জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ঢাকার নাজিম উদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে জেল সুপারের ব্যবহৃত কার্যালয়ের একটি কক্ষে নেওয়া হয়েছে। ডিআইজি (প্রিজন) তৌহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, খালেদা জিয়া কারাগারে ডিভিশন সুবিধা পাবেন। এরআগে বৃহস্পতিবার দুপুরে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন আদালত।
তারেক রহমানসহ মামলার অন্য আসামিদের ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। একইসঙ্গে তাদের সবার ২ কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা করে জরিমানা করা হয়। দুপুর ২টা ২৯ মিনিটে রাজধানীর বকশীবাজার আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে স্থাপিত ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ আদালতের বিচারক ড. মো. আখতারুজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। বিচারক বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে ৪০৯ ও ১০৯ ধারার অপরাধ প্রমাণ হয়েছে। বয়স বিবেচনায় খালেদা জিয়ার সাজা কমানো হয় বলে রায়ে উল্লেখ করেন আদালত। মোট ৬৩২ পৃষ্ঠার রায়ের বিশেষ অংশ পাঠ করেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় খালেদা জিয়া ছাড়াও অপর দুই আসামি সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল ও ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। রায়ের পর কড়া পুলিশি পাহারায় খালেদা জিয়াকে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে নাজিম উদ্দিন রোডে পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এই মামলার প্রধান আসামি। তার ছেলে তারেক রহমান ছাড়াও মামলায় অন্য আসামিরা হলেন, সাবেক এমপি কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব ড. কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমান। মামলার শুরু থেকেই তারেক রহমান, ড. কামাল সিদ্দিকী ও মমিনুর রহমান পলাতক। বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার মধ্য দিয়ে এ মামলায় নিম্ন আদালতে বিচারকাজ শেষ হয়। এদিকে খালেদা জিয়ার পরিচারিকা ফাতেমাকে তার সঙ্গে রাখার আবেদন করা হয়েছে। তবে সে বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি।

