গৃহবধুর লাশ লেগুনাতে ফেলে রেখে পালিয়ে গেলেন ইউপি সদস্য ও গৃহবধুর স্বামী!

0
892

সুনামগঞ্জ সংবাদদাতা
সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে এক গৃহবধুর লাশ লেগুনাতেই রেখেই পালিয়ে গেল স্বামী ও তাদেও আশ্রয়দাতা সহ  পরিবারের লোকজন। নিহত গৃহবধুর নাম শাপলা বেগম (২৭)। তিনি উপজেলা সদর ইউনিয়নের বীরনগরের গ্রামের  মশ্রব আরীর ছেলে সমছুন্নুুর মিয়ার স্ত্রী।  শাপলা একই উপজেলার বাদাঘাট উওর ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের আবদুল হেকিমের মেয়ে। এ খবর পেয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে পুলিশ তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের ঘটনাস্থলে পৌছে নিহত গৃহবধুর লাশ পুলিশী হেফাজতে নিয়েছেন।  ঘটনাস্থল পরির্দনে গেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. বরকতুল্লাহ খাঁন  সহ জেলা পুলিশের দায়িত্বশীল একাধিক অফিসার। এ ঘটনায় গোটা উপজেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।’
জানা গেছে, উপজেলার বীরনগর গ্রামের সমছুন্নুরের সাথে শাপলার মাস কয়েক পুর্বে রাজধানী ঢাকায় থাকা অবস্থায় বিয়ে হয়। বিয়ের পর স্ক্রীকে বাড়ি নিয়ে আসলে স্বামীর পরিবারের লোকজন ওই নববধুবে তাড়িয়ে দেন। এক পর্যায়ে  দিন পনোরো পুর্বে পাশর্^বর্তী জয়নগর গ্রামের মৃত আবুদুল হান্নানের ছেলে খোকন মিয়া তার বসত ঘরের লাগোয়া একটি ঘরে আশ্রয় দেন সমছুন্নুর ও তার স্ত্রী শাপলাকে।
এদিকে শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে শাপলা বেগম পারিবারীক কলহের জের ধরে বিষ পান করলে খোকন ও তার পরিবারের লোকজন শাপলাকে নদীর ওপারে বীরনগরে সমছুন্নুরের বাড়িতে নিয়ে যায়। এক পর্যায়ে অবস্থার অবনতি দেখে  সদর ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া, স্বামী সমছুন্নুর, তার সহোদর তারা মিয়া, আশিকনুর ও আশ্রয়দাতা খোকন সহ তাদের পরিবারের লোকজন চিকিৎসার জন্য জেলা সদরে নিয়ে যাবার পথে বীরনগর গ্রামের ব্রিজের কাছে আসার পর শাপলা শুক্রবার প্রায় পৌনে ১১ টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন। এরপর তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের বীরনগরব্রীজের পুর্ব পাড়ে লেগুনাতে শাপলার লাশ ফেলে রেখে ইউপি সদস্য বাবুল , স্বামী সমছুন্নুর সহ সবাই দ্রুত পালিয়ে যান।
এ ব্যাপারে আশ্রয় দাতা খোকনের মুঠোফোনে শুক্রবার দুপুরে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ঘরে রাখা বিষপান করেছিলো শাপলা বেগম, এরপর আমি আমাদেও আরেক প্রদিতবেশীর সহযোগীতায় শাপলাকে তার স্বামীর বাড়িতে নিয়ে যাই, অবস্থার কোন উন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ নিয়ে যাবার পথে সে মারা যায়। কী কারনে শাপলা বেগম বিষপান করেছেন এমন প্রশ্নের উওরে খোকন বললেন, তিন দিন পুর্বে তারা স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হয়েছিলো, এরপর সমছুন্নুর বাড়িতে না আসায় হয়ত অভিমানে বিষ পান করতে পারেন শাপলা। লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে আসার অভিযোগ প্রসঙ্গ তিনি এড়িয়ে গিয়ে বললেন, আমি শাপলাকে তার স্বামীর বাড়িতে পেছৈ দিয়েই চলে এসেছি এর কী হয়েছে তা আমি জানিনা।
তাহিরপুর থানার ওসি শ্রী নন্দন কান্তি ধর শুক্রবার দুপুরে যুগান্তরকে  এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, সময়মতো ওই গৃহবধুকে চিকিৎসার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে হয়ত সুস্থ্য হয়ে উঠত কিন্তু বিলম্বে সুনামগঞ্জ সদরে নেয়ার উদ্যোগ ও লাশ ফেলে রেখে পালিয়ে যাবার ঘটনাটি রহস্যজনক বলেই আপাতত ধারণা পোষন করছি

Advertisement
Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here