গোপালগঞ্জ পৌরচেয়ারম্যানের ধৃষ্টতা আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা সংখ্যালঘু উপর নির্যাতন বন্ধে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

0
504

শিব শংকর অধিকারীর পিতা ছিলেন ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ অধিকারী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাল্য বন্ধু এবং তিনি নিজেও একজন দক্ষ ফুটবল খেলোয়ার ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্ম জীবনীতে বিবৃত ১৯৩৭ সালে ফুটবল প্রতিযোগীতায় স্বর্গীয় ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ অধিকারী রেফারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুধু একজন দক্ষ ডাক্তার ও ক্রীড়া সংগঠকই ছিলেন।

Advertisement

এজাজ রহমান: মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ধর্ম নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়ীক বাংলাদেশে কোন প্রকার সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বরদাস্ত করা হবে না। তার এই উক্তিকে উপেক্ষা করে এক শ্রেণী অর্থ ও ভূমি লোভী এখনও নির্যাতন চালিয়ে যাচ্ছেন এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে গোপালগঞ্জে। গোপালগঞ্জ পৌরচেয়ারম্যানের ধৃষ্টতা আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা সংখ্যালঘু নির্যাতন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন শিব শংকর অধিকারী ৭৩ বছর বয়ষ্ক একজন সংখ্যালঘু নাগরিক। যিনি তৎকালিন ফরিদপুরে গোপালগঞ্জ মহাকুমায় জন্মগ্রহণকারী একজন কৃতি ফুটবলার ও ফুটবল ক্রিড়া সংগঠক। শিব শংকর অধিকারীর পিতা স্বর্গীয় ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ অধিকারী তৎকালীন ফরিদপুর অঞ্চলের একজন সুনামধন্য চিকিৎসক ছিলেন। শুধু তাই নয় ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ অধিকারী ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাল্য বন্ধু এবং তিনি নিজেও ছিলেন একজন দক্ষ ফুটবল খেলোয়ার। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের অসমাপ্ত আত্ম জীবনীতে বিবৃত ১৯৩৭ সালে ফুটবল প্রতিযোগীতায় স্বর্গীয় ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ অধিকারী রেফারী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শুধু একজন দক্ষ ডাক্তার ও ক্রীড়া সংগঠকই ছিলেন না। পাশাপাশি তিনি ছিলেন একজন সাংস্কৃতিমনা মানুষ। যার দরুন দেশ বিভাগের পর ৬০ এর দশকের তৎকালীন গোপালগঞ্জ মহাকুমার সদরে তার নিজস্ব ২৩ শতাংশ জমির উপরে নিজ উদ্যোগে তৎকালিন গোপালগঞ্জ মহাকুমায় সর্বপ্রথম তৃপ্তি ছিনেমা হল নামে একটি প্রেক্ষাগৃহ প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৬২ সালের গোপাল কৃষ্ণ অধিকারীর মৃত্যুর পর তার পুত্র শিব শংকর অধিকারী উল্লেখিত তৃপ্তি সিনেমা হলের যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে ১৯৬৫ সালে পাক-ভারত যুদ্ধের সংকট কালিন সময় উল্লেখিত তৃপ্তি সিনেমা হল বন্ধ হয়ে যায়। যার দরুন সিনেমা হলটি এলাকাবাসী বিভিন্ন রকম সামাজিক আচার অনুষ্ঠান পালনে ব্যবহার করতে থাকেন। কালক্রমে উল্লেখিত সিনেমা হলটি লোকমুখে পাবলিক হল নামে পরিচিত হতে থাকে। পৈত্রিক সূত্রে উল্লেখিত তৃপ্তি সিনেমা হলের মালিকানা প্রাপ্ত হয়ে স্বর্গীয় ডাঃ গোপাল কৃষ্ণ অধিকারীর একমাত্র জীবীত পুত্র শিব শংকর অধিকারী স্বপরিবারে প্রায় ২ যুগ ধরে বসবান করে আসছেন। কিন্তু বিপত্তি বাধে ২০১২ সালে যখন সরকার ৬ আগষ্ট ২০১২ সালে প্রকাশিত প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উল্লেখিত তৃপ্তি সিনেমা হলকে অর্পিত সম্পত্তি হিসাবে ঘোষনা করেন। পরবর্তীতে শিব শংকত অধিকারী বাদী হয়ে উক্ত সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির কলাম ভিত্তির বিরুদ্ধে অর্পিত সম্পত্তির প্রত্যবর্তন ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন। ইতমধ্যে সরকার পরবর্তী গেজেট প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পূর্ববর্তী অর্পিত সম্পত্তি সম্পর্কিত গেজেট বাতিল করেন। ফলশ্রুতিতে উক্ত সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তি কলাম থেকে অবমুক্ত হয়। ইতমধ্যে সুযোগ বুঝে গোপালগঞ্জ পৌরসভার তৎকলিন মেয়র ২১/০৫/২০১৪ তারিখে শিব শংকর অধিকারী বরারব চিঠি প্রেরনের মাধ্যমে তাকে উক্ত তৃপ্তি সিনেমা হল ত্যাগের নির্দেশ দেন। উক্ত বেআইনি নির্দেশনার বিরুদ্ধে শিব শংকর অধিকারী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর সহকারী জজ আদালতে চিরস্থায়ী নিশেধাজ্ঞার মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে গোপালগঞ্জ পৌরসভার তৎকালিন মেয়রের মৌখিক আশ্বাসের ভিত্তিতে তিনি মামলা তুলেনেন। মামলা প্রত্যাহারের পর গোপালগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু পুনঃরায় শিব শংকর অধিকারীকে বাস্তুচ্যুত করার জন্য উঠে পরে লাগেন। সর্বশেষ বেআইনি ভাবে ২১-১১-২০১৮ তারিখে গোপালগঞ্জের একটি আঞ্চলিক দৈনিক পত্রিকায় নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের মাধ্যমে উক্ত পাবলিক হল ভবন(পুরাতন তৃপ্তি সিনেমা হল) ভাংগার জন্য দরপত্র আহব্বান করেন। পরবর্তীতে কোন রকম নিয়ম নিতির তোয়াক্কা না করে মেয়র তার পরিচিত জনৈক আলামিনকে দিয়ে উক্ত ভবন ভাংগার কার্যাদেস প্রদান করেন। ইতোমধ্যে নিলাম বিজ্ঞপ্তি ও কার্যাদেশ প্রদানে আইনগত বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে শিব শংকর অধিকারী হাইকোর্ট বিভাগের একটি রিট পিটিশন দায়ের করেন। যার নম্বর ১২৪০/২০১৯। বিগত ০৫/০২/২০১৯ তারিখে উক্ত রিট দরখস্তের প্রাথমিক শুনানী শেষে বিচার পতি এফ,আর,এম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কে,এম কামরুল কাদের মহোদয়ের সমন্বয়ে গঠিত দৈত্ত বেঞ্চ উক্ত নিলাম বিজ্ঞপ্তি এবং কার্যাদেশ কেন অবৈধ ঘোষনা করা হবে না এই মর্মে রুল জারী করেন। সাথে সাথে একই তারিখের আদেশের মাধ্যমে হাইকোর্টের উল্লেখিত দৈত বেঞ্চ উক্ত সম্পত্তির উপর স্থৃতিতাবস্থায় আদেশ জারী করেন। উল্লেখিত রিট মকোদ্দমায় সরকারের সাথে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও গোপালগঞ্জ পৌসভার মেয়র কে বিবাদী করা হয়। পরবর্তীতে হাই কোর্ট এর আদেশের কপি গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসন বিগত ১৮/০২/২০১৯ তারিখে এবং গোপালগঞ্জ পৌরসভার মেয়র ১৯/০২/২০১৯ তারিখে গ্রহণ করেন। তথাপীয় অদ্যবধি উক্ত জেলা প্রশাসক,উক্ত পৌর মেয়র শিব শংকর অধিকারীর দখল আনাধীন পাবলিক হল (তৎকালিন তৃপ্তি সিনেমা হল) যেখানে তিনি বসবান করেন উহা ভেঙ্গে ফেলেছেন। এবিষয় গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পৌর মেয়রের কাছে বার বার যোগা যোগ করা সত্তেও তারা কোন রকম মন্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকেন। অন্যদিকে ভবনটিতে বসবাস রত শিব শংকর অধিকারী জানান ও তিনি গোপালগঞ্জ পৌরসভার বর্তমান মেয়র কাজী লিয়াকত আলি লেকুর লালসার স্বীকার। সুষ্পষ্ট আদালতের আদেশ প্রাপ্তির পরেও সম্পূর্ণ বেআইনি ভাবে তার ভবন ভেঙ্গে চলছেন। মেয়রের উক্ত বেআইনী কার্যকলাপ বন্ধ না করলে তিনি দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হবেন। কারন উক্ত বসত বাড়ি ছাড়া তার মাথা গোজার আর কোন ঠাই নেই। এ বিষয়ে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here