জেনে নিন শীতে ঘরকে পরিপাটি ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা যায় কীভাবে

0
688

শীত এলেই অনেকে দরজা-জানালা বন্ধ করে নিশ্চিন্ত থাকেন। কিন্তু ঘরের এই বদ্ধ পরিবেশেই থাকতে পারে অনেক মারাত্মক জীবাণু- যা হতে পারে অ্যালার্জি এবং অন্যান্য রোগের কারণ। শীতে কীভাবে ঘরকে পরিপাটি ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা যায়। শীতে ঘরের ভেতরে যদি একই বাতাস বারে বারে ঘুরতে থাকে তবে অ্যালার্জেন ও অন্যান্য ক্ষতিকর জীবাণু ক্রমাগত সংখ্যায় বাড়তে থাকে। তখন বাইরের চেয়ে ঘরের ভেতরের বাতাস ২-৫ গুণ বেশি দূষিত হয়ে পড়ে। এ অবস্থা এড়াতে দিনে অন্তত দুই বার ঘরের দরজা-জানালা খুলে দিন।

Advertisement

সকাল ও সন্ধ্যার আগে বাইরের বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে দিন। ঘর গরম রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করুন। প্রতিদিন ঘর ঝেড়ে-মুছে সাফ রাখুন। ঘরের দেয়ালগুলোও সাফ রাখুন। প্রয়োজনে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করুন। পোষা কুকুর-বিড়াল থাকলে সপ্তাহে একদিন তাদের গোসল করিয়ে দিন। সুগন্ধিযুক্ত ও জীবাণুনাশক ফ্লোর ক্লিনার ব্যবহার করুন। ঘরে নতুন রঙ করাতে চাইলে, নতুন ফার্নিচার আনতে চাইলে অর্থাৎ নতুন করে সাজাতে চাইলে কিংবা নতুন কার্পেট বসাতে বসন্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। এই গৃহ-সামগ্রীগুলো নতুন অবস্থায় ফরমালডিহাইড বা অ্যাসিটোনের মতো ক্ষতিকর পদার্থ বাতাসে ছড়িয়ে দিতে পারে। তাই বসন্তকালে যখন পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল থাকবে তখন এই কাজগুলো করা উচিত। বিছানার চাদর, কম্বল, কাঁথা ভালো করে ডিটারজেন্ট দিয়ে ধুয়ে নিন। বাচ্চাদের ব্যবহারের জিনিসগুলো ধোয়ার সময় স্যাভলন-ডেটল জাতীয় দ্রবণ ব্যবহার করুন। নাসার এক গবেষণায় দেখা গেছে ফার্ন, অ্যালোভেরার মতো উদ্ভিদগুলো প্রাকৃতিক বায়ু-শোধনকারী হিসেবে কাজ করে। কাজেই ঘরে নিয়ে আসুন কিছুটা সবুজের সমারোহ। আপনার বাগানের গাছগুলো ছেঁটে দিন, মরা ডালপালা সংগ্রহ করে শুকনো স্থানে জড়ো করে রাখতে পারেন। ঘরোয়া পিকনিকে এগুলো কাজে লাগতে পারে। মরা পাতা সংগ্রহ করে ফেলে দিন নতুবা বাগানের মাটিতে পুঁতে ফেলুন- যা জৈব সার হিসেবে কাজ করবে। শীতকালে আবহাওয়া শুস্ক থাকে, তাই গাছে পরিমিত পানি দিন। শীতকালে দুই স্তর বিশিষ্ট পর্দা ব্যবহার করতে পারেন। প্রথম স্তরের পর্দা হবে পাতলা ও হালকা রঙের এবং দ্বিতীয় স্তরের পর্দা হবে ভারী কাপড়ের ও গাঢ় রঙের। দিনের বেলা ভারী পর্দা সরিয়ে রাখুন, যাতে সূর্যের আলো, বাতাস ঘরে প্রবেশ করতে পারে। শীতকাল আসার আগেই পর্দা ধুয়ে ফেলুন, শীতকালে ভ্যাকুয়াম ক্লিনার বা ফার্নিচার ডাস্টার দিয়ে পর্দা সাফ রাখুন। ঘরে কার্পেট থাকলে তা নিয়মিত পরিস্কার করতে হবে, ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করলে আরও ভালো হয়। কার্পেট হচ্ছে ডাস্ট অ্যালার্জির অন্যতম উৎস। অনেকে বুঝতেই পারে না যে তার ডাস্ট অ্যালার্জি আছে- ঘন ঘন সর্দি-কাশি লেগে থাকলে ডাক্তারের কাছ থেকে ভালো করে জেনে নিন। পারলে সপ্তাহে একদিন কার্পেট রোদে দিন। শীতকালে কাপড় যেন সহজে শুকাতেই চায় না! তাই কাপড় রোদে শুকিয়ে, হালকা আয়রন করে নিলে ভেজা ভেজা ভাব আর থাকবে না। শীত শেষে শীতের পোশাক অবশ্যই ধুয়ে শুকিয়ে রাখবেন। নতুবা কাপড় পোকায় কাটবে, হলদে দাগ পড়ে যাবে। সিল্ক্ক, উল, কাশ্মীরি কাপড় ড্রাই ক্লিন করবেন আর অন্য সব কাপড় ওয়াশিং মেশিনে সাবধানে ধুয়ে নেবেন। যাদের ডাস্ট অ্যালার্জি আছে তারা কম্বলে সুতির কাভার লাগিয়ে ব্যবহার করতে পারেন। প্রাকৃতিক তন্তুর শীতবস্ত্র যেমন- উল বা পশমজাতীয় কাপড় পরতে অসুবিধা হলে কৃত্রিম তন্তুর বিভিন্ন শীতবস্ত্র ব্যবহার করতে পারেন। ঘরের যেসব দেয়ালে লবন ধরে গেছে সেখান থেকে আসবাব সরিয়ে রাখতে হবে। স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া বইপত্র বা আসবাবে ফাঙ্গাশের জন্ম দিতে পারে। তাই অব্যবহূত বইপত্র, আসবাবপত্র মাঝে মাঝে অ্যান্টিসেপটিক দ্রবণ যেমন স্যাভলন, ডেটল মেশানো পানি দিয়ে মুছে দিলে ভালো থাকবে। শীতে অবশ্যই নিয়মিত গোসল করবেন। দরকার হলে গরম পানি ব্যবহার করবেন। তাহলে খুশকিসহ ত্বক ও চুলের অন্যান্য সমস্যা থেকে মুক্তি পাবেন। মেয়েরা খেয়াল রাখবেন কসমেটিকস সামগ্রীগুলো যেন শুস্ক থাকে। না হলে পাউডার বেইজড মেইক-আপ বা লিপ লাইনারে ফাঙ্গাশ জন্ম নিতে পারে। শীতের যেসব কাপড় ও জুতা আপনি আর ব্যবহার করবেন না বলে মনঃস্থির করে ফেলেছেন বা যেসব কাপড়ে দাগ পড়ে গেছে বা ছিঁড়ে গেছে, সেসব কাপড় শুধু শুধু ঘরে রেখে জায়গা নষ্ট না করে দান করে দিন। আপনি চাইলে উপযুক্ত দামে বিক্রিও করতে পারেন। শীত শেষে কৃত্রিম তন্তুর তৈরি কাপড়গুলো প্লাস্টিকের বক্সে সংরক্ষণ করতে পারেন। প্রাকৃতিক তন্তুর তৈরি কাপড়গুলো কাপড়ের ব্যাগে রাখলে ভালো করবেন, কারণ সেখানে বাতাস চলাচল করে। কাপড় সংরক্ষণে ন্যাপথলিনের পাশাপাশি আপনি চাইলে ল্যাভেন্ডার স্যাশে বা সিডার বলও ব্যবহার করতে পারেন। শীতবস্ত্রগুলো বক্স ও ব্যাগে খুব চাপাচাপি করে সংরক্ষণ করবেন না। কন্টেইনারগুলো ঘরের শুস্ক, শীতল, অন্ধকার ও পরিস্কার জায়গায় সংরক্ষণ করুন। পশমী কাপড়গুলো অত্যধিক গরমে ফেটে যায়। আলোযুক্ত স্থানে কাপড় সংরক্ষণ করলে তা বিবর্ণ হয়ে যাবে। ভ্যাপসা গরমে কাপড়ে তিলা পড়ে যাবে। ধুলো পড়ে যেন পরিস্কার কাপড়গুলো নষ্ট না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here