বিনা ভোটে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, সন্ত্রাসীদের গডফাদার, ইয়াবা ডিলার, একরামের খুনি, টেন্ডারবাজ, চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, নিজাম উদ্দিন হাজারীর নির্দেশ, প্ররোচনা, পরামর্শ এবং অর্থায়নে অজ্ঞাতনামা ১০/১২জন সশস্ত্রসন্ত্রাসী গত ২১মে ২০১৭ ইং তারিখে সিনিয়ার সাংবাদিক, অপরাধ বিচিত্রার যুগ্ম সম্পাদক, অনলাইন প্রেস ইউনিটির চেয়ারম্যান কাজী ফারুককে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সম্মুখে খুন, অপহরন করার চেষ্টা করে। প্রেস ক্লাব এলাকা জনাকীর্ন হওয়ায় সন্ত্রাসীদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। তবে সন্ত্রাসীরা কাজী ফারুককে এলোপাথারী মারধর করে এবং যাওয়ার সময় তার বুকে পিস্তল ঠেকাইয়া শাসাইয়া যায় যে, যদি আজকের পর নিজাম ভাইয়ের বিরুদ্ধে কোন নিউজ, সভা সমাবেশ করিস, তোকে জানে মেরে ফেলব এবং যাওয়ার সময় প্রেস ক্লাবের সম্মুখে নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে টাঙ্গানো ২টি ব্যানার নিয়া যায়। কাজী ফারুকের শোর-চিৎকারে স্বাক্ষীগণ সহ আশে পাশের লোকজন আগাইয়া আসিলে সন্ত্রাসীগন দ্রুত পালাইয়া যায়। স্বাক্ষীগন ঘটনা দেখিয়াছে এবং প্রমান করিবে। কাজী ফারুক ঘটনার অব্যবহিত পরেই নিকটস্থ শাহবাগ থানায় যান মামলা করার জন্য কিন্তু আসামী প্রভাবশালী হওয়ায় শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবুল হাসান মামলা গ্রহন করতে রাজি হননি। জানা যায়, কাজী ফারুক বিগত ৫ ফেব্রুয়ারী ২০১৭ ইং তারিখ নিজাম হাজারীর অপকর্মের প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাব সম্মুখে এক মানব বন্ধনে নেতৃত্ব দেন। যাহা ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও প্রিন্ট মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। বর্তমানে কাজী ফারুক তার ম্যাগাজিন অপরাধ বিচিত্রায় নিজাম উদ্দিন হাজারীর অপকর্মের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করিতেছেন। তিনি গত ২০ মে ২০১৭ ইং তারিখে জাতীয় প্রেস ক্লাবের ২য় তলায় ভি.আই.পি লাউঞ্জে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হকের ৩য় মৃতুবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এক স্মরণ আয়োজন করেন। সেখানে কাজী ফারুক উক্ত একরাম হত্যার সাথে নিজাম হাজারীর সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করে নিজাম হাজারীর সমালোচনা করেন। উক্ত কারনে নিজাম হাজারী ক্ষিপ্ত হইয়া তার সন্ত্রাসী, ক্যাডার বাহিনী দিয়ে কাজী ফারুককে খুন, অপহরন, যে কোন রূপ ক্ষতির চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। উল্লেখ্য নিজাম হাজারীর বিরুদ্ধে বিগত ২০ মে ২০১৪ ইং তারিখে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একরামুল হক একরামকে ফেনী শহরে প্রকাশ্য দিবালোকে প্রথমে কুপিয়ে, গুলি করে তারপর তার প্রাডো গাড়ীতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে খুন করার অভিযোগ রয়েছে।

