মিনহাজ মাহমুদ: গাজীপুর চৌরাস্তায় পুলিশের নির্দেশে স্বামী ও স্ত্রীর উপর সন্ত্রাসী হামলা স্বর্ণালংকার ও নগদ ৫০ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিগত ৩০ এপ্রিল ২০২৪ রাত ৯.৪৫ ঘটিকার সময় রিংকু নামের এক ব্যবসায়ী গাজীপুরে মেট্টোপলিটনের বাসন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয় রিংকু তিল একটি ড্রাম ট্রাক বিক্রি করেন স্থানীয় জয়নাল আবেদীনের কাছে।তার। মূল্য ৫ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়। জয়নাল আবেদীন রিংকুকে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকার চেক প্রদান করে। রিংকু চেক নিয়ে ব্যাংকে টাকা তুলতে গিয়ে জানতে পারে উক্ত একাউন্টে কোনো টাকা নেই। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে জয়নালের সাথে রিংকুর কথা কাটাকাটি হয়। জয়নাল তিন/চারজন লোক নিয়ে ২৭ এপ্রিল হুমকি প্রদান করে এবং প্রাণনাসের হুমকি দেয়। বিষয়টি নিয়ে রিংকু বিগত ৩০/০৪/২০২৪ই তারিখের বাসন থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগটি তদন্ত করার জন্য এসব আই সাইফুলকে দায়িত্ব দেয়া হয়। এস আই সাইফুলের কাছ থেকে কনষ্টেবল সাইফুল অভিযোগটি নিয়ে সন্ধ্যা আনুমানিক ৯.৪৫ ঘটিকার সময় উভয় পক্ষকে একস্থানে ডাকে। আসামী পক্ষ কনষ্টেবল সাইফুলের নির্দেশে এলোপাথাড়ি কিল ঘুষি মারতে মারতে রিংকু ও তার স্ত্রী নিপাকে মাটিতে ফেলে দেয়। কনষ্টেবল সাইফুল আসামিদের নির্দেশ দেয় আরো বেশি মারার জন্য।
সাইফুল নিপার গলায় থাকা ১২ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিঁড়ে নেয় যার বাজার মূল্য ৭৫ হাজার টাকা। রিংকুর পকেটে থাকা ৫০ হাজার টাকা, একটি রেডমি টাচ মোবাইল, ড্রাইভিং লাইসেন্স, এনআইডি ও বিদেশি হাত ঘড়ি নিয়ে যায়। রিংকু বলেন, কনষ্টেবল সাইফুলের উপস্থিতিতে জয়নাল সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার উপর ও আমার স্ত্রীর উপর হামলা করে আমাকে আমার স্ত্রীকে গুরুতর আহত করে। সন্ত্রাসী জয়নাল প্রায় দশ বার জন নিয়ে হামলা করলে পুলিশ কোনো প্রকার বাদা দেয়নি।
পরবর্তীতে রিংকু হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে বর্তমানে অসুস্থ অবস্থায় বাসায় আছেন। এ ব্যাপারে রিংকু বলেন, আমরা পুলিশের কাছে সহযোগিতা চাইতে গিয়েছি আর পুলিশ আমাকে ও আমার স্ত্রীকে সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে মার খাওয়ালো। বিচার আমরা কার কাছে পাব। রিংকুর স্ত্রী নিপা বলেন, পুলিশ সন্ত্রাসীদের লেলিয়ে দিয়ে বলে এই মহিলা খারাপ এই মহিলাকে পারতাছে ভালো হয়েছে।
নিপা আরও বলেন, কনেষ্টেবল সাইফুল আমার গলা থেকে ১৪ আনা ওজনের স্বর্ণের চেইন গলা থেকে ছিঁড়ে নিয়ে যায় বলে অভিযোগ তোলেন। এব্যাপারে অভিযুক্ত জয়নাল বলেন, আমাদের মধ্যকার সমস্যা সমাধান করার জন্য কনেষ্টেবল সাইফুল উভয় পক্ষকে ডাকেন। আমরা উভয় পক্ষ হাজির হলে রিংকুর স্ত্রী নিপা আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে।
আমি প্রতিবাদ করলে রিংকু আমার উপর চড়াও হলে আমাদের মধ্যে হাতাহাতি হয় মাত্র। পুলিশের নির্দেশে নিপাকে পেটাতে পেটাতে মাটিতে ফেলে দেওয়ার ভিডিও ফুটেজ আমাদের হাতে আছে এই প্রশ্নের জবাবে বলেন, ভিডিও কে করল তাতো আমি জানিনা। কনেষ্টেবল সাইফুলকে উক্ত বিষয়ে জানতে চেয়ে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উভয় পক্ষকে নিয়ে আমি সমঝোতার জন্য গাজীপুর চৌরাস্তায় বসেছিলাম তখন উভয় পক্ষ উক্তেজিত হয়ে মারামারি করে।
আপনাকে কি কোনো অভিযোগের তদন্ত করতে ওসি সাহেব দায়িত্ব দিয়েছেন ? এমন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, এস আই সাইফুল সাহেব অভিযোগটি তদন্ত করার দায়িত্ব ছিলেন কিন্তু আমি প্রাথমিক খোঁজ খবর নেয়ার জন্য উভয় পক্ষকে ডেকেছি কিন্তু উভয় পক্ষ মুখোমুখি হয়ে গন্ডগোল করে। আপনার নির্দেশে সন্ত্রাসীরা রিংকুর স্ত্রী নিপার উপর হামলা করে মারতে মারতে মাটিতে ফেলে দেয়।
যা আমাদের কাছে ফুটেজে আছে। পুরো পুরি চুপসে জান। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসআই সাইফুলকে উক্ত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ঘটনাস্থলে আমি যাইনি ওখানে কনেষ্টেবল সাইফুল গিয়েছিল। মারামারির ঘটনা আমি শুনেছি। দু একদিনের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষকে সাথে নিয়ে আলোচনায় বসব।
ভুক্তভোগী রিংকু প্রশাসনের প্রতি আকুল আবেদন করে বলেন উক্ত নেক্কারজনক ঘটনার বিভাগীয় তদন্ত পূর্বক দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবি জানান।

