ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প সড়কের বেহাল দশা

0
684

উপজেলার কুমিরায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের বিকল্প সড়কের বেহাল অবস্থা হয়েছে। সড়কের বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হয়েছে ছোট-বড় অনেক গর্ত। বৃষ্টির পানি জমে সড়কটি দেখতে জলাশয়ের মতো মনে হয়! এতে যান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠেছে। এবড়ো খেবড়ো সড়কে হেলে দুলে চলছে গাড়ি।

Advertisement

এ অবস্থায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন সাধারণ যাত্রী ও গাড়িচালকরা। জানা গেছে, সীতাকুণ্ড উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিরা ঘাটঘর এলাকার পুরনো মহাসড়ক বিকল্প সড়ক হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চার লেন নির্মাণকালে কুমিরা অংশে বাইপাস সড়ক নির্মাণের পর পুরনো সড়কে দূরপাল্লার যানবাহন না চললেও লোকাল সব যানবাহন এখনো ওই সড়কে চলাচল করে। তবে কোনো কারণে নতুন চার লেনে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে পুরনো সড়কই এখনো মহাসড়কের ভরসা। তাছাড়া একই সড়ক কুমিরা-সন্দ্বীপ ঘাটঘর যাতায়াতের একমাত্র পথ হওয়ায় প্রতিদিন ওই  সড়কে বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। এতে সড়কটি ক্রমশ ভেঙে খানা-খন্দ সৃষ্টি হয়েছে। সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কের কুমিরা আবাসিক উচ্চ বিদ্যালয় ও ডাল চাল মিয়া মাজার গেটের মাঝামাঝি অংশে সড়ক অনেকটা জলাশয়ে পরিণত হয়েছে। গর্তে পানি জমে গেছে। যান চলাচল করছে অত্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে। ডাল চাল মিয়া মাজার গেট এলাকার এক ব্যবসায়ী মো. মোস্তফা জানান, বিগত কয়েক মাস ধরে সড়ক ক্রমশ ভাঙছিল। মাস খানেক আগে গর্তগুলো আরো বিশালাকারে রূপ নেয়। সম্প্রতি এসব গর্তে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় সড়ক এখন দেখতে জলাশয়ের মতো মনে হয়। তিনি বলেন, ‘সড়কের পাশেই একটি মার্কেট নির্মাণ করা হয়েছে। ওই মার্কেটের যাবতীয় পানি সড়কের গর্তে এসে জমে। এ কারণে এখানে সবসময় পানি জমে থাকে। এতে সড়কের ক্ষতি হচ্ছে।’ একই কথা বলেন, কুমিরা-চট্টগ্রাম রুটের লোকাল যাত্রীবাহী বাসচালক মো. রফিক। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘ঝুঁকি নিয়ে গাড়ি চালাচ্ছি। মাসের পর মাস একটি বিকল্প মহাসড়ক এ অবস্থায় পড়ে থাকলেও সড়ক ও জনপথ বিভাগ এটি সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেয়নি। আর পাশের মার্কেটের পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই। তাদের সব পানি সড়কে এসে পড়ছে।’ সন্দ্বীপ থেকে কুমিরা ঘাটঘর হয়ে চট্টগ্রামগামী সন্দ্বীপ মুছাপুরের বাসিন্দা মো. কামরুজ্জান বলেন, ‘সড়কটি আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এ সড়ক অনেক দিন ধরে চলার অযোগ্য হয়ে পড়েছে।’ কুমিরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোর্শেদুল আলম চৌধুরী বলেন, ‘এটি কোনো গ্রাম্য সড়ক নয়। বিকল্প ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক। সড়ক দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে নবনির্মিত চার লেন বন্ধ থাকলে তখন এ রুটে সব যানবাহন চলাচল করে। আর অন্য সময়ে সব লোকাল যানবাহন চলে। এ রকম একটি সড়ক অনেক দিন ধরে খানা-খন্দে, পানিতে যান চলাচলের অযোগ্য। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।’ তবে তিনি জানান, কয়েকদিন আগে সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সড়কটি পরিদর্শন করে গেছেন। কিন্তু এখনো কোনো পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। এদিকে জানতে চাইলে সওজ চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী জুলফিকার আহমেদ  বলেন, ‘সড়কের দুপাশে পানি নিষ্কাশন বন্ধ করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের কারণে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে সড়কটির এ অবস্থা হয়েছে। আমি সড়ক ঘুরে দেখেছি।’ অতি শিগগিরই সংস্কার করে সড়কটি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানান তিনি।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here