একটি ভুমিদস্যু চক্র কোতোয়ালী থানাধীন ব্রিকফিল্ড রোডস্থ পাথরঘাটা উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশে ২ কোটি টাকার জায়গা জবর দখলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে মর্মে অভিযোগ পাওয়া গেছে । ভূমিদস্যুদের নির্যাতন এবং অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে ভুমির মালিক মো: উমর খান ২২ জানুয়ারী প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলন করেন।তিনি লিখিত বক্তব্যে বলেন, তার মা ছালেহা খাতুন জায়গাটি ১৯৬৭ সালে তৎকালীন জায়গার মালিক আলোরাণী বিশ্বাসের নিকট থেকে বায়নামূলে খরিদ করেন। আশুতোষ দে নামের এক লোক উক্ত জায়গায় অবস্থিত গৃহে ভাড়া থাকতেন। তিনি আলো রাণী বিশ্বাসের সাথে ভাড়ানামা চুক্তি করার নামে একটি বায়নানামা দলিল সৃজন করেন। উক্ত বায়নানামা দলিল উপস্থাপন করে আশুতোষ দে ১৯৭২ সালে আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন,মামলা নং-১০/৭২। আশুতোষ দে ১৯৭৬ সালে উক্ত মামলায় একতরফা ডিক্রী পায়। এই প্রতারনার কারনে আলোরাণী বিশ্বাস তার মাকে যথা সময়ে জায়গা রেজিষ্ট্রী দিতে না পারায় তার মা ছালেহা খাতুন বাদী হয়ে ১৯৮৭ সালে ১ম সাব জজ আদালতে একটি অপর মামলা দায়ের করেন, মামলা নং-২২/৮৭। ১৯৯৫ সালে তার মা সালেহা খাতুন মামলায় ডিক্রী পেলে আশুতোষ দে এর ১০/৭২ নং মামলায় একতরফা ডিক্রীটি বাতিল হয়। আশুতোষ দে তার মায়ের প্রাপ্ত ডিক্রীর বিরুদ্ধে জজ আদালতে অপর আপীল করেন। যাহার নং-৪২৯/৯৫। উক্ত আপীলে ১৯৯৮ সালে আশুতোষ দে আংশিক ডিক্রী পায়। উক্ত ডিক্রীর বিরুদ্ধে তার মা ছালেহা খাতুন ১৯৯৯ সালে মহামান্য হাইকোর্টে সিভিল রিভিশন যার নং-২৬৫০/৯৯ দায়ের করেন। উক্ত সিভিল রিভিশনে ২০১২ সালে তার মা সালেহা খাতুনের পক্ষে মহামান্য হাইকোর্ট ডিক্রী প্রদান করেন। হাইকোর্টের উক্ত রায়ের বিরুদ্ধে আশুতোষ দে এর ছেলে সুজন কুমার দে গং মহামন্য সুপ্রীম কোর্টে আপিল করেন ।
উক্ত আপীল বর্তমানে বিচারাধীন আছে। সুজন কুমার দে গং আপীলে হেরে যাবে বুঝতে পেরে ভুমিদস্যু টিপু জলদাশ গোপাল, কুমকুম, সুজাদয় এবং কিরন দাশ কে দিয়ে তাদের জায়গাটি জবর দখল করার উদ্দেশ্যে বারবার হামলা করে যাচ্ছেন। গত ২৮, ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ভাড়াটিয়াদেরকে মারধর করে বেদখল করার চেষ্টা করে। উক্ত ঘটনায় তার ভাই মোঃ হোসেন খান ২৮ ডিসেম্বর কোতোয়ালী থানায় একটি সাধারন ডায়েরী করেন। ৩১ ডিসেম্বর আদালতে একটি মিছ মামলাও দায়ের করেন যার নং-২৩৩৯/১৭। ভুমিদস্যু চক্রের চক্রান্ত থেকে বাঁচার জন্য তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

