জনবল সংকটে বাংলাদেশ রেলওয়ে : আগামী জুনের মধ্যে নিয়োগ হচ্ছে ১৬ হাজার কর্মী

9
1976

প্রায় ৪১ হাজার কর্মীর চাহিদা থাকলেও রেলে বর্তমানে মাত্র ২৫ হাজার ৯২ জন কর্মচারী-কর্মকর্তা রয়েছেন
আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার কর্মী নিয়োগ দেয়ার চিন্তা করছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আর এসব কর্মী নিয়োগ স¤পন্ন করা গেলে রেলের সেবার মান বাড়বে। কমবে সিডিউল বিপর্যয়সহ দুর্ঘটনার সংখ্যা। আর এ লক্ষ্যে রেলওয়ে কাজ করে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে। রেলের পরিসংখ্যান বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪১ হাজার কর্মীর চাহিদা থাকলেও রেলে বর্তমানে মাত্র ২৫ হাজার ৯২ জন কর্মচারী-কর্মকর্তা রয়েছেন। এক-তৃতীয়াংশ কম কর্মী দিয়ে কোনো রকমে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে রেলওয়ে। এর ফলে যাত্রীসেবা থেকে শুরু করে রেলের রুটিং ওয়ার্কও বিঘিœত হচ্ছে। তবে কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে আছে নিয়োগসংক্রান্ত মামলা। এ বিষয়ে রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক বলেন, ২৯টি মামলার কারণে কর্মী নিয়োগ দীর্ঘদিন বন্ধ ছিল। রেলওয়ে আলাদা মন্ত্রণালয় হওয়ার পরে আমরা এসব মামলা নিস্পত্তির জন্য চেষ্টা করে যাচ্ছি। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি মামলা নিস্পত্তি হয়েছে। বাকিগুলো দ্রুত নিস্পত্তি করা সম্ভব হবে। এ জন্য সম্ভবপর দ্রুততায় মামলাগুলোর যাতে রায় হয় সে বিষয়েও চলছে দেনদরবার। তিনি বলেন, গত বছর আমরা নিয়োগ শুরু করি। ইতোমধ্যে প্রায় সাড়ে ৬ হাজার কর্মী বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়েছি। এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। নিয়োগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। এ প্রসঙ্গে রেলওয়ের মহাপরিচালক আমজাদ হোসেন বলেন, আইনি কিছু প্রক্রিয়া কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হয়েছি আমরা। আর এর পরেই নিয়োগ কর্মকান্ড শুরু হয়েছে। আশা করি, আগামী বছরের মাঝামাঝি সব নিয়োগ স¤পন্ন করা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, জনবলের অপ্রতুলতার কারণে রেলের যাত্রীসেবা বিঘিœত হচ্ছে, বিঘিœত হচ্ছে আমাদের দাপ্তরিক কর্মকান্ডও। তাই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। তিনি বলেন, রেলে প্রায় ১৬ হাজার পদ খালি রয়েছে। এর ফলে সার্বিক কর্মকাণ্ডসহ উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আশা করছি, দ্রুত নিয়োগ প্রক্রিয়া স¤পন্ন করে রেলকে আরো বেশি গতিশীল করতে পারব।
এদিকে বাংলাদেশ রেলওয়ের নিয়োগ সংক্রান্ত শাখা থেকে জানা যায়, একের পর এক মামলায় আটকে আছে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া। অন্তত ২৯টি মামলার কারণে নিয়োগ প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন যাবত বন্ধ ছিল। এর পরে প্রায় অর্ধেক মামলা জেতার পরে গত বছর ২০১৪ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করে বাংলাদেশ রেলওয়ে।
সূত্র জানায়, মামলার কারণে আটকে ছিল ৯৯ ক্যাটাগরির জনবল নিয়োগ প্রক্রিয়া। কোনোটি দুর্নীতি, কোনোটি অনিয়ম, আবার কোনোটির ফলাফল মেনে না নিয়ে মামলা করেছেন নিয়োগপ্রার্থীরা। মামলাগুলোর বেশিরভাগই হয়েছে ২০০৯ সালে প্রকাশিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিগুলোর বিপরীতে। তবে সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে কয়েকটি মামলায় রেলওয়ে জিতে যাওয়ায় ২০১৪ সালে নিয়োগ প্রক্রিয়া পুনরায় শুরু করে।
এদিকে যাত্রীসেবা প্রদানে কাক্সিক্ষত মানে পৌঁছাতে না পারার জন্য কর্মী সংকটকে দায়ী করছেন রেলসংশ্লিষ্টরা। তারা বলছেন, শতকরা প্রায় ৪০ ভাগ কম লোক দিয়ে ‘কোনো মতে’ যাত্রীসেবা দেয়া হচ্ছে। এর ফলে সিডিউল বিপর্যয় ও দুর্ঘটনা নিত্যনৈমিত্তিক বিষয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূত্র জানায়, বিভিন্ন পদে নিয়োগসংক্রান্ত মামলার মধ্যে বর্তমানে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ৪টি এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে ২১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ২০১৪ বছরের ৭ আগস্ট পর্যন্ত ৪টি মামলা ‘নি®পত্তি’ হয়, পরে আরো কয়েকটি মামলা নি®পত্তি হয়েছে। এখনো পর্যন্ত ৬ হাজারের মতো কর্মী নিয়োগ করা সম্ভব হয়েছে।
কর্মী নিয়োগ বিষয়ে রেলের পরিসংখ্যান বিভাগ থেকে জানা যায়, রেলের প্রথম শ্রেণিতে ৮৫ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০৬ জন, ৩য় শ্রেণিতে ৭ হাজার ৩১ জন এবং ৪র্থ শ্রেণিতে ৭ হাজার ৬৫০টি পদে মোট ৯৯ ক্যাটাগরিতে ১৫ হাজার ১৭২ পদ খালি রয়েছে। এর মধ্যে অফিস সহকারী কাম-টাইপিস্ট পদে ৪১২টি, স্টেনো টাইপিস্ট পদে ৫২টি, টিএনএল (ট্রাফিক) পদে ১২টি, সহকারী ম্যানেজার পদে ৯১টি, ক্যারেজ অ্যাডভান্টেস পদে ১৪৩, সহকারী লোকোমাস্টার পদে ২৩৫, গেটকিপার পদে ৪২২, ওয়েম্যান পদে ২ হাজার ৭১১, খালাসি পদে ১ হাজার ৪৪১, গার্ড (গ্রেড-২) পদে ৭৬টি, ইলেকট্রিক খালাসি পদে ১৬২ জনের ছাড়াও অনেক পদে নিয়োগ বন্ধ রয়েছে।
তবে ইতোমধ্যে খালাসি পদে ১ হাজার ৪৪১ জন কর্মী নিয়োগ স¤পন্ন হয়েছে চলতি বছরের জুলাইয়ে। এর পরে গত সেপ্টেম্বরে কয়েকটি পদে পরীক্ষা নেয়া হয় এবং কর্মীও নিয়োগ দেয়া হয়। আগামী ২-৩ দিনের মধ্যে আরো কয়েকটি পদে পরীক্ষা নেয়া হবে। এ নিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৬ হাজার কর্মী নিয়োগ প্রক্রিয়া স¤পন্ন করা সম্ভব হবে বলে রেলসূত্রে জানা গেছে।

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here