গাজীপুরের অজ্ঞান পার্টির মূল হোতা নেত্রকোণার জিয়া ছাড় দেয়নি ঘনিষ্ট বন্ধুকেও

0
534

মো: দোলোয়ার হোসেন: ঢাকা ময়মনসিংহ রোডে প্রায়ই অজ্ঞান পার্টির কবলে পড়ে প্রায়ই অচেতন অবস্থায় রাস্তায় পড়ে থাকে দেখা যায়। এরপর সমাজের সচেতন মানুষের সহযোগিতায় অচেতন মানুষটি নিজ ঠিকানা খুঁেজ পায় এবং চিকিৎসার মাধ্যমে চেতনা ফিরে আসে। সেই অজ্ঞান পার্টির কবলে কারো জীবন প্রদিপ চিরদিনের জন্য নিভে যায়। তথ্যানুসন্থানে জানা যায় নেত্রকোণা মদন উপজেলার ভরাটি গ্রামের ডাঃ সুলতান উদ্দিনের ছেলে মোঃ জিয়া তার দুই বন্ধু মদন উপজেলার কাতলা গ্রামে জুয়েল ও ইছহাক মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে গাজীপুর জেলার ইয়াবা ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি চেতনা নাশক ঔষধের মাধ্যমে মানুষকে অজ্ঞান করে টাকা পয়সা লুটে নিচ্ছে। নেত্রকোণা এবং গাজীপুর দুই জেলাতেই জিয়ার বসবাস। গাজীপুর গাছা থানার ভূষির মিল এলাকায় ২য় স্ত্রীকে নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকে। গাজীপুরের নিজেকে ডিবি পুলিশ আবার কখনও পুলিশের সোর্স বলে পরিচয় দেয়। নিজ এলাকা নেত্রকোণায় প্রতারণার মহা সম্রাট বলে পরিচিত জেলখাটা আসামী জিয়া। নেত্রকোণা মদনের সোহাগ নামে একব্যাক্তি অপরাধ বিচিত্রাকে জানায় “আমি ইসহাকের পিতার নিকট হইতে ৫০শতাংশ জমি বন্ধক রাখি ১,৫০,০০০/- টাকার বিনিময়ে। সেই জমি ১বৎসর জমির মালিক নিজেই চাষ করে অর্ধেক ফসল আমাকে দেয়। পরের বৎসর বন্ধকের টাকা ফেরৎ না দিয়ে অন্য লোকের নিকট পুনরায় বন্ধক রেখে তাদের পরিবার গাজীপুর সালনায় চলে আসে।

Advertisement

সালনা কাজী বাড়িতে ইসহাকের চাচাত ভাই জুয়েলের নিকট এসে আশ্রয় নেয়। জমির দখল এবং বন্ধকের টাকা ফেরত না পেয়ে ইসহাক এবং তার বাবা গিয়াস উদ্দিনের খোজে আমি গাজীপুর চলে আসি। গাজীপুর এসে আমার স্কুল জীবনের বন্ধু জিয়ার সঙ্গে দেখা হয় এবং তার  কাছে সব খুলে বলি।

আমি জানতে পারি জিয়ার সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ট সম্পর্ক এবং জুয়েলের সঙ্গে জিয়ার যৌথ ব্যবসা আছে। সেই সুবাধে জিয়াকে নিয়ে তাদের বাসায় গেলে বন্ধকি টাকা ফেরত দিবে না বলে জানায়। ইসহাকের বাবা গিয়াস উদ্দিন হাতে টাকা নেই বলে ০২মাস সময় চেয়ে নেয়। সেই থেকে জিয়া আমাকে গাজীপুর এসে ব্যবসার পরামর্শ দেয়।

জিয়া বলে, তাদের নিকট হতে ১,৫০,০০০/- টাকা আসবে এবং বাড়ি থেকে আরও ৩,৫০,০০০/- টাকা নিয়ে আসলে মোট ৫,০০,০০০/- টাকা পুজি নিয়ে ভাল ব্যবসা করা যাবে। সেই ব্যবসায় অনেক লাভ হবে। সেই লাভের টাকায় গাজীপুর বাড়ি গাড়ি করতে পারবে। জিয়ার পরামর্শে রাজি হয়ে দুই মাস পর আমি টাকা নিয়ে গাজীপুর আসি।

এখানে আসার পর সে আমাকে ব্যবসার নির্দেশণা দেয়। দুইদিন পর আমাকে নিয়ে গাজীপুর সালনায় আসে বন্ধকি জমির টাকা উদ্ধারের জন্য। এরপর জুয়েল এবং ইসহাককে ফোন দিলে আমাদের সঙ্গে দেখা করতে চলে আসে। এরপর চারজন মিলে একটি চায়ের দোকানে চা খেতে বসি। সেই থেকে ৭দিন পৃথিবীর কোন কিছুই আর বলতে পারবো না।

৭দিন পর স্বজনদের মুখ থেকে শুনতে পাই সেই দিন সন্ধ্যার পর সালনা চেয়ারম্যান বাড়ির পতিত জায়গায় কয়েকজন লোক আমাকে অজ্ঞান অবস্থায় দেখতে পায়। তারা আমার নিকট হইতে মোবাইল নিয়ে স্বজনদের নিকট ফোন দিলে আমাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করান।

তারপর আমি জ্ঞান ফিরে পাই এবং বুঝতে পারি ওরা ৩জন যুক্তি করেই চেতনা নাশক ঔষধ সেবন করিয়ে আমার সাথে থাকা ২,৭০,০০০/- টাকা ছিনিয়ে নিয়ে য়ায়।

এরপর জিয়ার মোবাইল নাম্বারে ফোন দিয়ে আমার অজ্ঞান হওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে সে কিছুই বলতে পারবে না বলে জানায়। আমি তাকে দোষারোপ করলে সে আমাকে নানান ভয় ভিতি দেখায় এমনকি খুন করার হুমকি দেয়।

Advertisement

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here