এ মাসের রোজা: ২৭, ২৮, ২৯ ডিসেম্বর; বুধ, বৃহঃ, শুক্র
বাংলাদেশে হিজরি ১৪৪৫ সালের চলমান জুমাদাল আখিরাহ মাসের দিন গণনা শুরু হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বর রোজ শুক্রবার থেকে।[1] সে হিসাবে আইয়ামে বীজের নফল রোজাগুলো রাখতে হবে আগামী ২৭, ২৮ ও ২৯ ডিসেম্বর রোজ বুধ, বৃহস্পতি ও শুক্রবার।
অর্থাৎ মঙ্গলবার দিবাগত রাতে সাহরি খেয়ে বুধবার রোজা শুরু করতে হবে। এরপর পরবর্তী দুই দিন বৃহস্পতি ও শুক্রবার রোজা রাখতে হবে।[2] রোজাগুলো রাখার জন্য আপনার ফোনে রিমাইন্ডার দিয়ে রাখতে পারেন।
আইয়ামে বীজ আরবি দু’টি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। আইয়ামে অর্থ দিবসসমূহ, আর বীজ অর্থ শুভ্র, সাদা, শ্বেত, খাঁটি, নির্ভেজাল। প্রতি চন্দ্র মাসের ১৩, ১৪ ও ১৫ তারিখকে আইয়ামে বীজ বলা হয়। অনেকগুলো সহীহ হাদীস দ্বারা এই তিন দিন রোজা রাখার জন্য উৎসাহিত করার প্রমাণ পাওয়া যায়। এ রোজাগুলো নবীজির (সা) সারা জীবনের সুন্নত।
তাই চলুন আমরা সাধ্যমত প্রত্যেকে পরিবারের সকলকে নিয়ে নফল সিয়ামগুলো পালন করি। কারণ সিয়াম এমন একটা ইবাদত যার প্রতিদান আল্লাহ নিজে দিবেন। সিয়াম পালনকারী বান্দাকে আল্লাহ এত পরিমাণ প্রতিদান দিবেন যে বান্দা আনন্দিত হয়ে যাবে। প্রতি মাসে আইয়ামে বীজের ৩টি রোজা রাখা, সারা বছর রোজা রাখার সমতুল্য।[3]
যদি এই ৩ দিন মিস হয়ে যায় তাহলে মাসের যে কোনো ৩ দিন রোজা রাখতে পারি। এতেও ইনশাআল্লাহ সারা মাস (৩০ দিন) রোজা রাখার সওয়াব হবে। কারণ প্রত্যেক নেক আমলের প্রতিদান ১০ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করে দেয়া হয়।[4]
এছাড়াও সাধ্য মত সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখতে পারি। নবীজি (সা) গুরুত্ব সহকারে এই দুই দিন সিয়াম পালন করতেন।[5] আর শীতকালের রোজা সম্পর্কে নবীজি (সা) বলেছেন এটি মুমিনের জন্য অনায়াশলব্ধ গনিমতের মালের মত। যা অনায়াশে লাভ করা যায়।[6] কারণ শীতকালে রোজা রাখায় কষ্ট কম হয়
আল্লাহ আমাদের সবাইকে বেশি বেশি নফল রোজা রাখার তাওফিক দান করুন। আমীন।
দাওয়াতের উদ্দেশ্যে পোস্টটি শেয়ার করতে পারেন। কেউ এটি দেখে নিয়মিত আমল করলে তার সওয়াবের অংশ ইনশাআল্লাহ আপনিও পাবেন।

